নরসিংদীর পাঁচ আসনে শক্ত অবস্থানে বিএনপি, ভোটগুছাতে মরিয়া অন্য দলগুলো
প্রকাশ : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:৪৬
নরসিংদীর পাঁচ আসনে শক্ত অবস্থানে বিএনপি, ভোটগুছাতে মরিয়া অন্য দলগুলো
নরসিংদী প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

ক্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, বাজছে ভোটের দামামা। নির্বাচনী আলোচনায় মেতে উঠেছে শহর থেকে গ্রাম-গঞ্জ এমনকি রাস্তার মোড়ে মোড়ে চায়ের আড্ডায়। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে আলোচনার মাত্রাও ততো বৃদ্ধি পাচ্ছে। জুলাই বিপ্লবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বহুবছরের মিত্র দুই দল বিএনপি এবং জামায়াত এখন একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠছে।


আর জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নরসিংদীর পাঁচটি সংসদীয় আসনে ভোটের মাঠ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। দীর্ঘদিন পর বিএনপি তাদের ঘাঁটি পুণর্দখল করতে মাঠে নেমেছে। তবে তাদের ঘাঁটি দখলে আনতে বেগ পেতে হতে পারে।


কারণ ২টি আসনে বিএনপির দুই প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপরদিকে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন সহ ইসলামিক দলগুলো জোট হওয়ায় ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিনে নরসিংদীর পাঁচটি আসনে মোট ৪৬ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। যাচাই-বাছাইয়ে বৈধ প্রার্থী ঘোষিত হয়েছেন ৪১ জন। ৫ জন বিভিন্ন কারনে বাতিল বলে গণ্য হয়েছেন। যদিও এখনো আপীলের সময় রয়েছে। কেউ আপীল না করলে নরসিংদীর ৫ আসনে ভোটের মাঠে লড়বেন ৪১ জন।


অধিকাংশ তরুণ ভোটার মনে করেন, এবারের ভোট হবে তারুণ্যের শক্তি। নতুন ও তরুণ ভোটারদের ভোটের মাধ্যমেই যোগ্যব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন। পাশাপাশি যারা আমাদের জন্য কর্মসংস্থান ও বেকারত্ব দূরীকরণের চিন্তা করেন তাদেরকেই ভোট দিবে।


বেসরকারি চাকরিজীবী ওসমান বলেন, এবারের ভোট হবে চিন্তা ও ভাবনার। যারা দেশ ও দশের কল্যাণে কাজ করবে পাশাপাশি বৈষম্য দূর করে উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তর করতে পারবে তাদেরকেই ভোট দেবে।


নরসিংদী-১ (সদর): স্বাধীনতার পর থেকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পালাক্রমে এই আসনে জয় পেলেও এবার আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকায় মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মো. ইব্রাহিম ভূঁইয়া। খায়রুল কবির খোকন এখানে উপ-নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং অল্প সময়ের মধ্যে ব্যাপক উন্নয়ন করেন।ইব্রাহিম ভুইয়া সাবেক ইসলামী ব্যাংক কর্মকর্তা ও জামায়াত নেতা। দু' জনের বাড়ি একই ইউনিয়ন চিনিশপুরে হওয়ায় নির্বাচনী প্রভাব আরো বেশী। এ সব কারণে ভোটারদের মধ্যে দু'জনকে নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া গণঅধিকার পরিষদের নেত্রী এডভোকেট শিরিন আক্তার, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের হামিদুল হক পারভেজ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সাখাওয়াত হোসেন,ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশেরআশরাফ হোসেন ভুইয়া, গণফোরামের শহিদুজ্জামান চৌধুরীসহ মোট সাতজন প্রার্থী হয়েছেন।


নরসিংদী-২ (পলাশ): আসনটিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান ও ১০ দলীয় জোট থেকে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার দুই নেতা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে এনসিপি নেতা সারোয়ার তুষার কে কেন্দ্রকরে তার দলীয় নেত্রী সংক্রান্ত অশ্লীল অডিও ভাইরাল হওয়ার পর তার জনপ্রিয়তা নেতিবাচক প্রভাব আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। এজন্য জামায়াতে ইসলামীর নেতা কর্মীরা জেলা জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি মোঃ আমজাদ হোসেন কে মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে দেননি । গত ৬ মাস ধরে জামায়াত প্রার্থী মাঠ চষে বেড়িয়েছেন দাঁড়ি পাল্লার প্রতীক নিয়ে। কেন্দ্রীয় কমিটির প্রত্যাহার করতে নির্দেশ দিলে ও প্রত্যাহার করেনি পলাশ ২ আসনের জামায়াতের প্রার্থী। কিন্তু প্রচারনা থেকে বিরত রয়েছেন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াতের প্রার্থী প্রচারনা থেকে বিরত থাকলেও তার কর্মী সমর্থকরা মোবাইলে জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। যেহেতু ব্যালট পেপারে জামায়াত প্রার্থীর নাম থাকবে। বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হলেও সম্প্রতি নির্বাচনগুলোতে আওয়ামী লীগ এখানে ধারাবাহিকভাবে জয় পেয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তবে জামায়াতের প্রার্থী মাঠে না থাকায় বিএনপি প্রার্থী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।গত ২৯/০১/২৬ ইং এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নাহিদ ইসলাম পলাশ ২ আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী তুষার সারোয়ারের নির্বাচনী মঞ্চে জামায়াতের কোনো নেতা কর্মী কে দেখা যায়নি। সাধারণ ভোটার রা জানান,বিএনপির সাবেক মরহুম খাদ্যমন্ত্রী আব্দুল মোমেন খান এর সুযোগ্য সন্তান ড. আব্দুল মঈন খান ও তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।সব মিলিয়ে এখানে জামায়াতের প্রার্থী থাকলে নির্বাচনী লড়াই হাড্ডা হাড্ডি হতে পারে বলে জানান সাধারণ ভোটাররা। এছাড়া ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের আসিফ ইকবাল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ফারুক ভূঁইয়া পাঁচজন প্রার্থী মাঠে আছেন।


নরসিংদী-৩ (শিবপুর): আসনটিতে নরসিংদী সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনজুর এলাহীর বিপরীতে রয়েছেন বিএনপির প্রয়াত নেতা আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া পরিষদের সদস্য সচিব, শিবপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফুল ইসলাম মৃধা। এ আসনে জমজমাট প্রচারনা চলছে।ঘুম নেই প্রার্থী ও তাদের কর্মী সমর্থকদের। তারা উঠান বৈঠক, মতবিনিময় সভা, সৌজন্যে সাক্ষাৎ ও জনসংযোগ, গণসংযোগ ব্যাস্ত সময় পার করছেন। সন্ত্রাস,মাদক ও চাঁদাবাজমুক্ত এলাকা গঠনের প্রতিশ্রুত দিচ্ছেন সবদলের প্রার্থীরা।সাধারন ভোটার রা বলেন, এই আসনে বিএনপির সাবেক বিএনপির মহাসচিব মরহুম আব্দুল মান্নান ভুইয়া এই আসনে বিএনপির এমপি ও মন্ত্রী ছিলেন।জীবদ্দশায় তিনি সংস্কারপন্থী নেতা হিসেবে দল থেকে বহিস্কৃত হন এবং শেষ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। ঐসময়ের তার প্রতীক ছিল হাঁস। এবার তিনি মান্নান ভুইয়ার হাঁস প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।অন্যদিকে ২০১৮ সালে বিএনপি থেকে ধানের শীষের মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু তৎকালীন আওয়ামী ফ্যাসিষ্ট তার জনপ্রিয়তায় ইর্ষান্বিত তার উপর নগ্নভাবে হামলা চালিয়ে তার ২০ টি গাড়িতে ব্যাপক হামলা চালিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ঐ সময় তিনি প্রানে রক্ষা পান। আবার ও দল তাকে ধানের শীষ প্রতীক মনোনয়ন দেয়। মনজুর এলাহী মনোনয়ন পাওয়ায় বিএনপির নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ। ধানের শীষের প্রার্থী মনজুরএলাহীর পুটিয়া ও আইয়ুব ইউনিয়নে ভোট ব্যাংক রয়েছে।যা অন্য কোন প্রার্থীর নেই।এ ছাড়া আরও যারা নির্বাচনে অংশ নিয়ে জনসংযোগ করে যাচ্ছেন তারা হলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোস্তাফিজুর রহমান কে দল থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিলেও তিনি প্রত্যাহার করেন নি।তিনি বিরত থেকে গোপনে প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ছাড়া আরও যারা এ আসনে নির্বাচনে অংশ নিয়ে জনসংযোগ করে যাচ্ছেন তারা হলেন র্বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রাকিবুল ইসলাম রাকিব, জাকের পার্টির আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম আলী পাঠান, জাতীয় পার্টির রেজাউল করিম বাসেত, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের রায়হান মিয়া ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ওমায়েজ হোসেন ভুইয়াসহ নয়জন।


নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাব) : এই আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মো. জাহাঙ্গীর আলম। এ আসনে সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল ধানের শীষ প্রতীক মনোনয়ন দেওয়ায় দলের অঙ্গ সংগঠন নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধ।অণ্যদিক ১১ দলের প্রার্থী জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মোঃ জাহাঙ্গীর আালম বিগত আওয়ামী লীগের আমলে জামায়াতের প্রাথী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন.।সাধারণ ভোটার অভিমত ধানের শীষের সাথে জামা্যাত প্রার্থীর সাথে হাড্ডা হাড্ডি লড়াই হবে। তারা ভোটারদের আকৃষ্ঠ করতে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির কামাল উদ্দিন,ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ছাইফুল্লাহ,বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নাসিরউদ্দিন, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মিলন মিয়া, জনতার দল থেকে আবু দার্দ্দা মো:মার্জ এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কাজী সাজ্জাদ জহিরসহ আটজন লড়াই করবেন।


নরসিংদী-৫ (রায়পুরা):এই আসনকে বলা হয় আওয়ামী লীগের ঘাঁটি। এখান থেকে মোট ৬ বার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের রাজি উদ্দীন রাজু। এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা সবচেয়ে জটিল। বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল ও দলের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী জামাল আহাম্মদ চৌধুরী।ধাানের শীষের মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সহ সম্পাদক। জামাল আহমেদ চৌধুরী জেলা বিএনপির সহ সভাপতি ছিলেন কিন্তু দলেীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। দলের মধ্যে অনেক নেতা কর্মী স্বতন্ত্র প্রার্থী জামাল আহমেদ চৌধুরী সঙ্গে গোপনে কাজ করছেন এমন টি জানা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির অঙ্গ সংগঠন এর নেতৃবৃন্দ বলেন,ধানের শীষের প্রতিনিধি ইন্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দীন বকুল তার পছন্দমত নেতা কর্মীদের নিয়ে গনসংযোগ করছেন, আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে দলের বিদ্রোহী জামাল আহমেদ চৌধুরী গণসংযোগ করছেন। এতে বিএনপির ভোটাররা দু' প্রার্থীকে সমর্থন করছেন। বিএনপির ভোট বিভক্ত হওয়ার কারণে এ আসনে দুই প্রার্থীর দুই প্রার্থীর লড়াইতে উওেজনা থাকবে। তবে মুল লড়াইয়ে তারা না ও আসতে পারেন বলে মনে করেন সাধারন ভোটাররা।সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন অন্য দলের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।আওয়ামী লীগের ভোট কে পুজি করে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য ব্যারিষ্টার তৌফিকুর রহমান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন।তিনি এখনো মাঠে প্রচার চালাতে পারেন নি।অন্যদিকে চরাঞ্চল থেকে মো. পনির হোসেন, যিনি জামায়াত ইসলামী বহিস্কৃত নেতা। তিনি রায়পুরা উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান। সাধারণ ভোটার রা বলেন শেষ মুহূর্তে জামাত যদি তাকে সমর্থন দেয় তাহলে জয়ের পাল্লা তারই ভারী হবে। ইসলামী আন্দোলনের বদরুজ্জামান উজ্জ্বল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের তাজুল ইসলাম, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের তাহমিনা আক্তার,জাতীয় পার্টির মেহেরুন নেছা খান হেনা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে, ব্যারিস্টার তৌফিকুর রহমান, জামায়াতের সাবেক নেতা মুহাম্মদ পনির হোসেন, মো. সোলায়মান খন্দকার ভোটের মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।


বিবার্তা/কামাল/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com