
রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার কাছে বন্যার ত্রাণের টাকার হিসাব চেয়েছেন এক ব্যক্তি। এ সময় প্রশ্নকারী ও এনসিপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক হট্টগোল বেঁধে যায়।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিকেলে এনসিপির পক্ষ থেকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের কর্মসূচি ঘোষণা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন শেষে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।
ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, সংবাদ সম্মেলন শেষ করে আসিফ মাহমুদ যখন চলে যাচ্ছিলেন, তখন সামনে থেকে এক ব্যক্তি তাকে লক্ষ্য করে বন্যার ফান্ডের টাকার হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ওই ব্যক্তি সরাসরি প্রশ্ন করেন, ‘আপনাদের কাছে বন্যার যে টাকাগুলো দেওয়া হয়েছিল, সেই টাকাগুলোর কি হিসাব এখন পাওয়া যাবে? বন্যার টাকা তো ফান্ডে দেওয়া হয়েছিল, সেই টাকাগুলো কোথায়।’ তবে ভিডিওতে আসিফ মাহমুদকে এই প্রশ্নের কোনো উত্তর দিতে দেখা যায়নি।
হট্টগোলের সময় উপস্থিত সাংবাদিকরা ওই ব্যক্তির পরিচয় জানতে চাইলে তিনি নিজেকে ‘জুলাইযোদ্ধা’ হিসেবে দাবি করেন। এ সময় তিনি আসিফ মাহমুদকে উদ্দেশ্য করে ‘সন্ত্রাস’ ও ‘মববাজ’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন।
ক্ষুব্ধ ওই ব্যক্তি আরও অভিযোগ করেন, ‘বন্যার টাকা কোথায় গেছে, সেটি কি আমি জানতে চাইতে পারি না? উনি কোটি টাকার গাড়িতে চড়েন, এই টাকা কই থেকে আসে?’ একই সাথে জুলাই বিপ্লবের যোদ্ধাদের আসিফ মাহমুদ কোনো খোঁজখবর নেননি বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
ঘটনার একপর্যায়ে এনসিপির সমর্থক ও উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রশ্নকারী ব্যক্তিকে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তিনি তার অবস্থানে অনড় থেকে পাওনা হিসাবের দাবি জানাতে থাকেন।
হট্টগোলের আগে সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানীতে এনসিপির তিন দিনব্যাপী ঈদ উৎসবের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, উৎসবের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে ঈদের দিন একটি ঐতিহ্যবাহী ও বর্ণাঢ্য ‘ঈদের মিছিল’ অনুষ্ঠিত হবে। এই আয়োজন সফল করতে ইতিমধ্যে একটি কেন্দ্রীয় বাস্তবায়ন কমিটি এবং নির্দিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]