ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে ‘অল আউট’ অ্যাকশনে সরকার
প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৯:০১
ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে ‘অল আউট’ অ্যাকশনে সরকার
খলিলুর রহমান
প্রিন্ট অ-অ+

দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে নিষিদ্ধ ক্যাসিনো (জুয়ার আসর)ব্যবসা করে আসছে একটি চক্র।তবে ওই চক্রের বিরুদ্ধে গোয়েন্দারা কাজ করে আসছিল।সর্বশেষ বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরে আনা হয়।এমন তথ্য পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী ওইসব আস্তানায় অভিযান চালানো এবং এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করার নিদের্শনা দেন।এমন নির্দেশনার পর রাজধানীতে একের পর এক অভিযান শুরু করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।তবে দোষীদের আইনের আওতায় না আনা পর্যন্ত এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


জানা গেছে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে রাজধানীর ফকিরাপুল এলাকায় ইয়ংমেন্স ক্লাব ঘেরাও করে র‌্যাব।পরে বিকেলে নিষিদ্ধ ওই ক্যাসিনোতে (জুয়ার আসর) অভিযান চালায় র‌্যাব।এসময় ওই ক্যাসিনোর ভেতর থেকে ১৪২ জন নারী-পুরুষকে আটক করা হয়।


শুধু তাই নয়, ওই অভিযানের পর একই দিন রাত সাড়ে আটটার দিকে রাজধানীর গুলশানে অভিযান চালায় র‌্যাব।এ সময় সেই এলাকা থেকে অবৈধভাবে ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে অস্ত্রসহ আটক করে র‌্যাব।


এ সময় তার কাছ থেকে লাইসেন্সবিহীন একটা পিস্তল জব্দ করা হয়। ওয়াল শোকেজ থেকে দুটি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকে ২০০টি করে মোট ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার হয়। এছাড়া লোহার লকার থেকে ১০০০, ৫০০ ও ৫০ টাকার নোটের বেশ কয়েকটি বান্ডেল উদ্ধার করা হয়।


এদিকে একই দিন রাজধানীর বনানী ও গুলিস্তানে আরো দুইটি ক্যাসিনোতে অভিযান চালায় র‌্যাব। রাতভর চলা ওই অভিযানে বনানীর আহম্মেদ টাওয়ারে অবস্থিত গোল্ডেন ঢাকা বাংলাদেশ নামক ক্যাসিনোটি সিলগালা করা হয়। এছাড়াও গুলিস্তান সংলগ্ন এলাকার ওয়ান্ডার্স ক্লাবের ক্যাসিনোতে অভিযান চালানো হয়। তবে এর আগেই ওই ক্যাসিনো থেকে সবাই পালিয়ে যায়।


এই অভিযানের পর ক্লান্ত হয়নি র‌্যাব। এরপর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক অভিযান চালানো হয়।


১৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মতিঝিল ও গুলিস্তানের তিনটি ক্যাসিনোতে অভিযান চানায় র‌্যাব। এ সময় নগদ ৩৮ লাখ টাকা, বিপুল পরিমাণ মদ ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়।


এরপর ২০ সেপ্টেম্বর দুপুরে রাজধানীর সবুজবাগ, বাসাবো, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালী ঠিকাদার হিসেবে পরিচিত যুবলীগ নেতা এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমের ব্যবসায়ীক কার্যালয় ঘেরাও করে র‌্যাব। পরে বিকেলে জি কে শামীমের নিকেতনের নিজ কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়।এ সময় সাত দেহরক্ষীসহ তাকে আটক করা হয়।


এরপর অভিযান শুরু হয় রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী কলাবাগান ক্রীড়াচক্রে।এ সময় ওই ক্লাব থেকে কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের সভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়। এছাড়াও গতকাল রাতেই ধানমন্ডি ক্লাবের বার সিলগালা করে র‌্যাব। ক্লাবে অভিযান পরিচালনা করলেও বার বন্ধ থাকায় এর ভেতরে প্রবেশ করেনি র‌্যাব সদস্যরা। পরবর্তীতে বারটিতে অভিযান চলবে বলে জানিয়েছেন র‌্যাব-২ এর এসপি মো. শাহবুদ্দীন।


এদিকে, শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীম ও শফিকুল আলম ফিরোজসহ আটককৃতদের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা হয়। ওই মামলায় শফিকুলকে ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এছাড়াও শামীমের বিরুদ্ধে ১৪ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।


তবে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।


শনিবার রাজধানীর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যে দল-মতেরই হোক, কঠোর হাতে তাদের দমন করা হবে।বর্তমানে যে অভিযান শুরু হয়েছে এটি চলমান থাকবে।


বিবার্তা/খলিল/জাই

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com