ডেঙ্গু রোগী নিয়ে হাসপাতালে হাসপাতালে দৌড়াচ্ছেন স্বজনরা
প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০১৯, ২১:৫৪
ডেঙ্গু রোগী নিয়ে হাসপাতালে হাসপাতালে দৌড়াচ্ছেন স্বজনরা
আকরাম হোসেন
প্রিন্ট অ-অ+

সকাল থেকে বাইরে কখনো মুষলধারে আবার গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি। বৃষ্টির ফাঁকে ফাঁকে আকাশে মাঝে মাঝে উকি দিচ্ছে সূ র্যও। শহরের এই রোদ-বৃষ্টির লুকোচুরির মাঝে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ৬ বছরের একমাত্র সন্তান মিতুকে নিয়ে হাসপাতালের বেডে বসে আছেন ফাতেমা বেগম।মিতুর রিকশা চালক বাবা অভাবের তাড়নায় মেয়েকে হাসপাতালে রেখে গেছেন রিকশা চালাতে।


মিতুর জন্য হাসপাতালের একটা বেড পেতে তাদের পোহাতে হয়েছে অনেক ঝড়ঝাপটা। কয়েকটি হাসপাতাল ঘুরে অবশেষে ঢাকা শিশু হাসপাতালে জুটেছে একটি সিট।



বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজধানীতে বেড়েছে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ। চিকিৎসা দিতে হিমসিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো।সিট স্বল্পতা থাকার কারণে সব রোগীকে ভর্তি করতে পারছে না।যার কারণে ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসা নিতে হাসপাতাল থেকে হাসপাতাল ঘুরছেন রোগীরা।


মিতুর মা ফাতেমা বেগম বিবার্তাকে জানান, কয়েকদিন আগে মেয়ের জ্বর আসে। জ্বর হলে মিরপুর শিশু হাসপাতালে নিয়ে যাই। পরীক্ষা করে ডেঙ্গুর জ্বর ধরা পরে। ওইখানে চিকিৎসা করাতে অনেক খরচ এজন্য অন্য জায়গায় নিয়ে আসি। প্রথম আসি ঢাকা শিশু হাসপাতালে। এখানে সিট না পেয়ে ফিরে যাই। তারপর যাই সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে। কিন্তু সেখানেও সিট খালি নেই।



আপসোস করে তিনি বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত মেয়েকে কোথাও ভর্তি করতে পারি না। পরে একজনের মাধ্যমে কথা বলে এখানে (ঢাকা শিশু হাসপাতালে) আসি। শেষ পর্যন্ত মেয়েকে ভর্তি করাতে পেরেছি।


ফাতেমা বেগম আরো জানান, চার দিন হয় মেয়ে এখানে ভর্তি আছে। আজ রিপোর্ট দেয়ার কথা, রিপোর্ট ভালো হলে বাড়ি চলে যাবো।



সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি রোগীর ভর্তি রয়েছে। সিট না থাকায় হাসপাতালের বারান্দায় বেড পেতে দেয়া হয়েছে। এতেও কাজ না হওয়ায় হাসপাতালের ফ্লোরে শুয়ে আছে অনেকে। এদিকে আবার নতুন করে ভর্তির অপেক্ষা করছেন রোগীরা।


সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের ভর্তি রয়েছে ইসরাফিল। বিবার্তাকে তিনি বলেন, ৫ দিন আগে জ্বর নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল যাই। কিন্তু সিট খালি না থাকায় ফিরে আসি। পরে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। এখানের ডাক্তারা পরীক্ষা করলে ডেঙ্গু জ্বর ধরা পড়ে।


বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ১৮৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। তবে এখানের কিছু অনিময়ের কথা বলছেন রোগীরা। দুই রোগী বিবার্তাকে জানান, সিট পেতে ২০০ টাকা করে দিতে হয়েছে। যারা টাকা দিচ্ছে না তারা হাসপাতালের ফ্লোরে রয়েছন। আর টাকা দিলে মিলছে সিট।



সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা এস এ এম কামরুজ্জামান বির্বাতাকে জানান, এখান ধারণক্ষমতার চেয়েও বেশি রোগী ভর্তি আছে। তবে জ্বর নিয়ে যারা ভর্তি রয়েছেন তাদের সবারই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত না। পরীক্ষা করা হচ্ছে তারপর জানা যাবে।


হাসপাতালগুলোতে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি আসছে ডেঙ্গু রোগী। ফলে সিট না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে অনেকেই। রোগী ফিরে যাওয়ার কথা স্বীকার করে ঢাকা শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক (ডঃ) সৈয়দ সফি আহমেদ বলেন, আমারা ফ্লোরে কোনো রোগী রাখি না। ফ্লোরে রোগী রাখলে তাদের অনেক সমস্যা দেখা দিতে পারে। আবার আমরাও সেবাটা সঠিক ভাবে দিতে পারি না। আমাদের এখানে ডেঙ্গু রোগীর জন্য ৮৭টি সিট রাখা হয়েছে। এর বাইরে আমরা ইচ্ছা করলেও ভর্তি করতে পারি না। মূলত আমাদের বেড সংকট আছে।


তবে আউটডোর অনেক চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আউটডোর চিকিৎসা শেষে প্রয়োজন মনে করলে তাদের ভর্তি করছি বলে জানান তিনি।


বর্তমানে ৮৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তির মধ্যে ১২ জন ক্রিটিক্যাল অবস্থায় রয়েছে। ক্রিটিক্যাল পরিস্থিতি লক্ষ্মণের ব্যাপারে সৈয়দ সফি আহমেদ বলেন, ডেঙ্গুর জ্বর আসার তিন চার দিন পর জ্বর পড়ে যায়। তখন দেখা যায় রক্তের প্লাটিলেট কমে যাচ্ছে। পেটে পানি চলে আসছে। শিশুদের আচরণে পরিবর্তন আসে। তখন আমরা এটাকে ক্রিটিক্যাল পরিস্থিতি বলি।


শুক্রবার সকাল ৮ থেকে শনিবার সকাল ৮ পর্যন্ত সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৬৮৩ জন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন ও কন্ট্রোল রুম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।


গত ২৪ ঘণ্টায় শুধু ঢাকার সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেই ভর্তি হয়েছে ৬৪৩ জন ডেঙ্গু রোগী। সবচেয়ে বেশি ২৩৩ জন ভর্তি হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।


সরকারি খাতায় মৃতের সংখ্যা আগের মতো আটজনই রয়েছে। তবে বির্বাতার এক অনুসন্ধানের ২০ জুলাইয়ের আগ পর্যন্ত ২৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।


বিবার্তা/আকরাম/জাই

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected]l.com, [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com