সার্চ ইংলিশ গ্রুপের জান্নাত কাদের চৌধুরীর সাফল্যের কথা
প্রকাশ : ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ১৭:০০
সার্চ ইংলিশ গ্রুপের জান্নাত কাদের চৌধুরীর সাফল্যের কথা
উজ্জ্বল এ গমেজ
প্রিন্ট অ-অ+

২০১৭ সালের ১৩ অক্টোবর ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব)-এর প্রতিষ্ঠাতা-সভাপতি রাজীব আহমেদের সাথে দেখা করতে যান জান্নাত কাদের চৌধুরী।


বিবিএ পাস করার পরেও ইরেজিতে ভালো না হওয়ার কারণে চাকরি মিলেছে না - কথাটা বলতেই রাজীব আহমেদ তাকে বললেন, ''আগামী স্পোকেন ওয়ার্কশপে আপনি টানা এক ঘণ্টা ইংরেজিতে কথা বলতে পারবেন।'' তখন জান্নাতের ইংরেজির অবস্থা এত খারাপ ছিল যে তিনি বলেছিলেন, আমার পক্ষে ইংরেজিতে এক ঘণ্টা কথা বলা অসম্ভব।


ওই অবস্থায় বিরামহীন লেগে থেকে নিজের একান্ত চেষ্টায় সেই জান্নাত কাদের চৌধুরী এখন নিয়মিত অনলাইনে ইংরেজি শিক্ষার প্লাটফর্ম সার্চ ইংলিশ গ্রুপের পুরানো ও নতুন সদস্যদের ওয়ার্কশপ এবং ডিজিটাল স্কিলস ফর বাংলাদেশ গ্রুপের স্টার্টআপ ওয়ার্কশপ পরিচালনা করছেন। একটানা মন দিয়ে কেউ চেষ্টা করে গেলে এক বছরে ক হতে পারে, জান্নাত তারই দৃষ্টান্ত।


বলছিলাম সার্চ ইংলিশ গ্রুপের এক আত্মপ্রত্যয়ী সংগ্রামী ছাত্রী জান্নাত কাদের চৌধুরীর কথা।


সম্প্রতি রাজধানীর ধানমন্ডিতে সার্চ ইংলিশ গ্রুপের কার্যালয়ে আড্ডা জমে জান্নাতের সঙ্গে। কথায় কথায় বেরিয়ে এলো তার সার্চ ইংলিশ গ্রুপের সাথে পরিচয়, আলাপ, এক বছরের পথচলার নানান ঘটনার কথা।



২০১৭ সালে বিবিএ পাস করার পর বিভিন্ন জায়গায় ইন্টারভিউ দিতে যান জান্নাত। কিন্তু কোথাও থেকে কোনো পজিটিভ রেজাল্ট আসছিল না। কারণ, তিনি ইংরেজিতে কথা বলার কলাকৌশল জানতেন না। তাই ইন্টারভিউ বোর্ডে ইংরেজিতে কিছুই বলতে পারেননি। এমনকি লিখিত পরীক্ষায়ও কিছু লিখতে পারেননি।


জান্নাত বলেন, একদিন ফেসবুকে ব্রাউজ করছিলাম তখন সার্চ ইংলিশের কয়েকটা ইংরেজি পোস্ট দেখি। ভাবলাম, ফেসুবকে এরকম তো কত গ্রুপই তো আছে! এগুলো মনে হয় ভুয়া। পরে সার্চ ইংলিশ গ্রুপের সদস্য হয়ে পোস্টগুলো ধারাবাহিকভাবে পড়তে শুরু করলাম। সেখানে সদস্যদের ইমপ্রুভমেন্ট পোস্টগুলো দেখলাম। তখন কিছুটা অবাক হলাম। পড়ে দেখি, বেশ ভালোই লাগছে। কৌতুহলী হয়ে আরও পোস্ট পড়লাম। দেখি এখানে একজন মেন্টর আছেন। প্রতিদিন একটু একটু করে গ্রুপের সদস্যদের তিনি দিকনির্দেশনা দেন, গাইড করেন। ওই গাইডলাইনগুলো কিছুদিন অনুসরণ করতে থাকি। গ্রুপের মেন্টর শ্রদ্ধেয় রাজীব আহমেদ স্যারের সব পোস্টগুলো মনোযোগ দিয়ে বারবার পড়েছি।


শুরুতে জান্নাত শুধুই দেখতেন কীভাবে সদস্যরা প্রতিদিনের সাধারণ ঘটনাকে নিয়ে এখানে পোস্ট দেন। জান্নাত সেগুলো পড়তেন। এসময় তিনি আরও জানতে পারেন, সার্চ ইংলিশের অনলাইনে ওয়ার্কশপের ব্যবস্থা আছে। তখন গ্রুপের মেন্টর রাজীব আহমেদের সাথে ফোনে যোগাযোগ করেন। তিনি জান্নাতকে বলেন, আপনি প্রথম ওয়ার্কশপটা করেন। ভাল লাগলে পরেরটা করেন।



প্রথম ওয়ার্কশপ করেই ভালো লেগে যায় তার। পরেরটা করার জন্য রাজীব স্যারকে ফোন করলে ই-ক্যাবের অফিসে গিয়ে দেখা করার কথা বলেন। জান্নাত দেখা করতে গিয়ে নিজের জীবনের চাকরির তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা রাজীব স্যারের কাছে শেয়ার করেন। তখন স্যার তাকে শুধু সাতদিন পোস্টে কমেন্ট করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, আপনি আগামী ৭ দিনের মধ্যেই ইংলিশে কথা বলতে পারবেন। কথামতো জান্নাত আন্তরিকভাবে তা পালন করেন। এর ফলও পেয়ে যান সাতদিনেই। নিজের মধ্যে অনেক পরিবর্তন আসে।


জান্নাত বলেন, আমি প্রথমে পোস্টে শুধু লাইক আর কমেন্ট করেছি। পরে নিজের মধ্যে একটু চেঞ্জ লক্ষ্য করি। ৩০ দিন পরে নিজের দুর্বলতাগুলো আস্তে আস্তে বুঝতে চেষ্টা করি। এরপরে নিজে নিজে প্রতিদিনকার ঘটে যাওয়া অভিজ্ঞতাগুলো ছোট ছোট পোস্টে শেয়ার করি। এভাবে আস্তে আস্তে সাহস বাড়তে থাকে। অনলাইনে প্রতিদিন আড্ডা হয়। সবাই নিজের ভাষায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে থাকেন। আর পোস্টে সবাই কমেন্ট করে উৎসাহ দেন। এছাড়াও মাঝে মাঝে ওয়ার্কশপের অংশগ্রহণ করেছি। এভাবে একটু একটু করে ইংলিশে বলা ও লেখায় আত্মবিশ্বাস বাড়তে থাকে। এখন নিয়মিত সার্চ ইংলিশ গ্রুপের সদস্যদের ইংলিশে স্পোকেন ওয়ার্কশপ এবং ডিজিটাল স্কিলস ফর বাংলাদেশ গ্রুপের স্টার্টআপ ওয়ার্কশপ পরিচালনা করছি।



জান্নাত এই সাফল্যের সব কৃতিত্ব দিতে চান মেন্টর রাজীব স্যারকে। তার ভাষায়, স্যার প্রতিদিন আমাকে একটু একটু করে পরিচালনা করেছেন। দিনরাত ২৪ ঘন্টা অক্লান্ত পরিশ্রম করে আমাকে মেন্টরিং করেছেন। রুটিন করে প্রতিদিন আর সপ্তাহে আমাকে গুগল থেকে আর্টিকেল পড়তে দিতেন। প্রথমে অনেক কষ্ট হতো। এছাড়াও আমেরিকান ওয়েবসাইটগুলো থেকে বিশ্ব আইটি, স্টার্ট আপ এসব নিয়ে ১০০ এর মতো পোস্ট, নিউজ পড়তে দিয়েছেন। আমি সেগুলো পড়ে আবার ফিডব্যাক দিয়েছি। বাংলায় অনুবাদ করে গ্রুপে পোস্ট করেছি। এখন যে কোনো আর্টিকেল পড়লে সহজেই বুঝতে পারি।


গ্রুপটির বর্তমান সদস্যসংখ্যা ১৬ লাখ ৯৫ হাজারের মতো। এর মধ্যে সাড়ে ১২ লাখ সদস্য বাংলাদেশের, ১ লাখ ৩০ হাজার ভারতের এবং বাকিরা বিশ্বের অন্যান্য দেশের। প্রতিদিন প্রায় ৩০০ লাইভ ভিডিও আসছে। প্রতিদিন গ্রুপে আড়াই লক্ষ লোক যোগ দেন। ৫০০+ পোস্ট, ২০,০০০ এর মতো কমেন্ট আর ১ লাখের মতো লাইক আসে। এমন বড় পরিবারের সদস্য হতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছেন জান্নাত। শুরু থেকে দীর্ঘ এক বছরে পর্যন্ত আসতে সবাই তাকে লাইক কমেন্ট করে উৎসাহ দিয়ে, ভুলগুলো বুঝতে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করার জন্য এই লেখার মধ্য দিয়ে সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি।


জীবনে স্বপ্ন ছিল একটা চাকরি করে সাধারণভাবে জীবনটা যাপন করবেন জান্নাত। তার এখন আর চাকরির জন্য কোনো আক্ষেপ নেই। এখন সার্চ ইংলিশের সাথে কাজ করে নিজেকে কিভাবে আরো বেশি দক্ষ করা যায় সেই চেষ্টা করছেন তিনি। স্টার্টআপ নিয়ে প্রতিনিয়ত পড়াশুনা করছেন, যাতে করে এই সেক্টরে নিজেকে অনেক দক্ষ করে তুলতে পারেন। স্বপ্ন দেখেন দেশের স্টার্টআপগুলোকে কিভাবে গাইড করে আরো উপরের দিকে নিয়ে যাওয়া যায় এবং মেন্টর হিসেবে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।


বিবার্তা/উজ্জ্বল/হুমায়ুন/মৌসুমী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com