
ঈদুল আজহা উপলক্ষে দুস্থদের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার দলগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) বরাদ্দ করা ১০ কেজি চালের পরিবর্তে একাধিক উপকারভোগীকে মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকা করে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেলে দলগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এসে চালের বদলে সামান্য টাকা পেয়ে চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন কার্ডধারীরা। এমনকি অনেক অসহায় মানুষকে বাড়ি ফেরার পথে কান্নায় ভেঙে পড়তেও দেখা গেছে।
এদিকে ওই ইউনিয়নের মহিলা ইউপি সদস্য শোভা রানীর বিরুদ্ধে ভোটার আইডি কার্ড জমা নিয়ে চাল না দেয়ার অভিযোগ ও উঠেছে।
২ নং ওয়ার্ডের জামবাড়ি এলাকার রনজিৎ রায় বলেন, আমার আইডি কার্ড নিয়েছে কিন্তু চালের স্লিপ দেয়নি। মিন্টু মিয়া বলেন, বাড়ি থেকে ডেকে আইডি কার্ড নিলো। আজ চাল বিতরণ কেন্দ্র এসে দেখি আমার স্লিপও নাই, চালও পাইলাম না।
এদিকে শোভারানীর দাবি, সঠিকভাবে চালের স্লিপ বিতরণ করা হয়েছে। কোন অনিয়ম হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে দলগ্রাম ইউনিয়নের অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণের কথা ছিল। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদে চাল নিতে আসা উপকারভোগীদের হাতে চালের পরিবর্তে মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকা করে ধরিয়ে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীরা জানায়, বর্তমান বাজারে ৩০০ টাকা দিয়ে পাঁচ-ছয় কেজি চালও কেনা সম্ভব নয়, যেখানে তাঁদের সরকারিভাবে ১০ কেজি চাল পাওয়ার কথা ছিল।
কার্ডধারী আমজাদ ও বিরেদ্রনাথ বলেন, ‘বাড়ি থেকে পাঁচ কিলোমিটার রাস্তা হাঁটি ও ৪০ টাকা ভ্যানভাড়া দিয়া মোট ৮০ টাকা খরচ করি চাল নিতে (আসনো) আসছিলাম। চালের বদলে আমাদের ৩০০ টাকা দেওয়া হইলো। এই সামান্য টাকা দিয়া ঈদের দিনে আমরা কী করব? চালটা পাইলে অন্তত পরিবার নিয়া ঠিকমতো খাইতে পারতাম।’
অনেকে অভিযোগ করেন, চাল না পেয়ে চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের কাছে কাকুতি-মিনতি করেও কোনো লাভ হয়নি। যাওয়ার সময় অনেক বয়োবৃদ্ধ নারী-পুরুষ ক্ষোভে, দুঃখে কেঁদে ফেলেন।
দলগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘চাল কম পড়ায় আমি নিজের থেকে টাকা দিয়ে দিয়েছি, যাতে কেউ খালি হাতে ফিরে না যায়।’ তবে সরকারি বরাদ্দের চাল কেন ও কীভাবে কম পড়ল কিংবা সরকারি চালের বদলে নিজের তহবিল থেকে নগদ টাকা বিতরণের নিয়ম আছে কি না—এসব প্রশ্নের কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।
এদিকে সরকারি ভিজিএফের চাল বিতরণে এমন অনিয়মের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, সরকারি গোডাউন থেকে যদি পুরো চাল ছাড় করা হয়ে থাকে, তবে ইউনিয়ন পরিষদে এসে চাল কম পড়ল কেন। কারা এর পেছনে রয়েছে, তাদের খুঁজে বের করে শাস্তি দেওয়ার দাবিও উঠেছে।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামিমা আক্তার জাহান বলেন, ‘এমনটা হওয়ার কথা নয়! এরকম কোন নিয়ম নেই। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।
বিবার্তা/হাসানুজ্জামান/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]