
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির মধ্যেও লেবানন ইস্যুতে ফের নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলের অব্যাহত হামলায় শতাধিক মানুষের প্রাণহানির পর এবার সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইসরায়েলকে কূটনীতি নস্যাৎ করতে দিলে সেটি হবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘বোকামি’।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, ইসরায়েলকে লেবাননে হামলা চালিয়ে আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি ভেস্তে দিতে দিলে তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘বোকামি’ হবে বলে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মন্তব্য করেছেন। মূলত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে লেবাননে ইসরায়েলের তীব্র হামলায় শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার আরাগচি বলেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দুর্নীতির বিচার আগামী রবিবার আবার শুরু হচ্ছে। তার মতে, এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পেছনে নেতানিয়াহুর অন্য উদ্দেশ্য থাকতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘লেবাননসহ আঞ্চলিক পর্যায়ে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে দ্রুতই তার (নেতানিয়াহু) কারাবরণ ত্বরান্বিত হবে।’
এরপর যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ‘যদি যুক্তরাষ্ট্র চায়, নেতানিয়াহুকে কূটনীতি ধ্বংস করতে দিয়ে নিজেদের অর্থনীতি বিপর্যস্ত করুক— তা তাদেরই সিদ্ধান্ত। আমরা মনে করি এটি বোকামি, তবে আমরা এর জন্য প্রস্তুত আছি।’
আরাগচির এই বক্তব্যের ভাষান সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের বক্তব্যের অনেকটা মিল রয়েছে। ভ্যান্স গত বুধবার বলেছিলেন, লেবানন ইস্যুতে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যেতে দেয়া ইরানিদের জন্য ‘বোকামি’ হবে, তবে সেটি তাদের সিদ্ধান্ত।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকেই এটি লেবাননের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য কি না— এই প্রশ্ন বড় একটি সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে এবং সেটিই এখন যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যতের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। ইরানি কর্মকর্তারা এবং দেশটির গণমাধ্যম ইঙ্গিত দিয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলের হামলার জবাবে তেহরান সামরিক প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে অথবা যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে।
বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেন, তিনি ইসরায়েল সরকারকে লেবাননে তাদের সামরিক অভিযান কমাতে বলেছেন। এনবিসি নিউজকে তিনি বলেন, ‘আমি বিবি (নেতানিয়াহু)-এর সঙ্গে কথা বলেছি, সে কিছুটা কমাবে। আমার মনে হয়, আমাদের একটু শান্ত থাকতে হবে’।
ভ্যান্সও বুধবার বলেন, ইসরায়েল লেবাননে ‘কিছুটা সংযত থাকার’ ব্যাপারে সম্মত হয়েছে।
তবে লেবাননের সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী দিনগুলোর একটির পরও ইসরায়েলের হামলা কমার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সাম্প্রতিক হামলায় নিহতের সংখ্যা ইতোমধ্যে ৩০০ ছাড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার লেবাননে নতুন করে একাধিক প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এর মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বোরজ কালাউইয়েতে এক হামলায় চারজন উদ্ধারকর্মী নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি বাহিনী বৈরুতের জানাহ এলাকায় বসবাসকারীদের সরে যাওয়ার নির্দেশও দিয়েছে। এই এলাকায় দেশটির দুটি বৃহত্তম হাসপাতালসহ হাজার হাজার বাসিন্দা ও বাস্তুচ্যুত মানুষ বসবাস করেন।
মূলত যুক্তরাষ্ট্র অতীতে বহুবার দাবি করেছে, ইসরায়েল তাদের সামরিক অভিযান সীমিত করতে সম্মত হয়েছে, কিন্তু পরে দেখা গেছে হামলা অব্যাহত রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে, ২০২৪ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসন মাসের পর মাস ধরে বলেছিল, গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফাহতে ইসরায়েল ‘সীমিত’ অভিযান চালাচ্ছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইসরায়েল রাফাহর প্রায় সব স্থাপনা ধ্বংস করে দেয়।
এখন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলছেন, দক্ষিণ লেবাননেও তারা একই কৌশল প্রয়োগ করতে চান, যাতে স্থায়ীভাবে জনগণকে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়া যায়।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]