চলনবিল ও আত্রাই নদীতে বাঁধ দিয়ে মৎস্য নিধন
প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০১৬, ২৩:১৮
চলনবিল ও আত্রাই নদীতে বাঁধ দিয়ে মৎস্য নিধন
সিংড়া প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

নাটোরের চলনবিল ও আত্রাই নদীতে বাঁধ দিয়ে মৎস্য নিধন চলছে অবাধে। প্রশাসন মাঝে মাঝে অভিযান চালালেও তা কাজে আসছে না। স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় বিল ও নদী থেকে নির্বিকারে মাছ শিকার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসিদের।



মৎস্য ভান্ডার খ্যাত দেশের সর্ববৃহৎ বিল চলনবিল এবং আত্রাইসহ সিংড়া উপজেলার বিভিন্ন খালবিলে নিষিদ্ধ সুতি ও কারেন্ট জাল দিয়ে মা ও পোনা মাছ নিধনের উৎসব চলছে। ফলে মাছের অবাধ চলাচল ও স্বাভাবিক প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি চলনবিলের আমন ধান, মালবাহী নৌকা যাতায়াতসহ নদী তীরবর্তী এলাকার স্থাপনাগুলো হুমকির মুখে পড়েছে।



সরেজমিন পৌর শহরের আত্রাই নদীর কতুয়াবাড়ী, বিলদহর,কালিনগর, কৃষ্টপুর, সারদানগরসহ বিভিন্ন এলাকায় সুতি জাল এবং চলনবিলের দক্ষিণ দমদমা, জোলার বাতা ও উপজেলার বেড়াবাড়ী, ইটালি, সাতপুকুরিয়া, তাজপুর, ডাহিয়া, তিশিখালী, চৌগ্রাম, তেলিগ্রাম, সিধাখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় অবাধে মাছ শিকারের চিত্র দেখা গেছে।



এলাকাবাসি অভিযোগ করেছেন, চলনবিল, আত্রাই, গুরনাই নদীসহ বিভিন্ন খালের দুপাশে ঘন করে বাঁশ পুতে বানা ও বেড়ার মাধ্যমে নদীকে ছোট করা হয়েছে এবং প্রবল স্রোত তৈরি করে সুতি জাল দিয়ে মাছ ধরা হচ্ছে। এতে করে যাত্রী ও মালবাহী নৌকাগুলো সীমাহীন দুর্ভোগে পড়ছে । তাছাড়া প্রতিনিয়ত ছোট বড় দুর্ঘটনাও ঘটছে। এদিকে ঘন্টার পর ঘন্টা এলাকাবাসির নৌকা আটকে রাখারও অভিযোগ করেছেন।


মৎস্য অফিস সূত্র জানায়, অবৈধ সুতিজাল ও মাছ ধরার অন্যান্য সরঞ্জামাদি উচ্ছেদের লক্ষে প্রশাসন প্রতিনিয়ত অভিযান চালাচ্ছে । অভিযান পরিচালনার জন্য প্রশাসন ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে নৌকা তৈরী করেছে ।



নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়রা জানায়, প্রশাসনের অভিযান সফল না হওয়ার পেছনে অনেক কর্মকর্তার যোগসাজশ রয়েছে। অভিযানের পূর্বেই অবৈধভাবে মাছ শিকারিদের খবর পৌছে দেয় প্রশাসনের অসাধু ব্যক্তিরা ।



পরিবেশ উন্নয়ন ও প্রকৃতি সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি মোল্লা এমরান আলী রানা জানান, চলনবিলে বানার বাধ ও সুতি জাল দেয়ায় সব ধরনের মাছ ও জলজ প্রাণীর বাধা হয়ে দাড়িয়েছে। এতে মাছসহ বিভিন্ন জলজ পোকামাকর বিলুপ্তির পথে। এজন্য জনপ্রতিনিধি সহ এলাবাসির সচেতনতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন।
এব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকতার মোঃ ওমর আলীর বলেন, আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে এলাকাবাসির সহযোগিতা প্রয়োজন।


উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা প্রশাসনের পক্ষ হতে মৎস্য নিধনে সচেতনতা গড়ে তোলার পাশাপাশি অভিযান পরিচালনা করে আসছি। এটা অব্যাহত থাকবে।



বিবার্তা/রাজু/পলাশ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (২য় তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com