বাড্ডায় ১৩ আগ্নেয়াস্ত্রসহ সুব্রত বাইনের সহযোগী গ্রেফতার
প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০:৫৮
বাড্ডায় ১৩ আগ্নেয়াস্ত্রসহ সুব্রত বাইনের সহযোগী গ্রেফতার
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

রাজধানীর উত্তর বাড্ডার পোস্ট অফিস পাড়ায় একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে দেশি-বিদেশি অস্ত্র ও গুলির চালান জব্দ করেছে যৌথ বাহিনী। এ সময় মেহেদী হাসান বিপু নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তার বাসা থেকে বিভিন্ন ধরনের ১৩টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৩৯৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।


সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলছে, বাড্ডার সাইদ নামে আরও একজনের বিপুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। বিপুর বিরুদ্ধে বাড্ডা, গুলশান ও বারিধারায় চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে।


এছাড়া সন্ত্রাসী মেহেদি কলিন্স ও গোলাম মর্তুজা বাবুও তার ঘনিষ্ঠ বলে আরেক সূত্র জানায়। এসব অস্ত্র ভাড়ায় বিভিন্ন সন্ত্রাসীর কাছে গিয়েছে কিনা তা তদন্ত করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।


এদিকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে একের পর এক অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার হচ্ছে। তপশিল ঘোষণার পর থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যৌথ বাহিনীর অভিযানে ২০৪টি অস্ত্র ও এক হাজার ৯৬৫টি গোলাবারুদ জব্দ করা হয়।


গতকাল শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বাড্ডায় মেহেদী হাসান বিপুর বাসায় অভিযান চালায় সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে একটি যৌথ দল। ওই বাসা থেকে ৭টি পিস্তল, ৩টি রিভলবার, ২টি এয়ারগান, ১টি রাইফেল, ২টি রাইফেল ম্যাগাজিন, ৮টি পিস্তল ম্যাগাজিন, ৩৯৪ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ৩০ পিস কার্তুজ, ২ সহস্রাধিক এয়ারগান প্যালেটস, ১টি দূরবীন, ৪টি পিস্তল গ্রিপ সাইট কভার, ৩টি চাইনিজ কুড়াল, ১টি বিদেশি ছুরি, ২টি ওয়াকিটকি সেট, ১টি ওয়াকিটকি ব্যাটারি এবং চার্জারসহ ১টি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়। অভিযানে বিপুকে গ্রেফতার করা হয়।


বাড্ডা থানার পরিদর্শক (অপারেশন্স) আজহারুল ইসলাম বলেন, বিপুকে গ্রেফতারের ঘটনায় মামলার করার প্রস্তুতি চলছে। শনিবার তাকে আদালতে তোলা হবে।


আইএসপিআর জানায়, বিপু আসন্ন নির্বাচনী পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক গোপনে মজুত করে রেখেছেন।


কে এই সন্ত্রাসী বিপু
পুলিশ সূত্র জানায়, শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের হয়ে রামপুরা,বনশ্রী, বাড্ডা, ভাটারা, বারিধারা ও গুলশান এলাকার অপরাধজগৎ নিয়ন্ত্রণ করে আসছিলেন মেহেদী হাসান বিপু। মেহেদী ও তার সহযোগীদের কাছে আরও অস্ত্র রয়েছে। অস্ত্রগুলো মূলত সুব্রত বাইন ও আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী মোল্লা মাসুদের। গত বছরের মে মাসে কুষ্টিয়া শহরে যৌথ বাহিনী অভিযানে সুব্রত বাইন ও মোল্লা মাসুদকে গ্রেফতার করা হয়। পরে সুব্রত বাইনের হয়ে অপরাধজগৎ নিয়ন্ত্রণ করে আসছিলেন মেহেদী হাসান।


পুলিশ জানায়, মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গ্রেফতার মেহেদী হাসান সুব্রত বাইনের সহযোগী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাড্ডা, ভাটারাসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অস্ত্র-গোলাবারুদ বিক্রি করে আসছিলেন।


সূত্র বলছে, সুব্রত বাইনের সহযোগী হিসেবে মেহেদী হাসান, ওয়াসির মাহমুদ সাঈদ ওরফে বড় সাঈদ, গোলাম মর্তুজা বাবু ওরফে মধু বাবু, সোহেল ওরফে কান্নি সোহেল কাজ করেন। গত এক বছরে এরা একাধিক খুনের ঘটনা ঘটিয়েছেন। এর মধ্যে গত বছরের ২০ মার্চ গুলশানের পুলিশ প্লাজার সামনে ইন্টারনেট সংযোগের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সুমন নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ওয়াসির মাহমুদ সাঈদকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের দুই মাস পর জামিনে বেরিয়ে আসেন সাঈদ।


মেহেদী হাসানের সঙ্গে বাড্ডা ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. জাহাঙ্গীর আলম ও তার ভাই আলমগীরেরও ঘনিষ্ঠতা রয়েছে বলে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে।


পুলিশ সূত্র জানায়, ৫ আগস্টের পর প্রকাশ্যে আসেন সুব্রত বাইন। প্রতিবেশী দেশ থেকে বেশ কিছু অস্ত্র সংগ্রহ করেন। পরে তিনি এলাকায় আধিপত্য বিস্তার শুরু করেন। মেরুল বাড্ডার আবাসিক এলাকার ভেতরে থাকা একটি মাছের আড়ত থেকেই দিনে কয়েক লাখ টাকা চাঁদা তুলতেন সুব্রত বাইন ও তার সহযোগীরা। সুব্রত বাইন গ্রেফতারের পর মাছের আড়তটি নিয়ন্ত্রণ করতেন মেহেদী হাসান। এ ছাড়া গাড়ির শো রুমে, তৈরি পোশাক কারখানায়সহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি ও ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি।


এদিকে শুক্রবার সকালে সেনাবাহিনী যৌথ অভিযান পরিচালনা করে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে সন্ত্রাসী পিচ্ছি মাসুম ও তার তিন সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে। তারা হলেন–নাসির, রাজু ও নাঈম। এই অভিযানে ২টি পিস্তল, ১টি রিভলবার, ১টি ডামি পিস্তল, ৩ রাউন্ড পিস্তল এমুনিশন, ৩টি ওয়াকিটকি, মাদকদ্রব্য, নগদ অর্থ ও অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।


এছাড়া ময়মনসিংহের গফরগাঁও এলাকায় সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে বিদেশি অস্ত্রসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার ভোরে গফরগাঁও উপজেলার উঠুরি এলাকায় অভিযানে একটি পিস্তল, ১ রাউন্ড পিস্তলের গোলাবারুদ, ১টি খেলনা পিস্তল এবং দেশীয় অস্ত্র জব্দ হয়।


এদিকে বৃহস্পতিবার ভোরে শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়াতে সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। অভিযানে ১টি শটগান, ২টি রাইফেল, ১২ রাউন্ড পিস্তলের গোলাবারুদ, ৭১ রাউন্ড শটগানের গোলাবারুদ, ৫৭ রাউন্ড পয়েন্ট ২২ বোরের গোলাবারুদ, ৩টি ম্যাগাজিন এবং দেশীয় অস্ত্রসহ একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।


এর আগে ৩১ জানুয়ারি যশোরের বাঘারপাড়ায় সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে বিদেশি পিস্তল, বিস্ফোরক, গুলি ও অন্যান্য দ্রব্যসামগ্রী উদ্ধার করা হয়। অভিযানে একটি বাড়ি থেকে ৪টি বিদেশি পিস্তল, ৩৭ রাউন্ড গোলাবারুদ, ২টি ওয়্যারলেস সেট, ড্রাম ও স্টিল ট্রাঙ্কে লুকানো অবস্থায় ১০টি গ্রেনেডসদৃশ বস্তু এবং বেশ কিছু সিসিটিভি ক্যামেরা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত বিস্ফোরক সামগ্রী সেনাবাহিনীর বিশেষায়িত বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল কর্তৃক নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ অভিযানে ২০ জানুয়ারি থেকে গত ১৭ দিনে দেড় শতাধিক অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে; যার অধিকাংশই দেশি-বিদেশি পিস্তল। এছাড়া গোলাবারুদ, ককটেল ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এ পর্যন্ত সেনাবাহিনী ১০ হাজার ১৫২টি অস্ত্র ও ২ লাখ ৯১ হাজার গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে। একই সঙ্গে ২২ হাজার ২৮২ জন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতকারীকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


পুলিশের লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার হয়নি
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পুলিশের ৫ হাজার ৭৬৩টি অস্ত্র লুট হয়েছিল। এর মধ্যে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এক হাজার ৩৩১টি উদ্ধার হয়নি। এর মধ্যে ১১২টি চায়না রাইফেল, চায়না এসএমজি ৩১টি, চায়না এলএমজি ৩টি, পিস্তল ৪৫০টি এবং বোর শটগান ৩৯০টি রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের আরও বেশ কিছু অস্ত্র ও ২ লাখ ৫৭ হাজার ১৪৪ রাউন্ড গোলাবারুদের হদিস নেই।



বিবার্তা/এমবি


সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com