
টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক ও ধানের শীষের প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। কাকডাকা ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত তিনি গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করছেন এবং তুলে ধরছেন তাঁর উন্নয়ন পরিকল্পনা।
ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক এই কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রতিদিন ভোর থেকে প্রচারণা শুরু করেন। পথে মানুষের জটলা দেখলেই গাড়ি থেকে নেমে কুশল বিনিময় করেন, শোনেন এলাকার সমস্যা ও প্রত্যাশা। কোথাও পথসভা, কোথাও মতবিনিময় সভা, আবার কোথাও নির্বাচনী অফিসে গিয়ে কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সন্ধ্যা ও রাতেও শহরের বিভিন্ন এলাকায় সভা-সমাবেশে অংশ নেন তিনি।
গতকাল খাস কাকুয়া স্কুল মাঠে আয়োজিত একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় উপস্থিত হয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন টুকু। এ সময় এক চা দোকানি জানান, দিন যত যাচ্ছে ধানের শীষের অবস্থান আরও শক্ত হচ্ছে। তাঁর মতে, বর্তমানে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ ধানের শীষের পক্ষে রয়েছে।
প্রচারণাকালে সরিষা ক্ষেতে কৃষকদের কাজ করতে দেখে গাড়ি থামিয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন টুকু। আবাদ ও উৎপাদন বিষয়ে খোঁজখবর নেন। এ সময় টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আজগর আলী তাঁর সঙ্গে ছিলেন। এক বৃদ্ধ কৃষককে বুকে জড়িয়ে ধরলে উপস্থিত কৃষকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। ওই কৃষক বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই বিএনপি করি। আল্লাহ যেন আপনার সহায় হন। আমি মনপ্রাণ দিয়ে আপনার জন্য কাজ করতেছি।’
এ সময় এক নারী ভোটার বলেন,কিছু পাইলেও ভোট দিমু, না পাইলেও ভোট দিমু। আপনি এত দূর থেকে আসছেন—এটাই আমাদের জন্য অনেক কিছু।
টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে একটি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়ন রয়েছে। এখানে মোট ভোটার ৪ লাখ ৬২ হাজার ৪১২ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৩১ হাজার ১০৮ জন, পুরুষ ২ লাখ ৩১ হাজার ৩০৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ১৩০টি।
এই আসনে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্য প্রার্থীরা হলেন— আহসান হামীব মাসুদ, এ কে এম শফিকুল ইসলাম, খন্দকার জাকির হোসেন, ফাতেমা আক্তার, মো. ফরহাদ ইকবাল, মো. মোজাম্মেল হক, মো. শফিকুল ইসলাম, মো. হাসরত খান ভাসানী এবং সৈয়দ খালেকুজ্জামান মোস্তফা।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় থাকার কারণে টুকুকে প্রায় ৩৫০টি মামলার মুখোমুখি হতে হয় এবং ১২ দফায় কারাবরণ করতে হয়। প্রায় পাঁচ বছর কারাভোগের পর এবারই প্রথম তিনি টাঙ্গাইল-৫ আসন থেকে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও সহজ-সরল আচরণের কারণে ইতোমধ্যে তিনি ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছেন। সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারম্যানের টাঙ্গাইলের জনসভায় সাত দফা উন্নয়ন দাবি তুলে ধরা হয়, যার বাস্তবায়নের আশ্বাস দেওয়া হয়। এসব দাবি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে।
এছাড়া জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ সহজ করতে ‘জনতার সংযোগ’ ফোন বুথ চালুর উদ্যোগ নিয়েছেন টুকু। এই বুথের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সরাসরি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।
স্থানীয়দের মতে, ঢাকার কাছাকাছি হওয়া সত্ত্বেও টাঙ্গাইল সদরে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। সাবেক এমপি ও মন্ত্রী প্রয়াত মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসানের পর দৃশ্যমান উন্নয়ন খুব কম হয়েছে। তাই তাঁরা জাতীয় পর্যায়ের শক্তিশালী নেতৃত্ব প্রত্যাশা করছেন।
এ বিষয়ে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, আমি একা সবার কাছে পৌঁছাতে পারব না, তবুও চেষ্টা করছি। ফোনের মাধ্যমেও মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। সর্বত্র ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন,আমি চাই টাঙ্গাইলকে উন্নয়নের শীর্ষে নিয়ে যেতে। এখানে সব ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে একসঙ্গে বসবাস করবে—এটাই আমার লক্ষ্য।
বিবার্তা/বাবু/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]