তেল নিতে সড়কে বাইকারদের রাত্রীযাপন, লাইন গেল ১ কিলোমিটার
প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:৫৮
তেল নিতে সড়কে বাইকারদের রাত্রীযাপন, লাইন গেল ১ কিলোমিটার
হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার একমাত্র ফিলিং স্টেশন হওয়ায় এখানে জ্বালানি তেলের আশায় গতরাত থেকে বাইকাররা সড়কে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে। অনেকে রাত কাটিয়েছেন সড়কে। ভোর থেকে বাইকের দীর্ঘ লাইন পাম্প থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার চলে যায়। সীমিত সরবরাহের কারণে পাম্প এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ লাইন। যা নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।এতে কর্ম ঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে সরকারি-বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষক ও কর্মজীবীদের।


সোমবার (৬ এপ্রিল)সকালে হিলি ফিলিং স্টেশনে সরেজমিনে দেখা যায়, হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অশোক বিক্রম চাকমা নিজে উপস্থিত থেকে পুলিশের এসআই মো. মাহফুজ সহ পুলিশের চৌকস দল এবং তদারকি অফিসার উপজেলা অ্যাকাডেমিক সুপার ভাইজার সাখাওয়াত হোসেন সহ বাইকের কাগজপত্র, বরাদ্দের সিরিয়াল সব দেখে তেল দেওয়া হচ্ছে। জ্বালানি তেল পাওয়ার আশায় অনেক বাইকার আগের রাত থেকেই পাম্প সংলগ্ন সড়কে অবস্থান নিয়েছেন। কেউ কেউ সড়কের পাশে বিছানা পেতে রাত যাপন করছেন, আবার কেউ বাইকের ওপর বা পাশে বসেই সময় পার করছেন।



তারা বলেন, দূর-দূরান্ত থেকে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও প্রয়োজন অনুযায়ী তেল না পাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। আর কিছু বাইকাররা সকালে এসে সবার আগে তেল নিয়ে যাচ্ছে। শেষের দিকে এসে আমাদের ভাগে তেল মিলে ২০০-১০০ টাকার।


অন্যদিকে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীরা অভিযোগ করে বলেন, পাম্পে যেটুকু তেল পাই। সেই তেল নিতে এসে দীর্ঘ লাইনের কারণে চাহিদা মতো তেল ও পায় না আবার সময় মতো প্রতিষ্ঠানে যেতে পারছি না।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মচারী বলেন, তিন দিন পরে পাম্পে তেল নিতে এসে দেখা যায়, সাংবাদিক, পুলিশ, মেডিক্যাল টিম, পল্লী বিদ্যুৎ ও উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের আলাদা সিরিয়াল করে আগে তেল দেওয়া হয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য জাতি গড়ার কারিগর শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের কোন সিরিয়াল নেই। লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে গিয়ে ওই দিন প্রতিষ্ঠানে যেতে পারে নাই এমন অনেক অভিযোগ আছে। অনেক শিক্ষক দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে পারে না বিধায় চার্জার বা ইজিবাইকে প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছে। সম্মানিত শিক্ষকদের দাবি ইউএনও মহোদয় আমাদের জন্য একটা নির্দিষ্ট সময় ও সিরিয়াল এর ব্যবস্থা করা হোক। এ বিষয়ে শিক্ষকরা ইউএনও কে বললে কোন কর্ণপাত করেন নাই বলে অভিযোগ তাদের। তাদের দুর্দশা নিটসনের কি কোন উপায় নাই।


হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা জানান, হাকিমপুর উপজেলায় একটি মাত্র ফিলিং স্টেশন। আমি চেষ্টা করি যারা জরুরি কাজে নিয়োজিত তাদেরকে আগে দেওয়ার। যে টুকু বরাদ্দ পেয়েছি আজ সকাল থেকে সেই হিসেবে ৩০০ টাকার পেট্রোল দেওয়া শুরু করেছি। শিক্ষকদের নির্দিষ্ট সময় বা সিরিয়াল বিষয়ে কিছু বলেন নাই তিনি।


তিনি আরও বলেন, আমি সবসময় চাই এই এলাকার মানুষ ভালোভাবে সুষ্ঠু ও নিরবচ্ছিন্ন ভাবে তেল দিয়ে তাদের নির্দিষ্ট গন্তব্য অর্থাৎ যারা চাকরি করেন বা ব্যাবসা করেন তারা যেন চলাফেরা করতে পারেন, যার লক্ষ্যে মোটরসাইকেলের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই বাছাই করে তেল দেওয়া হচ্ছে।


বিবার্তা/রব্বানী/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com