
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে ‘রাজনৈতিক মামলায়’ আটক বুদ্ধিজীবী, আইনজীবী, লেখক, সাংবাদিক ও শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিদের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন ৩০ নাগরিক।
সোমবার (২ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তারা এ দাবি জানান।
এতে বলা হয়, “অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজনৈতিক বিবেচনায় অসংখ্য মামলা করা হয়েছে। কোনো কোনো মামলায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ বুদ্ধিজীবি, আইনজীবী, লেখক, সাংবাদিক, শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশার নাগরিকদের আসামি করা হয়েছে।”
বিবৃতিতে বলা হয়, এদের অনেককে কোনো বিশেষ রাজনৈতিক ঘটনা বা দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকার কারণে গ্রেফতার করা হয়েছে। এমনকি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়, এমন ব্যক্তিরাও রয়েছেন। এদের অনেকের বিরুদ্ধে স্পষ্ট কোনো প্রমাণ না থাকলেও দেড় বছরের বেশি সময় তাদের জামিন দেওয়া হয়নি।
“এদের মধ্যে কয়েকজন সাংবাদিকও রয়েছেন। কেউ কেউ মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাই এসব অসুস্থ জামিনবিহীন ব্যক্তিদের মানবিক কারণে এবং সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনপূর্বক সুচিকিৎসার জন্য তাদের জামিনে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “অন্তবর্তীকালীন সরকার একাধিকবার জোরের সঙ্গে বলেছে, বিচার বিভাগ স্বাধীন। আমরা তার প্রতিফলন এই ক্ষেত্রে দেখিনি। শুধুমাত্র ভিন্নমত পোষণ করা এবং অন্তবর্তীকালীন সরকারের সমালোচনা করায় অনেক সাংবাদিককেও গ্রেফতার করে অন্তরীণ করা হয়েছে।
“অধিকাংশ ক্ষেত্রে গ্রেফতারের পর তাদের নামে মামলা দেওয়া হয়েছে। এক মামলায় হাইকোর্ট থেকে আইন অনুসারে জামিন হলেও অন্য মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।”
বিবৃতি দেওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল, খুশী কবির, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না, সুব্রত চৌধুরী, তবারক হোসেন, নারী পক্ষের সদস্য শিরীন পারভিন হক, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, রোবায়েত ফেরদৌস, জোবাইদা নাসরীন, খাইরুল চৌধুরী, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, লেখক রেহেনুমা আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুব, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফিরদৌস আজিম, ল্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাদাফ নূর, নৃবিজ্ঞানী নাসরিন খন্দকার, লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ, আইনজীবী সালমা আলী, সাংবাদিক সায়দিয়া গুলরুখ, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মনিন্দ্র কুমার নাথ, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ, আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী পারভেজ হাসেম, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, আইনজীবী সাইদুর রহমান, মানবাধিকার কর্মী সাঈদ আহমেদ, দীপায়ন খীসা, মেইনথিন প্রমীলা ও হানা শামস আহমেদের নাম রয়েছে।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]