মালচিং পদ্ধতিতে শসা চাষে কৃষি উদ্যোক্তা জাকিরের চমক
প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:২১
মালচিং পদ্ধতিতে শসা চাষে কৃষি উদ্যোক্তা জাকিরের চমক
রাজবাড়ী প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

কৃষি উদ্যোক্তা জাকির হোসেন। ইউটিউব দেখে মালচিং পদ্ধতিতে নিরাপদ শসা চাষ করে ব্যাপক সারা ফেলেছেন তিনি। এ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে স্থানীয় কৃষকরা শসা চাষ শুরু করেছেন।


মালচিং পদ্ধতিতে নিরাপদ শসা চাষ করে ব্যাপক সারা ফেলেছেন কৃষি উদ্যোক্তা জাকির হোসেন। তিনি রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার সদর ইউনিয়নের বালিয়াকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। জাকির হোসেনের চাষের সফলতা দেখে এলাকার ২০ থেকে ২৫ জন কৃষক শসা চাষ শুরু করেছেন। শসার পাশাপাশি জাকির পেয়ারা, মালটা ও বরই চাষ করেছেন।


জাকির হোসেন বলেন, ‘২০২২ সাল থেকে গতানুগতিক চাষ থেকে বের হয়ে পাঁচ বিঘা জমিতে পেয়ারা, মালটা ও বরই চাষ শুরু করি। প্রতিটি চাষেই সফলতা আসে। এই ফসলগুলোর পাশাপাশি শসা চাষের চিন্তা মাথায় আসে। এরপর ইউটিউবে শসা চাষ পদ্ধতি দেখি। পাশাপাশি কৃষি অফিস থেকে পরামর্শ নেই। পরে ২০২২ সালে নিজ উদ্যোগে ৭ হাজার টাকা খরচ করে বগুড়ার একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে সবজির ওপর পাঁচ দিনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি। তারপর ২০২৫ সালে শুরু করি শসা চাষ।’ প্রথম পর্যায়ে ৪০ শতাংশ জমিতে তুফান জাতের শসা রোপণ করেছেন তিনি। এখন বাগানে ৪ হাজার গাছ রয়েছে। প্রতিটি গাছে শসা ধরেছে। বাঁশ ও নেট (সুতার জাল) বাদে মোট ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।৮০ দিনের মধ্যেই খেত থেকে ৪ লাখ টাকার শসা বিক্রির আশা করছেন তিনি।


তিনি বলেন, ‘গাছ রোপণের ৪০ দিনের পর শসা বিক্রি শুরু করেছি। প্রতি সপ্তাহে ২০ থেকে ২৫ মণ শসা বিক্রি করছি। প্রতি মণ শসার পাইকারি দাম ২ হাজার ২০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা।’


দক্ষিণ বালিয়াকান্দি গ্রামের জাকিরের শসার খেতে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি গাছে থরে থরে শসা ঝুলছে। সারি সারি গাছের নিচে বিছানো রয়েছে পলিথিন। পলিথিনের ছিদ্র থেকে গাছগুলো বেড়ে উঠেছে। পলিথিন থাকার কারণে জমিতে কোনো আগাছা নেই। জাকিরসহ কয়েকজন শ্রমিক শসা তুলছেন।


সেখানে রয়েছেন মোস্তফা শেখ, মুরাদ মোল্লাসহ বেশ কয়েকজন কৃষক। জাকিরের শসা চাষ দেখতে এসেছেন তারা। তারা বলেন, ‘আমরা সাধারণত গতানুগতিক চাষ করি। কিন্তু জাকির ভাই গতানুগতিক চাষ বাদ দিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে কৃষি কাজ করেন। এই সময় বালিয়াকান্দির বেশির ভাগ জমিতে ফুলকপিসহ অন্যান্য ফসল হয়। তবে জাকির শসা রোপণ করে সফল হয়েছেন। অল্প সময়ের মধ্যে তিনি বেশ ভালো টাকা আয় করেছেন।


জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার গোলাম রাসূল বলেন, ‘জাকির সাহেবের শসা চাষের ব্যাপারে কৃষি অফিস সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। তিনি সব সময় চেষ্টা করেন আধুনিক পদ্ধতিতে কৃষিকাজ করতে। শসা চাষ করে প্রথমবারেই তিনি সফল হয়েছেন। বাজারে শসার ভালো দাম থাকার কারণে তিনি বেশ লাভবান হয়েছেন।’


বিবার্তা/মিঠুন/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com