আসামের নাগরিকপঞ্জিতে নাম নেই ৪০ লাখের
প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০১৮, ১৪:০২
আসামের নাগরিকপঞ্জিতে নাম নেই ৪০ লাখের
আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

ভারতের আসাম রাজ্যের নাগরিকপঞ্জির খসড়া ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেন্স (এনআরসি) থেকে বাদ গেল ৪০ লাখ মানুষের নাম। সোমবারই এই খসড়া প্রকাশিত হয়েছে।


প্রকাশিত তালিকা থেকে জানা গেছে, প্রায় তিন কোটি ৩০ লাখ আবেদনকারীর মধ্যে প্রকাশিত হয়েছে প্রায় দু’কোটি ৯০ লাখ নাম। যদিও এনআরসির কো-অর্ডিনেটর জানিয়েছেন, এটা শুধুমাত্র চূড়ান্ত খসড়া, চূড়ান্ত তালিকা নয়। যাদের নাম প্রকাশিত হয়নি, তারা অভিযোগ বা সংশোধনের আর্জি জানাতে পারবেন।


এনআরসি কো-অর্ডিনেটরের এই বক্তব্যের পরও অশান্তির আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। সেই আশঙ্কা থেকেই আসাম জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সেনাবাহিনীকে যে কোনো পরিস্থিতির জন্য তৈরি থাকতে বলা হয়েছে। আসাম ও প্রতিবেশী রাজ্যগুলোতে ২২ হাজার আধাসেনা পাঠানো হয়েছে। রাজ্য পুলিশকে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছে। ছুটি বাতিল করা হয়েছে সব সরকারি কর্মীদের।


প্রকাশিত খসড়া তালিকা থেকে জানা গেছে, মোট তিন কোটি ২৯ লাখ ৯১ হাজার ৩৮৪ জন এনআরসিতে আবেদন করেছিলেন। তাদের মধ্যে দু’কোটি ৮৯ লাখ ৮৩ হাজার ৬৭৭ জনের নাম তালিকায় প্রকাশ করা হয়েছে। নাম বাদ পড়ল ৪০ লাখ সাত হাজার ৭০৭ জনের। অবশ্য কাদের নাম বাদ পড়েছে, তা জানানো হবে না। ব্যক্তিগতভাবে অনলাইনে, এসএমএসের মাধ্যমে, হেল্পলাইনে ফোন করে বা সেবাকেন্দ্র থেকে তা জানতে হবে।


সংবাদ সম্মেলনে নাগরিকপঞ্জি প্রকাশ করে এনআরসি রেজিস্ট্রার জেনারেল অব ইন্ডিয়া শৈলেশ বলেন, আজ শুধু আসাম নয়, দেশের পক্ষে ঐতিহাসিক দিন। এত বিরাট, জটিল প্রক্রিয়া আজ পর্যন্ত দেশ তো বটেই বিশ্বেও হয়নি। ১৯৫৫ ও ২০০৩ নাগরিকত্ব আইন ও নির্দেশিকা মেনে স্বচ্ছভাবে প্রক্রিয়া চলেছে। সাড়ে ৬ কোটি নথিপত্রের অনেক তদন্ত, যাচাই ক্রমাগত হয়ে চলেছে।


তিনি বলেন, ২০১৩ সাল থেকে শুরু। কেন্দ্র ও রাজ্যের কঠোর পরিশ্রম, হাজেলা ও তার দল মিলিয়ে ৫০ হাজার কর্মী এই প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিলেন। এটা খসড়া মাত্র। সকলে নিজের নাম ঢোকানো বা সংশোধনের পর্যাপ্ত সুযোগ পাবেন। যারা পারবেন না, তাদের সাহায্য করবে দফতর। সম্পূর্ণ ন্যায়বিচার পাবেন প্রত্যেক ভারতীয়।


স্বরাষ্ট্র দফতরের যুগ্ম সচিব সত্যেন্দ্র গর্গ বলেন, মনে রাখতে হবে এটা খসড়া। ১৩ আগস্ট পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। এই খসড়ার ভিত্তিতে সীমান্ত শাখা, ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কেউ কোনো ব্যবস্থা নিতে পারবে না। ডিটেনশন শিবিরে নিয়ে যাওয়ার প্রশ্নই নেই। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কেন্দ্র সব ধরনের সাহায্য করবে। কেউ উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করলে কঠোর হাতে দমন করা হবে।


১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের পর যেসব বাংলাদেশী আসামে গেছে তাদের শনাক্ত করতেই এনআরসি প্রক্রিয়া চালু হয়েছে। ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণে চলছে গোটা প্রক্রিয়া। তবে এনআরসি নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই। বিশেষ করে ভাষিক ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা হয়রানির অভিযোগে সরব। সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা


বিবার্তা/জাকিয়া


>>নাম আছে তো তালিকায়! শঙ্কায় দেড় কোটি মানুষ


>>নাম উঠবে তো? আসামে শঙ্কায় বাঙালিরা




সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com