বিশ্বকাপে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ছিল আর্জেন্টিনার ম্যাচ, মেসিকে হত্যার হুমকি
প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ১৭:৪০
বিশ্বকাপে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ছিল আর্জেন্টিনার ম্যাচ, মেসিকে হত্যার হুমকি
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রিন্ট অঅ-অ+

যুক্তরাষ্ট্র পুলিশের ফাঁস হওয়া একটি গোপন নথি থেকে জানা গেছে, বিশ্বকাপের মাঠ ও হোটেল কক্ষগুলোকে কিভাবে মৃত্যুর উপত্যকায় পরিণত করার পরিকল্পনা করেছিল সন্ত্রাসীরা। যেখানে প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়েছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি এবং নিরাপত্তাজনিক শঙ্কা ছিল আরেক মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ঘিরেও।


স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘ইনফরমেশন ডট ইএস’-এর সূত্রের বরাতে ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য সান-এর প্রতিবেদনের তথ্যমতে, আর্জেন্টিনা দলের ম্যাচগুলো ছিল চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে। আর্জেন্টিনা আর জর্ডানের মধ্যকার ম্যাচের আগে ডালাস বিমানবন্দরে এক ব্যক্তি ফোন করে হুমকি দেন যে, এআর-১৫ রাইফেল ও হ্যান্ড গ্রেনেড নিয়ে স্টেডিয়ামে হামলা চালানো হবে। পুলিশ অফিসার ও খেলোয়াড়দের পাশাপাশি বিশেষ করে মেসিকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।


একই শঙ্কা তৈরি হয়েছিল আর্জেন্টিনা আর মিসরের মধ্যকার ম্যাচকে কেন্দ্র করেও। ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) এক উগ্রপন্থী হুমকি দিয়ে লেখেন, গায়ে চারটি বোমা বেঁধে আটলান্টার স্টেডিয়ামে ঢুকে মেসিকে উড়িয়ে দেবেন তিনি। এমনকি ম্যাচের চলাকালীন গ্যালারির ডাস্টবিনে বোমা রাখা হয়েছে এমন ফোন পেয়ে পুরো স্টেডিয়ামে স্নাইফার ডগ ও বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ দল নিয়ে জরুরি তল্লাশি চালায় পুলিশ।


শুধু মেসিই নন, রোনালদোকেও তাড়া করে ফিরেছিল নিরাপত্তাহীনতা। বিশ্বকাপ চলাকালে পর্তুগিজ মহাতারকার হোটেল আবাসন ও রুমের গোপনীয়তা জানতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি। এমনকি আরেক উগ্র সমর্থক নিরাপত্তার চোখ ফাঁকি দিয়ে সরাসরি রোনালদোর হোটেলে ঢুকে তার হোটেলের লিফটে ওঠার চেষ্টা চালান। পরে পুলিশ তাকে আটক করলে তিনি জানান, কেবল একটি সেলফি তোলার জন্যই নাকি তার এই দুঃসাহসিক প্রচেষ্টা ছিল!


মাঠের তারকাদের এই নিরাপত্তা সংকটের রেশ গড়ায় রেফারি ও অন্যান্য ফুটবলারদের ওপরও। আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচে বিতর্কিত সিদ্ধান্তের জেরে ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া ল্যাটেক্সিয়ারের ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপে ধেয়ে আসে ৬ হাজারের বেশি হুমকিবার্তা। একই পরিণতি বরণ করতে হয় ভিএআর রেফারি উইলি দেলাজোকেও। সামান্য ভুলের মাশুল দিতে হয়েছে নরওয়ের আলেকজান্ডার সরলথ ও কলম্বিয়ার জোন হামিন্তন কামপাজদের মতো ফুটবলারদেরও, যারা পেনাল্টি মিস বা পাস না দেওয়ার কারণে সপরিবারে পেয়েছেন প্রাণনাশের হুমকি।


সবচেয়ে কড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা ছিল ইংল্যান্ড দলের বেস ক্যাম্প। তিন স্তরের বেষ্টনী, কংক্রিটের ব্যারিকেড, অ্যান্টি-স্নাইপার স্ক্রিন এবং ড্রোন হামলা রোধে নো-ফ্লাই জোন চালুর পরও মিডিয়া সেন্টারে ঢুকে এক ব্যক্তির রড বা রেঞ্চ নিয়ে তাণ্ডব চালানোর ঘটনা পুরো টুর্নামেন্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছিল।


এসব ঘটনা ১৯৯৪ বিশ্বকাপে আন্দ্রেস এসকোবারের সেই নির্মম হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি যেন আবারও ফিরে আসার উপক্রম হয়েছিল। ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পেকে নিয়ে বর্ণবাদী আক্রমণ থেকে শুরু করে দক্ষিণ কোরিয়ার কোচের বিরুদ্ধে পুলিশের তদন্ত, সব মিলিয়ে ফুটবল বিশ্বকাপের আঙিনা পরিণত হয়েছিল এক অজানা শঙ্কা ক্ষেত্রে।


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected] ​, [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com