শিরোনাম
কৌতূহলের অদম্য শক্তিতে খুলেছে যার সাফল্যদুয়ার: ড. হুমায়রা ফেরদৌস
প্রকাশ : ৩০ অক্টোবর ২০২৩, ২১:২১
কৌতূহলের অদম্য শক্তিতে খুলেছে যার সাফল্যদুয়ার: ড. হুমায়রা ফেরদৌস
সামিনা বিপাশা
প্রিন্ট অ-অ+

কৌতূহলী মন নিয়ে সদা ব্যাকুল ও জিজ্ঞাসু একটি ছোট্ট মেয়ে— যার চোখ বাজপাখির মতো তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে দেখতে চেয়েছে জগতকে, গভীরভাবে উপলব্ধি করতে চেয়েছে আবিষ্কৃত-অনাবিষ্কৃত সকল রহস্যকে, সেই মেয়েটি— জানা ও শেখার প্রতিটি দুয়ার খুলতে খুলতে অজান্তেই খুলেছিল নিজ সাফল্যের স্বপ্নদুয়ার। বাস্তবিক অর্থে সে কিছু হতে চায়নি, কারো মতো নয়, কোন কিছুই নয়, সে চেয়েছিল শুধুই নিজেকে আবিষ্কার করতে, অন্তর্গত শক্তিকে উদ্ভাসিত করে স্বপ্ন-সাফল্যে লিখে নিতে নিজ নাম, দক্ষতায়-কর্মে ও যোগ্যতায় নিজেকে বিস্তৃত করতে— যতদূর আসলে যেতে পারে তার প্রাণ। নামটি তার ড. হুমায়রা ফেরদৌস।



আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি) এর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ড. হুমায়রা ফেরদৌস। একইসাথে তিনি এআইইউবির গবেষণা ইন্সটিটিউট ড. আনোয়ারুল আবেদীন ইনস্টিটিউট অব ইনোভেশন এর উপপরিচালক। পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন ইউনিভার্সিটি অব অসলো অর্থাৎ অসলো বিশ্ববিদ্যালয় (ইউআইইউ) , নরওয়ে থেকে। স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগ থেকে। সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত ছিলেন জীবনের বেশ অনেকটা সময়, সাংবাদিকতায় ফেলোশিপ পেয়েছেন দুবার। জার্মানি গিয়েছেন ফেলোশিপ করতে। বেশ অনেকটা সময় ধরে কাজ করছেন উদ্যোক্তা হিসেবে। একইসাথে তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল ফিজিক্স এসোসিয়েশন (বিএমপিএ) এ তৃতীয়বারের মতো পাবলিকেশন সেক্রেটারি হিসেবে আছেন।



উত্তরবঙ্গের মেয়ে হুমায়রার বেড়ে ওঠা ঢাকায়। রামপুরায় খালা ও খালুর কাছে কেটেছে শৈশব৷ মা পড়াশোনার জন্য থাইল্যান্ডে গেলে দেড় বছর বয়সে খালার কাছে আসেন হুমায়রা। খালু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে চাকরি করতেন, তার চাকরিসূত্রে ছোটোবেলাতে তিন বছর সিঙ্গাপুরে কেটেছে হুমায়রার। ক্লাস থ্রিতে যখন পড়েন তখন সিঙ্গাপুর যান। পরবর্তীতে আবার দেশে ফেরেন। তবে সিঙ্গাপুরের তিন বছর হুমায়রাকে অনেককিছু শিখিয়েছে। শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা, নিয়ম-কানুন এসব কিছু ছোটোবেলা থেকেই হুমায়রার মধ্যে প্রবলভাবে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে গড়ে ওঠে। খালা কলেজে বাংলায় অধ্যাপনা করতেন। মূলত খালার চাকরিসূত্রেই কলোনিতে শৈশবের সোনারঙা দিনগুলো আনন্দে উচ্ছ্বলতায় ভেসেছে তার। কলোনির ১৩ বছরের জীবনে জীবনকে চেনার জানার এক আশ্চর্য সুযোগ ঘটেছিল হুমায়রার। সাইকেলে চেপে ঘুরে বেড়ানো উদ্দাম সময়, ঢাকার শহুরে জীবনে থেকেও এক অন্যরকম বেড়ে ওঠা, কলোনিতেই বিভিন্ন পেশার মানুষকে খুব কাছ থেকে চেনার সুযোগ ঘটেছিল। নিজের রামপুরার বাসার কেয়ারটেকার, বাড়ির সামনের ফলবিক্রেতা, ঠেলাগাড়িচালকসহ সকল পেশাজীবীর পেশাজীবন খুব টানত হুমায়রাকে। এছাড়াও, ছোট থেকেই হুমায়রার বাসার পরিবেশটা ছিল খুব স্বাধীন ও পরিবারের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক।



ড. হুমায়রার ভাষায় বলতে গেলে বিষয়টা এমন, ইচ এন্ড এভরি প্রফেশন অ্যাট্রাক্টস মি। আই ওয়াজ ভেরি মাচ কিউরিয়াস। ছোটবেলা থেকেই পড়ুয়া ছিলাম। কিন্তু সেটা পাঠ্যপুস্তক নয়। পাঠ্যপুস্তকের বাইরের বই পড়ার প্রতি বেশি আগ্রহ ছিল। শুধু বই নয়, বাইরের পৃথিবীর প্রতি গভীর আকর্ষণ। ধরুন, একজন জেলে। সে কীভাবে মাছ ধরছে, মাছ ধরার প্রক্রিয়া, কীভাবে বিক্রি করবে, কীভাবে কাটছে জেলের জীবন সবই জানার চেষ্টা থাকত আমার। শুধু জেলে নয়, প্রত্যেকটা পেশার মানুষকে জানার আগ্রহ থেকে আমি মানুষের সাথে মিশতাম বেশি। কৌতূহলী মন হুমায়রার জ্ঞানকে যেমন প্রসারিত করেছিল তেমনি তার যোগাযোগের দক্ষতাকে বাড়িয়ে দিয়েছিল।



হুমায়রা পড়াশোনা করেছেন, হলিক্রস স্কুল এন্ড কলেজ থেকে। এসএসসি পাশ করেছেন হলিক্রস স্কুল থেকে ও এইচএসসি পাশ করেছেন হলিক্রস কলেজ থেকে। হুমায়রা বলেন, হলিক্রসে পড়ার সময় আমি আসলে কখন পড়ছি কখনই বা অন্যান্য সাংস্কৃতিক ও খেলাসহ অন্যান্য কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলাম আমি নিজেও জানি না। কিন্তু সব করতাম, হলদে পাখি, দেয়ালিকা লিখন, বেসবল খেলা, গার্লস গাইড, স্কাউট, কুইজ প্রতিযোগিতা, বিতর্ক সবই হত স্কুলে এবং কলেজে। পাঠ্যপুস্তকের বাইরের পড়াশোনার প্রতি বেশি আগ্রহ থাকায় কুইজ ও বির্তক প্রতিযোগিতায় আমার দল বরাবরই ভালো করত। একাধিকবার আনবিটেন চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ হয়েছেন।


ক্লাস এইটে থাকতে জন্ডিস হয় হুমায়রার। ফলে সাইন্স পড়বেন কি না সেটা নিয়েই বিভ্রান্ত ছিলেন, শেষপর্যন্ত পদার্থবিদ্যাই সবচেয়ে পছন্দের বিষয় হয়েছিল হুমায়রার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময় তিনি খুব সচেতনভাবে পদার্থবিদ্যাকে পড়ার বিষয় হিসেবে বেছে নেন। হুমায়রা সবসময়ই নিজে প্রাধান্য দিয়েছেন যে বিষয়টিতে তা হলো, 'আমার এই বিষয়টি ভালো লাগে', কখনোই 'আমি এই বিষয়টিতে ভালো' সেটিকে মুখ্য করেননি। ফলে সাফল্যের পথও বরাবরই মসৃণ ছিল। ভালো লাগার যেকোন বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে সে জায়গাটিতে সফল হওয়ার চেষ্টা করেছেন হুমায়রা। আর সাফল্যও তার মুঠোবন্দি হয়েছে অন্যায়াসেই।



স্টার মার্কস পেয়ে সাফল্যের সাথে এসএসসি ও এইচএসসিতে উত্তীর্ণ হন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর জীবন ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং। তখন শ্যাওড়াপাড়াতে থাকতেন। পদার্থবিদ্যায় পড়ার কারণে, পড়ার আলাদা চাপ, ল্যাব, টিউশনি সেরে বাসায় ফেরা সবমিলিয়ে খুব কঠিন সময় গিয়েছে হুমায়রার। ২০০০ সাল পরবর্তী সময়টাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস সার্ভিস ততটা উন্নত হয়নি যতটা এখনকার সময়ে আছে। ফলে হুমায়রাকে যোগাযোগ ব্যবস্থার সমস্যার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনটি অতিবাহিত করতে হয়েছে। তবে সেটা তার গতিকে না কমিয়ে বরং বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু হুমায়রা সবসময়ই জীবনকে সহজ করে দেখার এবং সহজবোধ্য করার চেষ্টা করেছেন। জীবনকে সহজ করে দেখলেও কঠিন বলে যা কিছুকে ধরা হয়, সেটার প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট হন হুমায়রা।


হুমায়রা সবসময়ই নিজের পড়া নিজেই করতেন, প্রাইভেট পড়তেন খুব কম, নিজের পড়াটা নিজে বুঝে নেওয়াটা তার কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য ছিল। এমনকি, সে নিজে এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার পরপরই এইচএসসির শিক্ষার্থী পড়াতে শুরু করেন। কলেজ থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময়ে মূলত স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার চিন্তাটাই হুমায়রাকে এভাবে গড়ে তুলেছিল।



বিশ্ববিদ্যালয়ের থার্ড ইয়ারে যখন পড়েন তখন হুমায়রা যায়যায়দিনের ক্রীড়া বিভাগে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পান। সাইন্স পড়তেন বলে অনেকেই ভাবত ও কীভাবে ক্রীড়া বিভাগে কাজ করবে। এদিকে, ল্যাব করে ফুলটাইম চাকরি করা সম্ভব ছিল না। তাই সাব এডিটর হিসেবে পার্টটাইম কাজে নিযুক্ত হন। হুমায়রা বলেন, পিএইচডি করার সময়ও আমি দেখেছি যে সাইন্স পড়ছে সে কেন মাউথ অর্গ্যান বাজাতে পারবে না? আমাদের দেশে সাইন্স পড়লে সে যেন একটা চক্রের মধ্যে, গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ হয়ে যায়। কিন্তু কেন? পদার্থবিদ্যা জানাটাই বরং ক্রীড়া বিভাগে কাজ করাটা সহজ করেছিল আমার। ক্রিকেটে পদার্থবিদ্যার অনেক বিষয়, টেকনিক আছে। জ্ঞানকে আমরা সীমাবদ্ধ করে ফেলছি, শিক্ষার্থীর খুব প্রাথমিক পর্যায়েই আমরা তার জ্ঞানকে বিভাজিত করে দিচ্ছি। এই যে স্কুলে পড়া অবস্থাতেই আমাদের দেশে সাইন্স, কমার্স, আর্টস এই বিভাজনটা হয়ে যায়, যার ফলে তার দক্ষতা অর্জনের সুযোগটা সংকীর্ণ হয়ে যায়।


ড. হুমায়রা ফেরদৌস বলেন, পড়া ও চাকরি একসাথে চালিয়ে যাওয়ায় সেসময় আমার সবচেয়ে বড় অর্জন ছিল, অনেকগুলো কাজ একসাথে করার ট্রেনিং পাওয়া। বরং শুধু পদার্থবিদ্যা পড়লেই আমি মানসিকভাবে এগজস্টেড হয়ে যেতাম। পড়ার পাশাপাশি চাকরি করে আমার ম্যানেজমেন্ট স্কিল উন্নত হয়েছে, একসাথে অনেকগুলো কাজ কীভাবে করা যায় সেই ট্রেনিংটা আমার সেসময় হয়েছে। অফিসিয়াললি ১৭ বছরের কর্মজীবন চলছে আমার, আমি আসলে জানিই না পরনির্ভরশীলতা কী, স্বনির্ভর জীবন আমাকে বরাবরই আত্মবিশ্বাসী করেছে। যায়যায়দিনে কাজ করা অবস্থাতেই আমি আবার সমকালেও কাজ শুরু করি। এরপর ডেইলি স্টারে কাজ শুরু করি। ২০০৮ সালে ডেইলি স্টারে নিযুক্ত হন ড. হুমায়রা ফেরদৌস। তখন মাস্টার্সে পড়ছেন। ফার্স্ট ক্লাস পেয়ে স্নাতক সম্পন্ন হয়। এর আগে, নিউজ নেটওয়ার্কে ফেলোশিপ পান, ২০ জন নারী সাংবাদিক এই ফেলোশিপ পায়, তার মধ্যে হুমায়রা ছিলেন একজন। ডেইলি স্টারে কাজ করার সময় আরেকটি ফেলোশিপ পেয়ে জার্মানি যান, 'ফ্রিডম এন্ড রেসপন্সিবিলিটি অন মিডিয়া'- এর উপর ফেলোশিপ করেন।


বেকারত্ব প্রসঙ্গে ড. হুমায়রা বলেন, আমি পড়া শেষে চাকরিতে যখন ঢুকবো তখন যেখানে অ্যাপ্লাই করেছি আমার হয়েছে। অথচ, আমি এটা শুনেছি অনেকবার এবং এখনও শুনি একদল বলছে, চাকরি পাচ্ছি না একইসাথে আরেক দল বলছে লোক পাচ্ছি না। এর মধ্যে বিষয়টা আসলে কী? বিষয়টা হচ্ছে, যে যেই বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করছে সেই বিষয়টি কর্মক্ষেত্র চাইছে না, একইসাথে কর্মক্ষেত্র যে দক্ষতা চাইছে সে বিষয়টি প্রার্থীর মধ্যে নেই। এখানে একটা বিশাল ফাঁক থেকে যায়। একইসাথে হুমায়রা প্রত্যাশা করেন বাংলাদেশে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ এবং দায়িত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকা উচিত। তিনি এ বিষয়ে তার পিএইচডি করার সময়ের জীবনের কথা স্মরণ করে বলেন, সেখানে শিক্ষকরা শিক্ষার্থী সমস্যা-প্রয়োজন বুঝছে, শিক্ষার্থীও শিক্ষককে ততটাই সম্মান করে, বাংলাদেশে শিক্ষার্থী শিক্ষককে সেই সময়টা দেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করছে না, একইসাথে শিক্ষকও সেই এ্যাফোর্ট দিচ্ছেন না। বিষয়টা দ্বিপাক্ষিক হওয়া খুব জরুরি।


পিএইচডি শেষে নরওয়েতে না থেকে দেশে ফিরে এলেন কেন সেই প্রশ্নের জবাবে ড. হুমায়রা বলেন, মানুষের সামাজিক জীবনটাও খুব জরুরি। আমার কখনোই প্রবাসে থাকতে ইচ্ছে হয়নি। দেশের জীবনটাও জরুরি বলে আমি মনে করি। একইসাথে দেশকেও কিছু দেওয়ার আছে আমার। যেহেতু বায়োমেডিকেল ফিজিক্স আমার পড়ার বিষয়, আমি কাজ করতে চাই স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে। একইসাথে উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের কাজকে বিস্তৃত করতে চান হুমায়রা।



ড. হুমায়রা ফেরদৌস সাফল্য অর্জন এবং সেই সাফল্য ধরে রাখা প্রসঙ্গে বলেন, নিজেকে ক্রমাগত উন্নত করার চেষ্টা করা চাই, নতুন প্রযুক্তির সাথে নিজেকে যুক্ত করা চাই, কর্মক্ষেত্রে কীভাবে নিজের যোগ্যতা বাড়ানো যায় নিজের জ্ঞান-দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য সময়-সুযোগ এমনকি অর্থ প্রয়োগ করতে হবে। বিশেষত মেয়েদের কথা বলতে চাই, মেয়েরা একটা সময়ের পর নিজেদের জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়ানো চেষ্টাটা বন্ধ করে দেয়। এই যে মেয়েরা নেতৃত্বের দিক থেকে পিছিয়ে আছে তার কারণ এটাই যে, তাদের একাডেমিক রেজাল্ট ভালো হলেও একটা পর্যায়ে তারা লার্নিং স্টপ করে দেয়, ফলে তার দক্ষতা আরো বাড়ে না, সে পিছিয়ে পড়ে। ছেলেদের ক্ষেত্রে বাইরের পৃথিবীতে যুক্ত হওয়ার সুযোগটা বেশি থাকে, তাই বলে কি মেয়েরা নিজেরাই তাদের জানার-শেখার সুযোগটাকে সংকীর্ণ করবে? সবসময়ই মানতে হবে, জ্ঞানই শক্তি। জ্ঞান এমনিতেই আসবে না, শ্রম দিয়ে অর্জন করতে হবে। আপনার জ্ঞান ও দক্ষতা আপনার চলার পথকে বিস্তৃত করবে। একইসাথে যদি কেউ কিছু না পারে তাকে বলতে হবে, আমি পারছি না। এটা বললেই তার শেখার সুযোগ তৈরি হবে, চুপ করে থাকলে কেউ শেখাবে তাকে? আর না শিখতে পারলে পিছিয়ে যেতে হবে। পিছিয়ে যেতে কে চায়? একইসাথে মেয়েদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা অর্জন করতে হবে এবং সিদ্ধান্ত ভুল হলে সেটা থেকে শিখতে হবে এবং স্বীকার করতে হবে। সে যদি জ্ঞানে, চিন্তায় ও দক্ষতায় নিজেকে উন্নত করতে না পারে তাহলে তার সিদ্ধান্ত পারিবারিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলে গ্রহণযোগ্য হবে কেন? অতএব, সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে এবং দায় নিতে হবে, একইসাথে দায়িত্বশীল হতে হবে, তবেই সম্ভব সাফল্যের হাসিটি নিজের মাঝে খুঁজে পাওয়া।


বিবার্তা/এসবি/এমজে

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com