
বেইজিংয়ে নিজের রাষ্ট্রীয় সফর শেষ করার অংশ হিসেবে চূড়ান্ত দফার আলোচনায় চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে শুক্রবার (১৫ মে) সাক্ষাৎ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। বিবিসি জানায়, চীনা নেতৃত্বের ‘গোপনীয় কেন্দ্র’ ঝংনানহাইতে বৈঠক করছেন দুই নেতা।
হোয়াইট হাউসের পুল রিপোর্ট অনুযায়ী, কমপ্লেক্সটিতে কেবল অল্প সংখ্যক সাংবাদিককে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। খবর বিবিসি’র।
দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এই প্রথম চীন সফর করছেন ট্রাম্প। বুধবার (১৩ মে) রাতে বেইজিং পৌঁছালে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয়।
এর আগে ২০১৭ সালের নভেম্বরে তিনি তার প্রথম মেয়াদেও বেইজিং ঘুরে যান এবং তার ওই সফরের পর মার্কিন কোনো প্রেসিডেন্ট আর দেশটিতে যাননি।
গত বছর ট্রাম্প আরোপিত শুল্ককে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে নতুন করে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরুর পরিস্থিতি তৈরি হয়ে যায়। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই সফরের দিকে নজর বিশ্বের। এছাড়া ইরানকে প্রভাবিত করতে চীনের ভূমিকা দেখতে চাইতে পারে যুক্তরাষ্ট্র– এমন আলোচনাও রয়েছে।
সব মিলিয়ে চীনে ট্রাম্পের দুই দিনের এই সফর এবার নানা কারণে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। খবর বিবিসি’র।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক শুরুর আগে উদ্বোধনী বক্তব্যে শি জিনপিং বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ‘প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার’ হওয়া উচিত এবং ‘পুরো বিশ্বই তা দেখছে’।
ট্রাম্প ও শি’র মধ্যে পরে দুই ঘণ্টা ধরে বৈঠক চলে, যা নির্ধারিত সময়ের দ্বিগুণ। আলোচনা কেমন হয়েছে, সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প শুধু এক শব্দে বলেছেন- ‘চমৎকার’।
স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে ট্রাম্প বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে পৌঁছালে তাকে জাঁকজমকপূর্ণ অভ্যর্থনা দেয়া হয়। বড় একটি সামরিক দল গার্ড অব অনার দিয়ে এবং ডজনখানেক শিশু পতাকা নাড়িয়ে তাকে স্বাগত জানায়।
লাল গালিচায় করমর্দনের সময় দুই নেতার মধ্যে আন্তরিক পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়। পরে তাদের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলে যা প্রত্যাশার চেয়ে দীর্ঘ। এরপর দুই প্রেসিডেন্ট টেম্পল অব হেভেন পরিদর্শন করেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের নেতাদের মধ্যে কী আলোচনা হয়েছে, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি।
তবে বৈঠকের আগেই ট্রাম্পকে সতর্ক করে শি জিনপিং বলেছেন, তাইওয়ানের বিষয়টি দুই দেশকে সংঘাতে জড়িয়ে ফেলতে পারে। তিনি স্বশাসিত এই দ্বীপটিতে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি বিলম্বিত বা হ্রাস করার জন্য চাপ দিচ্ছেন, যেটিকে বেইজিং দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের বলে দাবি করে আসছে।
অন্যদিকে ট্রাম্প ৩০টি প্রধান প্রযুক্তি সংস্থার প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে নিয়ে বেইজিংয়ে গেছেন এই আশায় যে, চীন আরও মার্কিন সংস্থার জন্য তার দরজা খুলে দেবে।
ট্রাম্পের সঙ্গে এই সফরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবং প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিত্ব; যাদের মধ্যে টেসলার ইলন মাস্ক ও এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং রয়েছেন।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]