বাপ-দাদার পেশা ধরে রাখতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে মৃৎশিল্পীদের
প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:৩৫
বাপ-দাদার পেশা ধরে রাখতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে মৃৎশিল্পীদের
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

কি নিখুঁত কাজ লনী পালের। একগাদা কাঁদামাটি মুহুর্তেই টবে পরিণত হলো একটি ঘুরানো চরকায় মাটি দিয়ে। লনী পাল ও তার স্বজনদের উঠানজুড়ে মাটির খেলনা। এক কোণে বসে কাদা মাটিকে নতুন অবয়ব দিচ্ছেন এক নারী। একটু সামনেই আরেক নারী ছোট শিশুদের জন্য হাতি, ঘোড়া, গরু, মাটির ব্যাংক আরো কত কি খেলনায় রং দেওয়ায় ব্যস্ত। এক কথায় বাড়িজুড়ে যেন বিশাল এক কর্মযজ্ঞ।


সরজমিনে কথা হয় এ প্রতিবেদককের সঙ্গে মৃৎশিল্পী লনী পালের সাথে। এক প্রশ্নের উত্তরে লনী পাল বলেন,, ‘দেখলেন তো কিভাবে টব হয়ে গেলো। মেলায় টবেরও চাহিদা থাকে। যারা গাছ লাগায় তারা এসে নেয়। তাই বানাচ্ছি।’


তিনি আরও বলেন, অহন বাপ-দাদার পেশা ধরে রাখতে বেশ বেগ পেতে হয়। কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় পণ্য বিক্রি করে পোষায় না। এছাড়া প্লাস্টিক মালের সঙ্গে বেচাকেনায় আমাদের টিকে থাকা দায় হয়ে পড়েছে।


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল গ্রামের পাল পাড়ায় খেলনার সমারোহ। বিক্রির জন্য প্রস্তুত নানা ধরণের খেলনা। কেউ কেউ খেলনায় রং করছেন। কিছু খেলনা নতুন করেও তৈরি হচ্ছে। পাইকাররাও ছুটে আসছেন পাল পাড়ায়। মোট কথায় মৃৎশিল্পীদের শিল্পীর শ্রমের ঘাম সৌন্দর্য্য বাড়াবে বিভিন্ন মেলা বান্নীতে। তৈরি হওয়া ও হতে থাকা খেলনা যাবে জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের মেলায়। পাইকারদের পাশাপাশি যারা বানাচ্ছেন তারাও মেলায় নিয়ে এসব খেলা বিক্রি করবেন।


কাজের ফাঁকেই কথা হয় খেলনার কারিগরদের সঙ্গে, যাদেরকে মৃৎশিল্পী বলা হয়। বাপ-দাদার পেশা ধরে রাখতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে মৃৎশিল্পীদের। কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় পণ্য বিক্রি করে পোষায় না। এর মধ্যে যোগ হয়েছে প্লাস্টিক পণ্যের সঙ্গে টিকে থাকার প্রতিযোগিতা।


অধীর পাল নামে এক মৃৎশিল্পী বলেন, অনেক ধরণের খেলনা বানানো হয়েছে। যা বানাচ্ছি সেগুলো মেলায় নিয়ে বিক্রি করবো। বেশির ভাগই শিশুদের খেলনা। মেলায় এসব পণ্যের চাহিদা থাকে বেশি। অনেক পাইকারও এখান থেকে এসে কিনে নিয়ে যায়।


তিনি বলেন, এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখা অহন অসম্ভব হয়েছে পড়েছে। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আরো এগিয়ে যেতে পারবো বা টিকিয়ে রাখতে পারবো বলে আশা করি।


নানা সমস্যা, আর কষ্টের মধ্যেও শিশুদের খেলনা তৈরিতেই আনন্দ পান পালপাড়ার মৃৎশিল্পীরা। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তারা আরো এগিয়ে যেতে পারবেন বলে প্রত্যাশা করছেন। এছাড়া এ শিল্প টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে তারা মনে করেন।


বিবার্তা/ নিয়ামুল/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com