বন রক্ষায় যে আদিবাসীরা শিকার ছেড়ে দিয়েছে
প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৫:২০
বন রক্ষায় যে আদিবাসীরা শিকার ছেড়ে দিয়েছে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

ভারতের উত্তর-পূর্বের রাজ্য নাগাল্যান্ডের আদিবাসীরা বন্যপ্রাণী ও বন রক্ষার জন্য তাদের বহু প্রাচীন ঐতিহ্য শিকার করা ছেড়ে দিয়েছে। তাদের জীবিকার প্রধান উপজীব্য ছিল পশু শিকার করা।


৭৬ বছর বয়সী ছায়ইভি চিনইয়ি এক সময় ছিলেন দক্ষ শিকারি। কিন্তু ২০০১ সালে এসে তিনি শিকার করা বন্ধ করে দেন। কারণটা অনেকের কাছে অবাক করার মতো মনে হবে। তারা জীববৈচিত্রের সামঞ্জস্য বজায় রাখার জন্য এটা করেছে।


সেটাও আবার তাদের পরবর্তী বংশধরদের কথা চিন্তা করে। শত শত বছর ধরে প্রত্যন্ত অঞ্চল যেমন পাহাড়ি গ্রাম খোনোমার লোকেরা বেশির ভাগ সময় ব্যয় করতো শিকার করে। তারা পশু শিকার করতো শুধু খাওয়ার জন্য না, এটা তাদের বহু দিনের ঐতিহ্য ও জীবনের একটা অংশ।


ছায়ইভি চিনইয়ি


১৯৯৩ সালে একদল আদিবাসী পশু শিকার বন্ধ করার জন্য প্রচার চালাতে থাকে। তারা এই কাজটা করতে উৎসাহিত হয়েছিল যখন তারা দেখলো ট্রাগোপান নামের একটা বিশেষ ধরণের পাখি ক্রমেই বিলুপ্ত হতে শুরু করেছে।


ওই এলাকাটি ছিল কয়েক শত পাখির আবাসস্থল। কিন্তু তাদের ওই পাখি মেরে মাংস খাওয়ার যে প্রবৃত্তি, সেটাই পাখিগুলো আস্তে আস্তে কমতে শুরু করেছিল।


এর পর গ্রামের কাউন্সিল থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, প্রায় ২০ স্কয়ার কিলোমিটার তারা ঘিরে রাখবে যাতে করে কেউ ওই এলাকায় শিকার করতে না পারে। ১৯৯৮ সালে ওই হয়ে গেল খোনোমা নেচার কনজারভেশন এলাকা এবং ট্রাগোপানের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়।


একই বছর কাউন্সিল কোনো প্রকার শিকার, বন জ্বালিয়ে দেয়া এবং কোনো ধরণের কমার্শিয়াল অপারেশনের উপর নিষেধাজ্ঞা দেয়।



ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে শিকার করা পশুর মাথাগুলো কাউন্সিল সদস্যদের বাড়িতে সাজিয়ে রাখার জন্য উৎসাহিত করা হত। যদিও বেশির ভাগ শিকারি তাদের রাইফেল ব্যবহার করে করে না কিন্তু এখনো কিছু কিছু বাড়িতে পশুদের মাথা দেখা যায়, যেগুলো তারা আগে শিকার করেছিল।


তারা যেসব অস্ত্র ব্যবহার করতো সেগুলো পরবর্তী প্রজন্মের জন্য রেখে দেয়া হত। এগুলো শিকার করা একই সাথে তাদের দক্ষতার এবং সাহসিকতার পরিচয় বহন করতো।



এই সম্প্রদায়টি লোক সঙ্গীত পছন্দ করে এবং কোনো অনুষ্ঠানে বা গ্রামের কাউন্সিলের সামনে গেয়ে থাকে। খোনোমা গ্রামে এখন অনেক ধরণের গাছ রয়েছে। যেগুলোর ঔষধি গুনাগুণ রয়েছে তেমনি রয়েছে অনেক বন্য গাছও। সূত্র: বিবিসি


বিবার্তা/জাকিয়া

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com