
চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ও পাবনায় উদ্বেগ জনকহারে বাড়ছে হাম রোগ। গত কয়েক মাসে এ অঞ্চলে হামে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৪৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে; যার মধ্যে কেবল রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই মারা গেছে ২৯ জন। এতে জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশি হওয়ায় জনমনে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের মুখে আক্রান্ত শিশুদের জন্য সব হাসপাতালে পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড চালুর নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম নিশ্চিত করার পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন।
রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক হাবিবুর রহমান মো. হাবিবুর রহমান বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় বিভাগের ২৪৬ জন শিশুর নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে; যার মধ্যে ৭৭ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
গত ১৭ মার্চ পর্যন্ত সংগৃহীত নমুনার ভিত্তিতে সংক্রমণের হার ৩১ দশমিক ৩০ শতাংশ বলে জানান তিনি।
রবিবার পর্যন্ত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮০ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে ৭১ জন এবং পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ২১ জন আক্রান্ত শিশু চিকিৎসাধীন ছিল বলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান ডা. শাহীদা ইয়ামিন বলেন, “গত ১৮ মার্চ ১৫৩ জন শিশুর নমুনা পরীক্ষা করে ৪৪ জনের শরীরে হাম সনাক্ত হয়। আক্রান্তদের মধ্যে রাজশাহী ছাড়াও রংপুর ও খুলনা বিভাগের শিশুরাও ছিল।”
চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রথম হাম রোগী শনাক্ত হয় জানিয়ে এ চিকিৎসক বলছেন, “শুরুতে সীমিত আকারে আলাদা করে চিকিৎসা দেওয়া হলেও বর্তমানে হাসপাতালের ১০ ও ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে ‘আইসোলেশন কর্নার’ চালু করা হয়েছে।
“রবিবার সেখানে ৭০ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিল। এ পর্যন্ত এ হাসপাতালে হাম আক্রান্ত হয়ে ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।”
পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. রফিকুল হাসান বলছেন, চলতি মার্চ মাসে এ জেলায় ১১৮ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ১০ জনের মৃত্যু এবং ২০ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
বর্তমানে হাসপাতালে ২১ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে জানুয়ারিতে প্রথম হাম রোগী শনাক্ত হয় বলে সদর হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মশিউর রহমান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “ফেব্রুয়ারিতে সংক্রমণ বাড়তে থাকায় হাসপাতালে আক্রান্তদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড চালু করা হয়। রোববার সেখানে ৭০ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিল। মৃত্যু হয়েছে আটজনের।”
এ জেলায় শনাক্তের হার প্রায় ৪০ শতাংশ বলে মশিউর রহমান জানান।
রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক হাবিবুর রহমান বলেন, “আক্রান্তদের পৃথক ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তবে সব হাসপাতালে তা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। সরকারের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে।”
হঠাৎ হামের প্রার্দুভাবের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সাধারণত চার বছর পরপর হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন আয়োজন করা হয়। সর্বশেষ ২০২১ সালে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
“সে অনুযায়ী ২০২৫ সালে নতুন ক্যাম্প হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন জটিলতায় তা বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে অনেক শিশু টিকার বাইরে থেকে গেছে।”
বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন আয়োজন এবং মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিবার্তা/মোস্তাফিজুর/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]