তল্লাশিকালে দুই পুলিশসহ ৩ জনকে কুবি ক্যাম্পাসে তুলে নিয়ে মারধর
প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৩৪
তল্লাশিকালে দুই পুলিশসহ ৩ জনকে কুবি ক্যাম্পাসে তুলে নিয়ে মারধর
কুবি প্রতিনিধি
প্রিন্ট অঅ-অ+

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) দুই শিক্ষার্থীকে পুলিশ পরিচয়ে তল্লাশির ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য ও তাঁদের এক সোর্সকে ছিনতাইকারী সন্দেহে ক্যাম্পাসে নিয়ে মারধর করেছেন শিক্ষার্থীরা। পরে তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে সোপর্দ করা হয়।


বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাত আটটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে রাত ১০টার দিকে আলোচনায় বসে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে বিষয়টির সমাধান করা হয়।


ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁরা জানান, টিউশন শেষে কুমিল্লার রেসকোর্স এলাকার একটি গলি দিয়ে ফেরার পথে পুলিশ পরিচয়ে দুই ব্যক্তি তাঁদের গতিরোধ করেন। এ সময় তল্লাশির নামে তাঁদের পকেটে হাত দেওয়া হয়। পরিচয় জানতে চাইলে তাঁদের একজন পুলিশ পরিচয় দিয়ে এক শিক্ষার্থীর শার্টের কলার ধরেন। তল্লাশি পরবর্তী কিছু না পেয়ে চলে যেতে চাইলে শিক্ষার্থীরা তাদের পরিচয় দাবি করেন। তখন তারা পুলিশ পরিচয় হিসেবে ওয়াকি-টকি ও হ্যান্ডকাফ দেখান।


শিক্ষার্থীদের দাবি, পরিচয় হিসেবে পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তাঁরা পরিচয়পত্র দেখাতে ব্যর্থ হন। এতে করে তাঁদের ছিনতাইকারী সন্দেহ করে শিক্ষার্থীরা। পরে ঈদগাহ থেকে পুলিশ লাইনস হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গামী সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার বাসে তাঁদের তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা হয়।


প্রতিবেদকের হাতে থাকা ভিডিওতে দেখা যায়, বাসটি ক্যাম্পাসে প্রবেশের পর উপস্থিত শিক্ষার্থীরা ওই তিনজনকে মারধর করেন। পরে তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়।


প্রক্টর অফিসে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস নিশ্চিত করেন, ওই তিনজনের মধ্যে দুজন কোতোয়ালী মডেল থানার পুলিশ সদস্য এবং অন্যজন পুলিশের সোর্স।


পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে তাঁরা কৌশলে ইউনিফর্মবিহীন টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। এ সময় সন্দেহভাজন হিসেবে দুই শিক্ষার্থীকে তল্লাশি করা হয়। পরে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দিলে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে আইডিকার্ড দেখতে চাইলে এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সদস্যদের তর্কবিতর্ক হয়। একপর্যায়ে সেখানে আরও শিক্ষার্থী উপস্থিত হয়ে তাঁদের ওপর চড়াও হন। পরিচয় নিশ্চিত করার সুযোগ না দিয়েই জোরপূর্বক বাসে তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে এসে মারধর করা হয় বলে দাবি করে পুলিশ সদস্যরা।


রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে প্রক্টোরিয়াল বডি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পুলিশের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়। পরে ঘটনাটিকে ভুল-বোঝাবুঝি হিসেবে আখ্যায়িত করে বিষয়টির সমাধান করা হয়।


এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, "আমাদের কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে। ফলে অনেকে সিভিল ড্রেসে (সাদা পোশাকে) কাজ করেন। আজকে যা ঘটেছে, তা শিক্ষার্থীরা আমাকে জানাতে পারতেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারতেন। তারা কি এভাবে কাউকে তুলে নিয়ে যেতে পারেন? এতে বাইরে একটি ভুল বার্তা যাচ্ছে।"


বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, "তল্লাশির সময় তাদের পরিচয়পত্র দেখাতে বলেন শিক্ষার্থীরা, কিন্তু তারা তা দেখাতে ব্যর্থ হন। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও বিষয়টি স্বীকার করেছে। পরবর্তীতে তাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বাগ্‌বিতণ্ডা একপর্যায়ে জোর করে বাসে তুলে তাদের ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা হয়। এখানে উভয় পক্ষেরই ভুল রয়েছে। উভয় পক্ষের কথা শুনে যুক্তিসংগত জায়গায় এসে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে এবং উভয় পক্ষই তা মেনে নিয়েছে। ভবিষ্যতে এসব ক্ষেত্রে উভয় পক্ষই পেশাদারিত্ব বজায় রাখার অঙ্গীকার করেছে।"


এ ছাড়া প্রক্টর শিক্ষার্থী ও পুলিশ উভয় পক্ষকে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতিতে আরও সচেতন ও পেশাদার আচরণ প্রদর্শনের আহ্বান জানান।


বিবার্তা/প্রসেনজিত/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected] ​, [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com