সাভারে বেড়েছে কিশোর গ্যাং আতঙ্ক, মাদক ও অস্ত্রের মহড়া
প্রকাশ : ০১ মার্চ ২০২৬, ১৫:১৯
সাভারে বেড়েছে কিশোর গ্যাং আতঙ্ক, মাদক ও অস্ত্রের মহড়া
সাভার প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

সাভারের আশুলিয়ায় কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারিদের উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। প্রতিনিয়ত দেশি বিদেশি অস্ত্রের মহড়ায় আতঙ্কিত ও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে স্থানীয়রা। শুধু এখানেই থেমে নেই, প্রতিনিয়ত চুরি ছিনতাই এর মতো ঘটনাও ঘটছে একের পর এক। তবে এখনো পর্যন্ত প্রশাসন গ্রেফতার বা অস্ত্র উদ্ধার করতে ব্যর্থ, ফলে চরম আতঙ্কের পাশাপাশি প্রশাসনের
‍ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।


আশুলিয়া এখন কিশোর গ্যাং থেকে শুরু করে মাদক কারবারিদের তীর্থ ভূমিতে পরিণত হয়েছে। মাদকের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিনিয়তই কিশোর গ্যাং এর হামলা ভাঙচুর থেকে শুরু করে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার দেখা যায়।


নিজেদের আধিপত্যের জানান দিতেই দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র হাতে মহড়া ও ধাওয়া পালটা ধাওয়াসহ কুপিয়ে জখম করার মতো ঘটনাও ঘটছে প্রতিনিয়তই।


বিভিন্ন স্থানে আগ্নেয়াস্তের ব্যবহারে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে পুরো এলাকাজুড়ে। আর এসব হামলার ফলে গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছে বেশ কয়েকজন।


এমনকি চাঁদা না পেয়ে ঝুটের গাড়ি ও ভাঙারি দোকানেও অগ্নি সংযোগ দেওয়ার মতও ঘটনাও ঘটেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, প্রতিদিনই কোনো না কোনো ঘটনা ঘটছে।
আমরা পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। রাজ কুমার ওরফে রাজু, সোহাগ ও সুমনের নেতৃত্বে জামগড়া এলাকায় গ্যাং তৈরি করে তারা নানা অপকর্ম করে যাচ্ছে বলে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ চান তারা।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যা হলেই জামগড়া প্রাইমারি স্কুল এলাকা, ভাদাইল, রূপায়ণ মাঠ,
হাউজিং, নাভানা মাঠ, ছয়তলা, সরকার মার্কেট, নারসিংহ পুর সহ বিভিন্ন স্থানে চুরি, ছিনতাই এর মতো ঘটনা ঘটেই চলেছে। ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনাও ঘটছে প্রকাশ্যেই। ফলে চরম আতঙ্কে বসবাস করছেন ভাড়াটিয়া, গারমেন্টসকর্মী থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দারা।


দিনের পর দিন এমন অস্ত্রের মহড়া, গোলাগুলি, হামলা, ভাঙচুর বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।


এ বিষয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, যখনই আমরা সংবাদ
পেয়েছি আমাদের টিম কাজ করে যচ্ছেন। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনক গ্রেফতারও করা হয়েছে। বাকিদেরকে শিগ্‌গিরই চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসবো। এ বিষয়ে এলাকা বাসির সহায়তাও কামনা করেন প্রশাসন।


মাদক নিয়ন্ত্রণ হলে কিশোর গ্যাং এর দৌরাত্ম্য কমে যাবে এজন্য পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু, সংসদ সদস্য, ঢাকা-১৯।


এসব কিশোররা পড়ালেখায় দুর্বল, তাই তাদেরকে কারিগরি ট্রেনিং দিয়ে কর্মমুখী করা হলে, একদিকে অর্থনৈতিকভাবে সচল হবে।


অন্যদিকে অপরাধ মূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকবে বলে আশাময় ব্যক্ত করেন অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, প্রফেসর, অর্থনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।


এলাকাবাসীর সাথে সমন্বয় করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কিশোর গ্যাং ও মাদক নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম।


বিবার্তা/শরিফুল/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com