হতদরিদ্রের সাড়ে ৭ হাজার কেজি চাল বিক্রি করে দিল চেয়ারম্যান
প্রকাশ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:২৭
হতদরিদ্রের সাড়ে ৭ হাজার কেজি চাল বিক্রি করে দিল চেয়ারম্যান
সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

নাটোরের সিংড়ায় ২৪৭ জন হতদরিদ্রের জন্য বরাদ্দ দেওয়া ভিডব্লিউবি কর্মসূচির (ভিজিডি) ৭ দশমিক ৪১০ মেট্রিক টন চাল বিক্রি করে দিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন। তিনি উপজেলার ১নং সুকাশ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত (ইউপি) চেয়ারম্যান এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক।


জানা গেছে, ৫মার্চ উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকে সুকাশ ইউনিয়ন পরিষদের ২৪৭ জন দুস্থ নারীর জন্য বরাদ্দ করা মার্চ মাসের ৭ দশমিক ৪১০ মেট্রিক টন চাল উত্তোলন করেন চেয়ারম্যান সোহরাব। উপকারভোগীদের মাঝে চাল বিতরণ না করে তিনি সেই
চাল কালোবাজারে বিক্রি করে দেন। পরে গত ১১ মার্চ চাল বিতরণ দেখিয়ে ভুয়া প্রত্যয়নপত্র ও মাস্টাররোল তৈরি করেন সোহরাব। এরপর উপজেলা নারীবিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেন তিনি।


অভিযোগ রয়েছে, সুকাশ ইউনিয়নের ২৪৭ উপকারভোগী নারীর বিনামূল্যে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার কথা রয়েছে। কিন্তু নয় মাস পেরিয়ে গেলেও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার নামে উপকারভোগীদের কাছ থেকে জনপ্রতি এক হাজার টাকা এবং প্রতি মাসের সঞ্চয় জনপ্রতি ২২০ টাকা জমা নিয়ে পকেটে তুলেছেন ইউপি চেয়ারম্যান
সোহরাব হোসেন।


বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে সুকাশ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে
ঘুরে উপকারভোগী, ঝরনা খাতুন, আয়শা বেগম, তাজমা খাতুন ববিতা বেগম, রাবেয়া বেওয়া, আনোয়ারা বেগম, রাশেদা খাতুনসহ অন্তত ২০ জনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা মার্চ মাসের ভিডব্লিউবি কর্মসূচির চাল পাননি।


বিনামূল্যে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার কথা থাকলেও তাদের থেকে টাকা নিয়েও কাগজপত্র দেননি চেয়ারম্যান।


এদিন অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সুকাশ ইউনিয়ন পরিষদে যান উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা সুমি আকতার। এ সময় অর্ধশত উপকারভোগী নারীর কার্ডে মার্চ মাসে ৩ ও ১১ তারিখে দুইবার চাল বিতরণ করা হয়েছে উল্লেখ করে ভুয়া টিপসই ও স্বাক্ষর করে নাটক সাজান অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান। পরে উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের সহযোগিতায় উপস্থিত কার্ডধারীরা চাল পাননি স্বীকার
করেন।


উপকারভোগী নারীরা বলেন, বুধবার রাতে ইউপি চেয়ারম্যান তাদের কার্ড নিয়ে স্বাক্ষর করেছেন এবং সবাইকে মিথ্যা কথা বলার জন্য এখানে ডেকে এনেছেন।


সুকাশ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম ও হিসাব সহকারী পরিতোষ কুমার বলেন, মার্চ মাসের বরাদ্দ করা চাল বিতরণ হয়নি। উপকারভোগীদের কারও ব্যাংক অ্যাকাউন্টও এখন পর্যন্ত খোলা হয়নি।


অভিযুক্ত চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন বলেন, অসুস্থ থাকায় চাল বিতরণ করা হয়নি পরে বিতরণ করব, অভিযোগের বিষয়গুলো প্রকাশ না করতে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রস্তাব দেন ওই চেয়ারম্যানের লোকজন।


সিংড়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মনোয়ারুল হাসান বলেন, চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন ৫মার্চ ভিজিডির ৭ দশমিক ৪১০ মেট্রিক টন চালের ডিও নিয়ে গোডাউন থেকে চাল উত্তোলন করে নিয়ে গেছেন।


এবিষয়ে সিংড়া উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা সুমি আকতার বলেন, মার্চ মাসের চাল বিতরণ করা হয়নি এমন অভিযোগের তথ্য করে সত্যতা পেয়েছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। পরবর্তীতে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এঘটনায় সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন, চাল বিতরণ হয়নি সত্যতা পেয়ে জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


বিবার্তা/রাজু/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com