শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষক সংকটে এনএস কলেজ
প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০১৬, ১৪:৫৫
শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষক সংকটে এনএস কলেজ
নাটোর প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষক সংকটে নাটোরের নবাব সিরাজ (এনএস) উদ-দৌলা সরকারি কলেজের পনেরো হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর কোর্সের ক্ষেত্রে এ সংকট সবচেয়ে বেশি।


কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজটি ১৯৮০ সালে জাতীয়করণ করা হয়। এই কলেজে নাটোর, রাজশাহী, নওগাঁ, পাবনা, সিরাজগঞ্জসহ আশেপাশের জেলার শিক্ষার্থীরা এখানে লেখাপড়া করে।


বর্তমানে এখানে উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক (পাস), তেরোটি বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ও দশটি বিষয়ে স্নাতকোত্তর কোর্সে পনেরো হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কলেজ সংক্রান্ত বিধি মোতাবেক এখানে ৭১জন শিক্ষক থাকার কথা। অথচ বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৪৫জন। সে হিসেবে প্রতিটি বিভাগে তিন থেকে পাঁচজন করে শিক্ষক কর্মরত।


আবার গত কয়েক মাসে পদন্নোতি পেয়ে অন্য কলেজে বদলি, চাকরির সময়সীমা শেষ, উচ্চ শিক্ষাজনিত ছুটি, ব্যক্তিগত সমস্যা দেখিয়ে কলেজ পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে ১৫জন শিক্ষকের পদ ফাঁকা হয়। এরমধ্যে কিছু বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হলেও বেশিরভাগ পদ এখনো ফাঁকা রয়েছে। সর্বশেষ গত ৩ অক্টোবর একসঙ্গে পাঁচজন শিক্ষক বিভিন্ন কলেজে বদলি হয়ে চলে গেছেন।


এছাড়া শিক্ষার্থীদের সংখ্যা অনুপাতে প্রতি বিভাগে কমপক্ষে চারটি শ্রেণিকক্ষ প্রয়োজন। কিন্তু প্রতিটি বিভাগের আছে মাত্র দুটি করে। এতে পর্যাপ্ত সংখ্যক শ্রেণিকক্ষ না থাকায় নিয়মিত ক্লাস করতে পারছে না শিক্ষার্থীরা।


অন্যদিকে কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক (পাস) কোর্সের জন্য আলাদা কোনো বিভাগ ও ক্লাসের ব্যবস্থা নেই। সেজন্য স্নাতক (সম্মান) কোর্সের শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত ক্লাসরুমগুলো ব্যবহার করে পড়ানো হচ্ছে।


শিক্ষার্থীরা জানান, শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষক সংকটের কারণে কলেজে সপ্তাহে স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ক্লাস হয় মাত্র দুটি করে। আবার অনেক বিভাগে শিক্ষকরা প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত অথবা শ্রেণিকক্ষ ফাঁকা না থাকায় একটিও ক্লাস হয় না।


এর ফলে যাদের আর্থিক সচ্ছলতা রয়েছে তারা বাইরে শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেট পড়ে সিলেবাস শেষ করেন। আর যাদের আর্থিক সচ্ছলতা নেই তারা সিলেবাস শেষ করতে পারেন না। সে কারণে আশানুরূপ ফলাফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তারা।


এদিকে পাঠদানের কার্যক্রম নিয়মিত না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ছুটছে অনভিজ্ঞ শিক্ষকদের তৈরি করা প্রাইভেট ও কোচিং সেন্টারের দিকে। এতে শিক্ষার্থীদের ফলাফল নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা।


শিক্ষার্থীরা আরও জানান, শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষক সংকটের কারণে বছরে পঞ্চাশ থেকে ষাট দিনের বেশি ক্লাস হয় না। আবার যখন এক বর্ষে শিক্ষার্থীদের ক্লাস চলে তখন অন্য বর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্লাসের বাইরে অপেক্ষা করতে হয়।


অন্যদিকে কলেজটির অবস্থান শহরের প্রাণকেন্দ্রে হওয়ায় বিভিন্ন পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে এটিকে ব্যবহার করা হয়। যে কারণে কলেজে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের পাঠদান এবং শ্রেণিকক্ষ ব্যবহারে প্রতিবন্ধকতা লেগেই থাকে।


এছাড়া কলেজে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি ও অভ্যন্তরীণ কলহের কারণেও নিয়মিত ক্লাস হয় না।


শিক্ষকরা বলেন, আমরা ক্লাস নিতে আগ্রহী আছি। কিন্তু শিক্ষক সংকটে তা সব সময়ে সম্ভব হয় না। তবে স্বল্পসংখ্যক শিক্ষক নিয়েও আমরা পাঠদান কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি।


কলেজের শিক্ষক সংকটের কথা স্বীকার করে অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল কুদ্দুস মৃধা বলেন, শিক্ষক সংকটের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে। তবে কবে নাগাদ এ সমস্যা নিরসন হবে তা নিশ্চিত করে কিছু বলেননি তিনি।


বিবার্তা/জুবায়ের/জেমি/জিয়া

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com