
নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের একটি মামলায় হাজিরা দিতে আসা এক যুবককে ছাত্রলীগ নেতা সন্দেহে আটকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আইনজীবীরা বাধা দেন এবং বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ন্ত্রণে নেন।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা আদালত প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।
আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ বলেন, বিষয়টি আমরা পরে শুনেছি। তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি এবং এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক সংবাদকর্মী জানান, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ফারহান ও তার কয়েকজন অনুসারী আদালত প্রাঙ্গণে সজীব মিয়া নামে এক যুবককে ঘিরে ধরেন। তাকে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী দাবি করে শার্টের কলার চেপে ধরে হেনস্তা করা হয়। একপর্যায়ে মারধরেরও চেষ্টা করা হলে আদালতে উপস্থিত আইনজীবীরা বাধা দেন। পরে আইনজীবীরা ছাত্রদল নেতাকে জেলা আইনজীবী সমিতির ভবনে নিয়ে যান।
এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন জেলা আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত আইনজীবী (এপিপি) রাজীব মন্ডল, যিনি সজীব মিয়ার পক্ষে মামলা পরিচালনা করছেন। রাজীব মন্ডল বিএনপিপন্থি আইনজীবী এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সমাজসেবা সম্পাদক।
তিনি বলেন, সজীবের বিরুদ্ধে একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলা রয়েছে, যা করেছেন তার সাবেক স্ত্রী। ওই মামলায় জামিনে থেকে তিনি হাজিরা দিতে আদালতে এসেছিলেন। এটি কোনো রাজনৈতিক মামলা নয় এবং তার বিরুদ্ধে এখানে ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্ট কোনো অভিযোগ বিচারাধীন নেই।
তিনি আরও বলেন, কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে কোনো বিচারপ্রার্থীকে ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা আইনসম্মত নয়। পরিস্থিতি যাতে মব আকার না নেয়, সে কারণেই আমরা হস্তক্ষেপ করেছি। পরে বিষয়টি মীমাংসা হয় এবং সংশ্লিষ্ট ছাত্রদল নেতাও তার ভুল বুঝতে পেরে দুঃখ প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান ফারহান দাবি করেন, সজীব নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী। আগস্টের পরও সে সংগঠনের মিছিলে অংশ নিয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সক্রিয়তার প্রমাণ রয়েছে।
তিনি বলেন, সজীবের ছাত্রলীগের পোস্টার ও কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ছবি তারা মোবাইলে দেখেছেন, তবে সংগঠনে তার কোনো পদ রয়েছে কিনা—সে বিষয়ে নিশ্চিত নন।
ফারহান আরও বলেন, আমরা তাকে পুলিশের হাতে তুলে দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আইনজীবীরা আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন।
আইনজীবী রাজীব মন্ডল জানান, সজীব মিয়ার বাড়ি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলায়। তিনি বর্তমানে নারায়ণগঞ্জে তার বড় ভাইয়ের বাসায় অবস্থান করছিলেন।
সজীবের সাবেক স্ত্রী বলেন, দুপুর ১টার দিকে আদালতে উঠলে আসামিপক্ষের আইনজীবীর মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারি। এর আগে আদালত প্রাঙ্গণে তাকে হেনস্তার ঘটনা সম্পর্কে আমি অবগত ছিলাম না।
এর আগেও গত ১৪ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালত প্রাঙ্গণে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত আইনজীবীদের সঙ্গে উত্তেজনার মুখে পড়েছিলেন পুলিশের এক সাবেক কর্মকর্তা। সেসময় বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]