
রাজধানীর মিরপুর ১ নম্বর সেকশনে বেসরকারি সংস্থা ‘রাড্ডা এমসিএইচ’ এর কার্যালয় রাতের আঁধারে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি অভিযোগ করছে, হামলার সময় তাদের অফিসের সামগ্রীসহ টিকাদানের প্রচুর সামগ্রী লুটপাট হয়েছে। এ বিষয়ে শাহ আলী থানায় একটি মামলা করেছেন রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার।
মধ্যরাতের ওই হামলায় ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। হামলাকারীরা জমিটির সামনে ‘সমমনা দোকানদার সমিতি লি.’-এর সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়ে চলে যায়।
মিরপুরের একজন ব্যবসায়ী বলেন, “আসলে রাড্ডার ওই ১০ কাঠা জমি নিয়ে কিছু সমস্যা রয়েছে। সে কারণে স্থানীয় বিএনপি নেতা হানিফ মিয়ার নেতৃত্বে ওই জমি দখলের জন্য হামলা চালানো হয়।”
শাহ আলী থানার ওসি বলছেন, মামলায় হানিফ মিয়ার নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় ২০০/২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
আসামিদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, চুরি, হুমকি এবং দেড় কোটি টাকার বেশি ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়েছে।
এদিকে সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার এই ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে হামলাকারীদের শাস্তি দাবি করেছেন।
তিনি বলেন, মিরপুর ১ নম্বরে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার একটি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, যা সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে গরিব, অসহায় মা ও শিশুদের জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতি সেবা ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিয়ে আসছে।
“বৃহস্বাপতিবাার দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে এই সেন্টারে যা ঘটেছে তা নিছক কোনো ডাকাতি বা হামলা নয়, এটি একটি সুপরিকল্পিত সন্ত্রাসী কার্যক্রম। সন্ত্রাসীদের আক্রমণে সেন্টারটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।”
তিনি বলেন, “দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত ২৫০ জনের অধিক একটি সন্ত্রাসী দল নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে এই স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এই বর্বর হামলায় দেড় কোটি টাকার সম্পদ ধ্বংস হয়েছে এবং দীর্ঘদিনের সেবা কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।”
জানতে চাইলে মিরপুরের বিএনপি নেতা হানিফ মিয়া বলেন, “আমি এ ঘটনায় জড়িতই না। আমি জানিই না, সেখানে কী হয়েছে। আমার নাম আবার কে দিল মামলায়?”
এ বিষয়ে থানায় খোঁজ নেবেন বলে জানান তিনি।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]