
রাজধানীর পল্টনে একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে এক শিশু শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দুজন শিক্ষক আনুমানিক চার থেকে পাঁচ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে অফিস রুমে নিয়ে দফায় দফায় নির্যাতন করতে দেখা যায়।
অভিযুক্ত ওই দুই শিক্ষককে অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবির পাশাপাশি স্কুলটি বন্ধ করে দেওয়ার দাবি উঠেছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাতে ভিডিওটি প্রথম শেয়ার করেন আইনজীবী সালেহ উদ্দীন। তাতে সিসিটিভি ক্যামেরার সময় অনুযায়ী ভিডিওটি গত ১৮ জানুয়ারির। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি পল্টনের শারমিন একাডেমির বলে শনাক্ত করেছে পুলিশ।
ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এক শিশু শিক্ষার্থীকে হাত ধরে একজন নারী শিক্ষক অফিস কক্ষে নিয়ে যান। এরপর সোফায় বসে থাকা অবস্থায় অফিসে থাকা এক পুরুষ শিক্ষক চেয়ার থেকে উঠে গিয়ে শিশুটির মুখ, মাথা, গলা চেপে ধরেন। নারী শিক্ষক ওই সময় তার হাত ধরে রাখেন। আরও কয়েক দফা তার ওপর এভাবে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়।
চশমা পরা, ঘিয়ে রঙের প্যান্ট ও ছাঁই রঙের টি-শার্ট পরা এক ব্যক্তি শিশুটিকে বেধড়ক মারধর করেন। পাশে গোলাপি রঙের শাড়ি পরা নারী শিশুটির হাত ধরে রাখেন। কিছুক্ষণ পরপর ওই ব্যক্তি এসে শিশুটিকে আঘাত করেন। সেখানে তাকে ধমক দেওয়া হয় এবং ইশারায় চুপ থাকতে বলা হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি ভাইরাল হলে অভিভাবকদের মধ্যে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। তারা বলছেন, স্কুল হলো সেকেন্ড হোম। আর শিক্ষকরা বাবা-মা সমসতুল্য। সেই স্কুলে যখন শিশুরা নিরাপদ না, তখন সেটি বন্ধ করে দেওয়া উচিত।
অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউল কবির দুলু বলেন, সচিবালয় থেকে মাত্র কয়েকশ গজের দূরত্বে পল্টনের মতো জায়গায় স্কুলে এ ধরনের অমানবিক ঘটনা কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, এরাও কি শিক্ষক? কোমলমতি শিশুকে দুইজন শিক্ষক শিক্ষক মিলে স্কুলের অভ্যন্তরে অমানুষিক নির্যাতন করছে। এদেরকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি। এ বিষয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা এবং শিক্ষা সচিবের দ্রুত দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২১ জানুয়ারি ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। পরে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে কাজ শুরু করে পুলিশ। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েকজনকে থানায় ডাকা হয়েছে।
পল্টন থানা পুলিশ জানায়, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর তারা ঘটনাস্থল শনাক্ত করেছেন। ঘটনাটি নয়াপল্টন এলাকার ‘শারমিন একাডেমি’ নামের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঘটেছে। নির্যাতনে জড়িতদের একজনকেও শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক শারমিন আক্তার। তাদের থানায় আসার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তবে তারা শুধু সময় নিচ্ছেন। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার বা আটক করা হয়নি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল খান বলেন, আমরা অভিভাবকদের ডেকেছিলাম। তারা এসেছিলেন। এ ধরনের একটা ঘটনা, আমরা অভিযোগ দিতে বলেছি। তারা সময় নিয়েছেন, হয়তো আজকে জানাবেন। অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিষয়টি নিয়ে জানতে শারমিন একাডেমির পরিচালক শারমিন আক্তারের মোবাইল ফোন নম্বরে বারবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এছাড়া স্কুলের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে থাকা একাধিক নম্বরে কল করা হলেও কেউ রিসিভ করেননি।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]