
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে নির্বাচনসংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেছেন, অবৈধ অস্ত্র বহন, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবারের নির্বাচন হবে ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ ও অবাধ নির্বাচন।
দৌলতপুর থানার আয়োজনে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি বলেন, লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে এবং খুব শিগ্গিরই এসব অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হবে। এ ক্ষেত্রে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে বিদ্যমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পুলিশ সুপারের সঙ্গে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ জনগণের মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন, দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনিন্দ্য গুহ, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কল্লোল বিশ্বাস, কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের বিএনপি দলীয় প্রার্থী আলহাজ¦ রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা, জামায়াতে ইসলামের মনোনীত প্রার্থী উপাধ্যক্ষ মাওলানা মো. বেলাল উদ্দিন, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী সাহাবুল মাহমুদ, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি আমিনুল ইসলাম, ইসলামিক ফ্রন্টের প্রার্থী বদরুজ্জামান এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী শাহরিয়ার জামিল জুয়েল। মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও আমন্ত্রিত সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
সভায় এমপি প্রার্থীসহ অন্যান্য বক্তারা বলেন, দৌলতপুর একটি বৃহৎ ও সীমান্তবর্তী উপজেলা হওয়ায় সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে
বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র প্রবেশ করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু অস্ত্র উদ্ধার করা হলেও এখনও সন্ত্রাসীদের হাতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র রয়ে গেছে। এসকল অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না হলে নির্বাচনে সহিংসতা আশঙ্কা রয়েছে। তাই আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সহিংসতা এড়িয়ে শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি জানান তারা। বক্তারা আরও বলেন, ভোটাররা যেন নির্ভয়ে ও নিশ্চিন্তে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে তাঁদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ভ‚মিকা এখনও চোখে পড়ার মতো নয়। এখনো প্রায় দিনই চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও হত্যার ঘটনা ঘটছে। তাই এসব কারণে সাধারণ ভোটারদের মাঝে শঙ্কা বিরাজমান রয়েছে।
উল্লেখ্য, দৌলতপুর উপজেলায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদ, ইসলামী আন্দোলন, ইসলামিক ফ্রন্ট, জাতীয়
পার্টি ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি থেকে ৭জন প্রার্থী এবং বিএনপি থেকে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ৮জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দৌলতপুর উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লক্ষ ৪ হাজার ৫০৪ জন।
এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লক্ষ ৩ হাজার ৪৯২ জন, নারী ভোটার ২ লক্ষ ১ হাজার ১১ জন এবং একজন হিজড়া ভোটার রয়েছেন। এ উপজেলায় মোট ২৪৯টি ভোটার এলাকায় মোট ১৩৫টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে।
বিবার্তা/শরীফুল/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]