
সাভারের আশুলিয়ায় একদিকে চলছে নির্বাচনী উত্তাপ। অন্যদিকে ডাকাত আতংক। কোথাও স্বস্তিতে নেই কোন শ্রেণী পেশার মানুষেরা। সড়ক/মহাসড়ক থেকে বাসা বাড়িতে, কোথাও কেউ নিরাপদে নেই । প্রতিরাতেই শিল্পাঞ্চল সাভারের আশুলিয়ায় ঘটছে একের পর এক সশস্ত্র ডাকাতি বা ছিনতাইয়ের ঘটনা। এসব ঘটনায় এলাকাবাসী আতঙ্কিত হলেও উদাসিন পুলিশ প্রশাসন। ডকাতির ঘটনায় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হলেও এখনো তা নিরসনে পুলিশের কোন কার্যক্রম দেখা যায়নি । এবিষয়ে একাধিকবার আশুলিয়া পুলিশ ফাড়ি বা থানা পুলিশের কাছে গিয়েও মিলেনিনি কোন সদ উত্তর।
সিসিটিভির এই দৃশ্য শনিবার (৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাতের। ৫/৭ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল প্রাচীর টপকে আশুলিয়ার পূর্ব ডেন্ডাবর এলাকার ইতালী প্রবাসী টিটো সাহেবের বাসভবনের ভিতরে প্রবেশ করছে। পরে ডাকাত সদস্যরা বাড়ির দ্বিতীয় তলার বেলকোনীর গ্রীল কেটে ভিতরে প্রবেশের চেষ্টার সময় নিচতলায় অবস্থান করা ছোট ভাই মুরাদ বাবা রহমত আলীকে মুঠো ফোনে ডাকাতদের বাড়িতে প্রবেশের বিষয়টি জানালে ততক্ষনে রহমত আলী অস্ত্রের মুখে এলাকাবাসীর উদ্দ্যেশ্যে চিৎকার করতে থাকলে তাকে পিটিয়ে আহত করে ডাকাত সদস্যরা ।
এসময় বাবা এবং পুত্রের আত্মচিৎকারে এরাকাবাসী এগিয়ে আসে। এর পর ডাকাত দল সিসিটিভিতে দেখে দ্বিতীয় তলা থেকে প্রথমে প্রাচীর টপকাতে গেলে সেখানে মানুষের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পুনরায় মূল ফটক দিয়ে বের হয়ে যায়। এসময় আতঙ্ক ছড়াতে গুলি ছোড়ে ডাকাত দলের সদস্যরা। পরে দ্বিতীয় দফায় এলাকাবাসীর প্রতিরোধের মুখে আরো এক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এসময় গ্রীন সিটির সামনে গিয়ে উপস্থিত হলে নৈশ প্রহরীর সামনে পড়ে ডাকাত দল। পরে নিরাপত্তা প্রহরীকে পিটিয়ে আহত করে তারা।
এসময় একই এলাকার গ্রীন সিটি এলাকার নিরাপত্তা কর্মী কালাম
ডাকাতদের গতিরোধ করলে তাকে লোহার রডদিয়ে পিটিয়ে জখম করলে তার আর্ত চিৎকারে স্থানীয় বাসিন্দরা ডাকাতদের ধাওয়া করলে পালিয়ে যায় ডাকাত সদস্যরা । পরে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ডাকাতির ঘটনা চলাকালিন সময়ে জাতীয় জরুরি সেবা নাম্বারে (৯৯৯) ফোন দিলে
আশুলিয়া থানা পুলিশ প্রবাসীর বাড়িতে। পরে দিন সকালে ডাকাত দলের ফাঁকা গুলি ছোড়ার খোসা খুজে পাওয়া যায়।
স্পর্শকাতর ঘটনার পরও ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা দীর্ঘ প্রায় ৪৮ ঘন্টা পার হলেও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেনি এই ব্যাপারে কোন মামলা দায়ের হয়নি বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এই ঘটনার ১০ দিন আগে আশুলিয়ার চারাবাগ সংলগ্ন শাখা সড়ক বঙ্গবন্ধু সড়কে গাছের ডাল ফেলে সশস্ত্র ডাকাত দল সড়কটিতে চলাচলরত ২৫ থেকে ৩৫ জনের নিকট থেকে নগদ টাকা মোবাইল ফোন লুটে নেয় বলে জানায় ভুক্তভোগীরা ।
ওই সড়কের তিন থেকে চারটি স্পটে সন্ধ্যা নেমে এলেই ডাকাত আতঙ্কে সড়কটিতে মানুষের চলাচল কমে যায়। গেল বছরের ২৭ ডিসেম্বর ভোররাতের এই ঘটনা কালীন সময়ের মধ্যে কয়েকবার ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে ভুক্তভোগী ও স্থানীয় এলাকাবাসী জানায় বঙ্গবন্ধু সড়কে সর্বশেষ গত শুক্রবার রাত ৯ টায় ডাকাতির ঘটনাটি ঘটে ছিলো একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা।
বঙ্গবন্ধু সড়কের শ্রীখন্ডিয়া থেকে চারাবাগ এলাকার মাঝামাঝি স্থানে পুলিশের টহল দলের অবস্থানের মাত্র ২০০ মিটার দূরে গাছের ডাল ফেলে পালা ক্রমে সড়কে চলাচলরত যানবাহনের যাত্রীদের কাছ থেকে সর্বস্ব লুটে নিচ্ছিল, মোবাইল ,নগদ টাকা সহ স্বর্ণালংকার চলছিলো গন ডাকাতি। আক্রান্ত এক ভুক্তভোগী দেখতে পান ,তাদের পাশেই রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা পুলিশ ঠিক ২০০মিটার দূরে দাঁড়িয়ে আছে। পরে তাদের চিৎকারে পুলিশ এগিয়ে এসে ডাকাতদের লেজার সংকতে দিয়ে সাহার্য্য প্রার্থীকে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চলে যেতে বলেন। এই ঘটনায় একাধিকবার আশুলিয়া থানা পুলিশে অভিযোগ করা হলে উল্টো ভুক্তভোগীরাই ভোগান্তির শিকার হন বলে জানায়। প্রতিরাতে নগদ টাকা মোবাইল ফোন স্বর্ণালংকার লুটে নিচ্ছে ডাকাত চক্র। প্রতিরাতে সিএনবি শাখা সড়ক থেকে বঙ্গবন্ধু শাখা সড়ক পর্যন্ত এলাকা গুলো সন্ধ্যা রাত থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সামনেই চলে ডাকাতি নির্বিকার পুলিশ দর্শকের মত দাঁড়িয়ে থাকে বলে জানায়। এমনি করেই অভিযোগ করছিলেন বয়সে তরুণ আলামিন নামে পেশায় সে একজন ইলেকট্রিশিয়ান।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ থানা পুলিশের কাছে নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তা চাইতে গিয়ে উল্টো ভোগান্তির শিকার সাধারন মানুষ।
ঘটনা ২টির বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবেল হাওলাদারের কাছে জানতে চাইলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া সাংবাদিকদের সাথে ক্যামেরার সামনে কথা কথা বলা যাবে না বলেন তিনি গত এক মাসে ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানায় কমপক্ষে ২৫ টি ছিনতাই তিনটি ডাকাতির ঘটনা ঘটলেও আশুলিয়া থানায় অভিযোগ আমলে নেয়নি থানা কর্তৃপক্ষ বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
বিবার্তা/শরিফুল/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]