প্রবাসে দৈবের বশে
প্রকাশ : ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৬:২৩
প্রবাসে দৈবের বশে
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+
বাংলাদেশ ছেড়ে অনেকেই দেশের বাইরে চলে যেতে চায়। কেউ পড়াশুনার জন্য, কেউ চাকরির জন্য, কেউ অন্য কোনো কারণে।

প্রশ্ন হচ্ছে, বিদেশের জীবনটা আসলে কেমন?

দূর থেকে দেখলে মনে হবে, ইউরোপ-আমেরিকাপ্রবাসী বাংলাদেশিরা কী আলোঝলমলে জীবনই না উপভোগ করছে! কিন্তু বাস্তবতা কি তাই?

যারা পড়াশুনার জন্য বিদেশে যায়, তাদের জিজ্ঞেস করে দেখুন, বেশিরভাগই বলে বসবে, না এলেই ভালো হতো! এখন যখন এসে গিয়েছি, তাই পেছনে ফেরার সুযোগ আর নেই!

যে পরিমাণ কষ্ট ও ত্যাগ কেবল পড়াশুনা শেষ করার জন্য করতে হয়, সে পরিমাণ কষ্ট যদি দেশের মানুষ দেখতে পেত; তাহলে হয়ত এখন যতো মানুষ পড়াশুনার জন্য বিদেশে আসতে চায়, তার সংখ্যা অর্ধেকে নেমে যেত!

আর যারা বিদেশে চাকরি করছে, অনেক দিন ধরে আছে, বিদেশের নাগরিকত্বও পেয়ে গেছে, সংসার করছে এখানে; তাদের দেখে মনে হবে, আহা, কতই না সুখে আছে এরা!

অথচ তাদের গিয়ে জিজ্ঞেস করুন, আপনি কি সুখী?

উত্তরে সোজা বলবে, সংসার হয়ে গেছে, বাচ্চা-কাচ্চা এই সমাজে বড় হচ্ছে; তাই আর পেছনে ফেরার সুযোগ নেই! কিন্তু এই দেশটা তো আমাদের নয়! নিজের দেশে ফিরে যেতে পারলেই ভালো হতো! যত কষ্টই হোক, হাজার হোক নিজের দেশ!

বিশ্বাস করুন, এদের বেশিরভাগই এক ধরনের আত্মপরিচয়হীনতায় ভুগতে ভুগতে জীবন পার করে দেয়।

আর যারা মধ্যপ্রাচ্য কিংবা অন্যান্য দেশে শ্রমিক হিসেবে দীর্ঘ দিন ধরে চাকরি করছে, দেশের গ্রামে থাকা তাদের পরিবারগুলোকে দেখলে মনে হবে, এরা নিশ্চয় অনেক সুখী! অথচ যে মানুষগুলো নিজেদের রক্ত পানি করা টাকা দেশে পাঠিয়ে গ্রামে তাদের পরিবারকে সুখী রাখছে, তাদের গিয়ে জিজ্ঞেস করুন, আপনি কি সুখী?

উত্তরে তারাও বলবে, না পেলাম যেদেশে শ্রম দেই সেদেশে কোনো মর্যাদা, না পেলাম নিজ দেশে কোনো মর্যাদা।

আপনাদের জানিয়ে রাখি, কিছুদিন আগে ঢাকা এয়ারপোর্টের দু’জন কর্মকর্তা প্রবাসী শ্রমিকদের নিয়ে বেশ বাজে কথা বলেছে! এছাড়া এই শ্রমিকদের আমরা সাধারণ মানুষরাও খুব-একটা ভালো চোখে দেখি না।

ইউরোপ-আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড থেকে শুরু করে পৃথিবীর যে প্রান্তেই বাংলাদেশিরা আছে, তাদের জিজ্ঞেস করুন, এরকম উত্তরই পাবেন!

আমি নিজে আমার জীবনের পুরো গবেষণা অভিবাসী ও শরণার্থীদের নিয়ে করেছি। আমার অভিজ্ঞতা আমাকে এ সবই জানান দিচ্ছে। এছাড়া আমি নিজেই তো দেশের বাইরে থাকছি অনেক দিন হতে চলল!

জীবনের জন্য, বেঁচে থাকার জন্য, ভাগ্য বদলের জন্য আমাদের অনেককেই বিদেশে থাকতে হয়।

পৃথিবী সম্পর্কে জানার জন্য, ঘোরার জন্য কিংবা স্রেফ জ্ঞান আহরণের জন্য নিজ দেশের বাইরে গিয়ে কিছু সময় থাকাটা ঠিক আছে; তবে একটা লম্বা সময় কিংবা জীবনের বেশিরভাগ সময় এই পৃথিবীর কাউকেই যেন তাদের নিজ দেশ, আত্মীয়-স্বজন কিংবা প্রিয় মানুষগুলোকে ফেলে প্রবাসে থাকতে না হয়!

দূর থেকে বিদেশের জীবন যতটা আলোঝলমলে মনে হয়, বাস্তবতা জানান দিচ্ছে, বিদেশের জীবন ঠিক ততটাই বিবর্ণ!

আমিনুল ইসলামের ফেসবুক থেকে

বিবার্তা/মৌসুমী/হুমায়ুন
সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com