
স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকারি হাসপাতালের এক কিলোমিটারের মধ্যে নতুন করে বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিক স্থাপন এবং চিকিৎসকদের চেম্বারের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু এই নির্দেশনার মধ্যেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে উদ্বোধন করা হয়েছে একটি বেসরকারি হাসপাতাল। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে কসবা উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ইকলিল আজমের সম্পৃক্ততা থাকায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রশাসন বলছে, সরকারি নির্দেশনা অমান্য হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাহলে নির্দেশনা উপেক্ষা করে কীভাবে হলো উদ্বোধন - এ প্রশ্নই এখন সামনে।
সরকারি হাসপাতালের এক কিলোমিটারের মধ্যে নতুন কোনো বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিক নয় - স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এমন নির্দেশনার মধ্যেই গত ২৪ সেপ্টেম্বর কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কাছেই উদ্বোধন করা হয় ‘কসবা মডেল হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার’। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান কসবা উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ইকলিল আজম।
কদমতলী মোড়ের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে উদ্বোধন করা এই প্রতিষ্ঠানটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে এক কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। উদ্বোধনের খবর প্রকাশের পরই সরকারি নির্দেশনা নিয়ে শুরু হয় নানা আলোচনা।
প্রশ্ন উঠেছে - স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা যেখানে নতুন প্রতিষ্ঠান স্থাপনে নিষেধাজ্ঞার কথা বলছে, সেখানে এই প্রতিষ্ঠান উদ্বোধনের সুযোগ হলো কীভাবে?
তবে ক্লিনিক মালিক ইকলিল আজমের দাবি, সরকারি পরিপত্র জারির আগেই প্রতিষ্ঠানটির অনেক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছিল। একই সঙ্গে তিনি সরকারের নির্দেশনা মেনে চলার কথাও জানিয়েছেন।
কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছামিউল ইসলাম বলেন, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসার পর স্বাস্থ্য বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের মো. মিজানুর রহমান, সিভিল সার্জন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, বিদ্যমান হাসপাতাল ছাড়া সরকারি হাসপাতালের এক কিলোমিটারের মধ্যে নতুন করে হাসপাতাল বা ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা এবং চিকিৎসকদের চেম্বার করার সুযোগ নেই।
এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পরিপত্র পাওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি জানিয়ে নিষেধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ। নির্দেশনা অমান্য হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
এডভোকেট আবদুন নুর, সাবেক সভাপতি, সনাক ব্রাহ্মণবাড়িয়া বলেন, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি তাদের।
একদিকে সরকারি হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়নে নতুন নির্দেশনা, অন্যদিকে সেই নির্দেশনার আওতাধীন এলাকাতেই নতুন বেসরকারি হাসপাতাল উদ্বোধন - ঘটনার এই দুই দিক নিয়েই এখন প্রশ্ন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হলেও, বাস্তবে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সরকারি নির্দেশনা যদি সবার জন্য সমান হয়, তাহলে তার বাস্তবায়নও হতে হবে সবার ক্ষেত্রেই সমান - এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
বিবার্তা/নিয়ামুল/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]