
ঢাকায় আজ আর নেই আগের মতো চিরচেনা যানজট। হর্নের শব্দ আর দৌড়ঝাঁপের শহরে নীরবতা। ঈদ আনন্দের মতো ট্রলি ব্যাগ হাতে পরিবার, শিশুদের কাঁধে তুলে নেওয়া বাবা, আর তরুণদের চোখে এক ধরনের দৃঢ় প্রত্যয় এই দৃশ্য এখন রাজধানীর বাসটার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে দেখা গেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ। ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানের পর প্রথম জাতীয় নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের দায়বদ্ধতাই মানুষকে ফিরিয়ে নিচ্ছে নিজ নিজ এলাকায়। ফলে ফাঁকা হয়ে পড়ছে ঢাকা।
সরেজমিনে শ্যামলী, কল্যাণপুর , গাবতলী,মহাখালী, সায়েদাবাদ ও বাসটার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে এলাকামুখী যাত্রীদের চাপ। একই চিত্র কমলাপুর, বিমান বন্দর রেলস্টেশন ও সদরঘাট লঞ্চঘাটেও। বিশেষ করে তরুণ ও নতুন ভোটারদের উপস্থিতি বেশি চোখে পড়েছে।
এবারের নির্বাচনকে অনেক ভোটারই দেখছেন কেবল একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া হিসেবে নয়; বরং দেশ পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে। ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানের অভিজ্ঞতা মানুষের রাজনৈতিক চেতনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তরুণদের কণ্ঠে শোনা যাচ্ছে—“ভোট নষ্ট করা যাবে না।” বন্ধুবান্ধব, পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রার্থীদের খোঁজখবর নেওয়ার প্রবণতাও বেড়েছে।
নির্বাচনী প্রচারের শেষ প্রান্তে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও কর্মী–সমর্থকেরা। একই সঙ্গে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও মাঠে নামছে প্রস্তুতি নিয়ে।
সরকার নির্বাচন উপলক্ষ্যে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এর সঙ্গে ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারির সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় চাকরিজীবীরা পাচ্ছেন টানা ছুটি। এতে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি পরিবার পরিজনের সঙ্গে নিজ এলাকায় সময় কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন অনেকে।
জয়পুরহাট যাওয়ার জন্য ওজায়ের বলেন, প্রথম ভোট দিতে নিজ এলাকা যাচ্ছি। পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেব।
নির্বাচনে ভোট দিতে নোয়াখালী যাচ্ছিলেন মামুন নামের এক শিক্ষার্থী। তিনি বলেন,গণ–অভ্যুত্থান–পরবর্তী সময়ে ভোট নষ্ট করা যাবে না। আমার বন্ধুরাও সবাই ভোট দিতে বাড়ি যাচ্ছে। আমাদের বিশ্বাস, সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একটি ভালো নির্বাচন উপহার দেবে।
পরিবহণসংশ্লিষ্টদের ভাষায়, গতকাল সন্ধ্যা থেকে যাত্রীর চাপ বাড়তে শুরু করেছে। সোমবার থেকে এই চাপ আরও বাড়বে। মহাখালী বাসটার্মিনাল সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম বাবুল বলেন, এবারের নির্বাচনে সরকারি ছুটি দীর্ঘ হওয়ায় যাত্রীর চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি।
রাজধানী ছাড়ার এই স্রোত তাই শুধু শহর ফাঁকা হওয়ার গল্প নয়; এটি একটি নাগরিক জাগরণের গল্প। মানুষ ফিরছেন নিজের এলাকায়, নিজের কেন্দ্রে। একটি ভোটই আগামী দিনের বাংলাদেশের রূপরেখা আঁকবে।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]