
ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) স্বীকৃতিপ্রাপ্ত টাঙ্গাইলের মধুপুরের লাল মাটির আনারস দেশজুড়ে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেছে। সুমিষ্ট স্বাদ, আকর্ষণীয় রং ও গুণগত মানের কারণে এ অঞ্চলের আনারস দেশের বিভিন্ন জেলায় সমাদৃত। তবে চলতি মৌসুমে ক্যালেন্ডার জাতের আনারস চাষে আশানুরূপ লাভ না পাওয়ায় অনেক কৃষক লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন। অন্যদিকে কম সময়ে ফলন, বেশি উৎপাদন এবং তুলনামূলক ভালো বাজারমূল্যের কারণে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে জলঢুগি জাতের আনারস চাষে।
মধুপুরের লাল মাটিতে দীর্ঘদিন ধরেই আনারসের ব্যাপক চাষ হয়ে আসছে। বর্তমানে ক্যালেন্ডার, জলঢুগি ও এমডি-টু এই তিন জাতের আনারসের মধ্যে জলঢুগি জাতের আনারস চাষে বেশি ঝুঁকছেন কৃষকরা। কারণ ক্যালেন্ডার জাতের আনারস বাজারজাত করতে প্রায় ১৮ মাস সময় লাগলেও জলঢুগি জাতের আনারস মাত্র ৮ মাসেই সংগ্রহ করা যায়। একই জমিতে বেশি সংখ্যক চারা রোপণ করা সম্ভব হওয়ায় উৎপাদনও তুলনামূলক বেশি হয়।
গারোবাজার এলাকার আনারস চাষি আব্দুল লতিফ জানান, এ বছর আম, কাঁঠাল, লিচুসহ অন্যান্য মৌসুমি ফলের সরবরাহ বেশি থাকায় আনারসের বাজার কিছুটা মন্দা। ফলে পাইকাররা কাঙ্ক্ষিত দাম দিচ্ছেন না।
তিনি জানান, প্রায় ৩০০ শতাংশ জমিতে জলঢুগি আনারসের চাষ করেছেন। এর মধ্যে ১'শ শতাংশ জমির আনারস প্রতিটি ২৭ টাকা দরে পাইকারদের কাছে বিক্রি করেছেন।
স্থানীয় আরেক চাষি হাবিব বলেন, বাজারে বিভিন্ন ফলের আধিক্যের কারণে আনারসের চাহিদা কমে গেছে। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেক কৃষক খরচ তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন। ক্যালেন্ডার জাতের আনারসে লাভ কম হওয়ায় অধিকাংশ কৃষক এখন জলঢুগি আনারস চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
মধুপুরের কৃষক লিটন সরকারের মতে, আধুনিক হিমাগার বা কোল্ড স্টোরেজ ব্যবস্থা থাকলে কৃষকরা ফল সংরক্ষণ করে বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে এলে বিক্রি করতে পারতেন। এতে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হতো এবং লোকসানের ঝুঁকিও কমে আসত।
অরণখোলা ইউনিয়নের সাবেক সদস্য লাল মিয়া বলেন, মধুপুরের জলছত্র বাজার দেশের অন্যতম বৃহৎ আনারসের পাইকারি বাজার। প্রতিদিন কোটি টাকার আনারস এ বাজারে বেচাকেনা হয়। এখান থেকে ট্রাক ও পিকআপযোগে ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় আনারস সরবরাহ করা হয়।
মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রকিব আল রানা জানান, উপজেলায় মূলত ক্যালেন্ডার, জলঢুগি ও এমডি-টু জাতের আনারস চাষ হয়। এর মধ্যে চার হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে জলঢুগি আনারসের আবাদ করা হয়েছে। একই জমিতে বেশি চারা রোপণ এবং অল্প সময়ে ফলন পাওয়া যায় বলে কৃষকরা এ জাতের আনারস চাষে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক শোয়েব মাহমুদ জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় ৭ হাজার ৭৭৩ হেক্টর জমিতে আনারসের চাষ হয়েছে। কৃষি বিভাগ কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহায়তা দিচ্ছে। তবে হিমাগার না থাকায় সংরক্ষণের অভাবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ফল নষ্ট হচ্ছে। দ্রুত হিমাগার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সংরক্ষণ সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং ভবিষ্যতে বিদেশে আনারস রপ্তানিরও সম্ভাবনা তৈরি হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি সহায়তা বৃদ্ধি, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং কার্যকর বাজারজাতকরণ সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে জিআই স্বীকৃতিপ্রাপ্ত মধুপুরের আনারস দেশের চাহিদা মিটিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।
বিবার্তা/ইমরুল/এসএম
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]