জেএমবি নেতা আরিফের ফাঁসি রবিবার
প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০১৬, ২২:৫৯
জেএমবি নেতা আরিফের ফাঁসি রবিবার
খুলনা ব্যুরো
প্রিন্ট অ-অ+

জেএমবি নেতা আসাদুল ইসলাম ওরফে আরিফের ফাঁসি কার্যকর হবে রবিবার রাতে। খুলনা জেলা কারাগারে তাঁর ফাঁসি কার্যকর করা হবে। ঝালকাঠির দুই বিচারক হত্যা মামলায় আদালত তাকে ফাঁসির আদেশ দেন।


আরিফের মৃত্যুদণ্ডের মাধ্যমে এক যুগ পর খুলনা কারাগারে কোনো দণ্ডিতের ফাঁসি কার্যকর হতে যাচ্ছে। সর্বশেষ ২০০৪ সালের ১০ মে খুলনা জেলা কারাগারে শীর্ষ সন্ত্রাসী এরশাদ শিকদারের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।


খুলনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নূর-ই-আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ফাঁসি কার্যকরের সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। রবিবার দিবাগত রাতে ফাঁসি কার্যকর করা হবে। কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।


আরিফ ২০০৮ সাল থেকে খুলনা জেলা কারাগারে রয়েছেন। জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) জঙ্গিদের আত্মঘাতী বোমা হামলায় ২০০৫ সালের ১৪ নভেম্বর ঝালকাঠির দুই বিচারক নিহত হন।


ওই দিন সকাল নয়টার দিকে সরকারি বাসা থেকে জেলা জজ আদালতে যাওয়ার পথে দুই বিচারককে বহনকারী মাইক্রোবাসে হামলা চালানো হয়। হামলার পর ঘটনাস্থলেই মারা যান জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ সোহেল আহম্মেদ এবং বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ জগন্নাথ পাঁড়ে। আহত অবস্থায় ধরা পড়ে হামলাকারী জেএমবির সদস্য ইফতেখার হাসান আল মামুন।


পরে জেএমবির অন্যান্য শীর্ষ নেতারা আটক হন। জঙ্গিদের ঝালকাঠি এনে জেলা জজ আদালতে চাঞ্চল্যকর এ মামলার বিচারকাজ চলে।


২০০৬ সালের ২৯ মে ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ রেজা তারিক আহম্মেদ জেএমবির শীর্ষ নেতা শায়খ আবদুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলাভাই, শায়খের ভাই আতাউর রহমান সানি, জামাতা আবদুল আউয়াল, ইফতেখার হোসেন মামুন, খালেদ সাইফুল্লাহ (ফারুক) ও আসাদুল ইসলাম আরিফকে ফাঁসির আদেশ দেন। দেশের বিভিন্ন কারাগারে ২০০৭ সালের ২৯ মার্চ ছয় জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়।


এদের মধ্যে আরিফ পলাতক থাকায় সে সময় আপিলের সুযোগ পায়নি। বাকি ছয় জঙ্গির ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষে ২০০৬ সালের ৩১ আগস্ট তাঁদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখেন উচ্চ আদালত। ওই বছরের ২৮ নভেম্বর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ হাইকোর্টের মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে ছয় জঙ্গির জেল আপিল খারিজ করে দেন।


পরের বছর ৪ মার্চ রাষ্ট্রপতি ছয় জঙ্গির প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ করে দিলে ২৯ মার্চ রাতে দেশের বিভিন্ন কারাগারে ছয় জঙ্গির ফাঁসি কার্যকর করা হয়। ছয় শীর্ষ জঙ্গির ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর ২০০৭ সালের ১০ জুলাই এ মামলায় আরিফ ময়মনসিংহ থেকে গ্রেপ্তার হয়। ওই বছর জুলাই মাসে হাইকোর্টে আপিল করে সে।


শুনানি শেষে হাইকোর্ট তাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। পরে আপিল বিভাগেও তাঁর সাজা বহাল থাকে। আপিল বিভাগের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহালের রায় পুনর্বিবেচনার জন্য আরিফ যে আবেদন করেছিল, গত ২৮ আগস্ট প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ তা খারিজ করেন।


বিবার্তা/রোকন/কাফী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com