সদরঘাটে একটি ভোগান্তির বিকেল
প্রকাশ : ৩১ মে ২০১৯, ২২:৫১
সদরঘাটে একটি ভোগান্তির বিকেল
আদনান হোসাইন সৌখিন
প্রিন্ট অ-অ+

সদরঘাটের লঞ্চযাত্রীদের পদে পদে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। দুর্ভোগ ও যাত্রী হয়রানি শুরু হয় টার্মিনালে পৌঁছার পর পরই। ঘাটের শ্রমিকদের একটি সংঘবদ্ধ চক্রের হাতে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা। প্রকাশ্যে পুলিশের সামনে এসব অনিয়ম ঘটলেও তারা যেন দেখেও না দেখার ভান করছেন। অনেক সময় পুলিশি সহায়তা নিতে গিয়ে উল্টো হয়রানির শিকার হতে হয়।


যেহেতু দক্ষিণাঞ্চলের লঞ্চগুলো বেশিরভাগ বিকেলে বা সন্ধ্যার পরে ছেড়ে যায়, সেজন্য যাত্রীদের চাপটাও বিকেলে একটু বেশি থাকে। আর ঠিক এ সময়টাতেই সবচেয়ে বেশি নাজেহাল হন যাত্রীরা। আর বন্ধের দিন কিংবা ঈদ মৌসুম হলে সেটা পৌঁছায় চরমে। শুক্রবার বিকেলে সদরঘাটের কিছু ভোগান্তির খণ্ড চিত্র এরকম -


বিকাল ৫টা-৫.২০, এসময় টার্মিনালের প্রতিটি প্রবেশ পথেই লঞ্চ শ্রমিকরা (কুলি) জটলা বেঁধে দাঁড়িয়ে আছে। কোনো সিএনজি কিংবা রিকশা টার্মিনালের গেটে আসার সঙ্গে সঙ্গে শ্রমিকরা তা ঘিরে ধরছে। মালপত্র বহনের জন্য, লঞ্চযাত্রীরা কোনো শ্রমিক নিবে কিনা তা যাত্রীদের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে না। কারণ কোনো যাত্রী তার মালপত্র বহনের জন্য শ্রমিক নিতে না চাইলেও শ্রমিকরা জোরপূর্বক মালপত্র নিয়ে নিচ্ছে। এমন সময় একটি রিকশা এসে থামল লঞ্চ টার্মিনালের সামনে। সঙ্গে সঙ্গে কয়েকজন কুলি তাকে ঘিরে ধরল। তিনি কুলিদের জানালেন, নিজের মালামাল তিনি নিজেই বহন করবেন। কিন্তু কুলিরা তার মালামাল নিয়ে টানা-হেঁচড়া শুরু করল। পরে কুলিদের ৫০ টাকা দিয়ে তিনি নিজেই মালামাল নিজে বহন করে লঞ্চে নিয়ে গেলেন।



৫.২০ থেকে-৫.৩০ , টার্মিনালের সামনে একটি সিএনজিতে করে বেশকিছু মালামাল নিয়ে এক ব্যক্তি উপস্থিত হলেন। সিএনজি থেকে তিনি নামার আগেই কয়েকজন কুলি ঘিরে ধরল। তিনি সিএনজির ভাড়া মিটিয়ে লঞ্চে মালামাল পৌঁছে দেয়ার জন্য দু’জন কুলির সঙ্গে ৩০০ টাকায় চুক্তি করলেন। কুলিরা তার মালামাল লঞ্চে পৌঁছে দিলে তিনি তাদের ৪০০ টাকা দিলেন। কিন্তু কুলিরা দাবি করল ১ হাজার টাকা। ওই ব্যক্তি কুলিদের কথা শুনে অনেকটা হতবাক হলেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হল। অন্য কুলিরাও এসে লঞ্চযাত্রীর ওপর চড়াও হল। পরে ওই যাত্রী ৮শ’ টাকা দিয়ে পার পেলেন।


৫.৩০ থেকে ৫.৪০ , জহির নামে এক ব্যক্তি পটুয়াখালী যাবেন। তিনি টার্মিনালের এক পাশে তার মালপত্র রেখে খাবার কিনতে একটি কনফেকশনারীর দোকানে গেলেন। এসে দেখেন তার মালপত্র নেই। তিনি লঞ্চ টার্মিনালে দায়িত্বরত এক পুলিশের শরণাপন্ন হলেন। পুলিশ তাকে নানা প্রশ্নে জর্জরিত করে। জহির অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ কোনোরকম সহায়তা তো করেইনি। উল্টো তাকে হয়রানির চেষ্টা করে। এমন অভিযোগ পাওয়া যায় লঞ্চযাত্রী আফজাল, হাসান এবং ইসরাফিলের কাছ থেকেও।


৫.৪০ থেকে ৫.৫০ , বেশ কয়েকটি লঞ্চ ঘাটে বাঁধা আছে। যাত্রীরা ছুটছেন তার গন্তব্যের লঞ্চের টিকিট সংগ্রহের জন্য। কিন্তু এখানে যাত্রীদের নিয়ে লঞ্চ শ্রমিকদের টানাটানি। অনেক সময় যাত্রীরা শ্রমিকদের খপ্পরে পড়ে তাদের পছন্দের লঞ্চে চড়তে পারেন না। এ ব্যাপারে পটুয়াখালীর প্রদীপ অভিযোগ করেন, টার্মিনালে আসার পর তাদের মালপত্র নিয়ে টানাটানি শুরু করে কুলিরা। আর ঘাটে আসার পর অনেক সময় শ্রমিকরা টানাটানি করে তাদের লঞ্চের উঠিয়ে ফেলে। ফলে তারা পছন্দের লঞ্চে চড়ে বাড়ি যেতে পারেন না। আবার অনেক সময় শ্রমিকরা কেবিন খালি আছে বলে লঞ্চে তোলে। পরে দেখা যায় কেবিন তো দূরের কথা ডেকেও জায়গা নেই। তিনি এ সমস্যা সমাধানের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।



৫.৫০ থেকে ৬টা , লঞ্চ টার্মিনালের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এরকম যাত্রী হয়রানির অনেক চিত্র চোখে পড়ে। কিন্তু প্রতিকারের জন্য কারও কোনো বিন্দু পরিমাণ চেষ্টা লক্ষ করা করা যায়নি। এ ছাড়া অনেক যাত্রী অভিযোগ করেছেন অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের। আবার কেউ অভিযোগ করেছেন লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের।


মোবাইল ফোনে কথা হয় সদরঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আবদুল আজিজের সঙ্গে। তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পুলিশের কাছে কোনো যাত্রী অভিযোগ করলেই তারা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়। যাত্রীদের কাছ থেকে শ্রমিকদের (কুলিদের) অতিরিক্ত টাকা আদায়ের ব্যাপারে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা খুবই কম ঘটে। তবে কোনো ভুক্তভোগী তাদের কাছে অভিযোগ করলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।


বিবার্তা/আদনান/জহির

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com