মরক্কোর চ্যালেঞ্জে জয় অধরা, পয়েন্ট ভাগাভাগি ব্রাজিলের
প্রকাশ : ১৪ জুন ২০২৬, ০৭:৫১
মরক্কোর চ্যালেঞ্জে জয় অধরা, পয়েন্ট ভাগাভাগি ব্রাজিলের
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

যেমন কোনো উপন্যাসের প্রথম অধ্যায় সব সময় নায়ককে জয়ী করে না, তেমনি বিশ্বকাপের গল্পের শুরুটাও ব্রাজিলের জন্য হলো না প্রত্যাশামতো। স্বপ্ন, প্রত্যাশা আর সমর্থকদের উচ্ছ্বাস নিয়ে মাঠে নামলেও উদ্বোধনী অধ্যায়ে পূর্ণতা পেল না সেলেসাওদের কাহিনি।


মরক্কোর বিপক্ষে লড়াইয়ে জয় ছুঁয়ে দেখা হয়নি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। পিছিয়ে পড়ার পর অবশ্য ঘুরে দাঁড়ানোর দৃঢ়তা দেখিয়েছে ব্রাজিল। শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা। ফলে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ শেষে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে দুই দলকে।


শুরু থেকেই ব্রাজিল ছিল অগোছালো ও ছন্নছাড়া। ভুল পাস, মিস পাস আর দুর্বল মার্কিংয়ে তাদের খেলায় ছিল না কোনো ছন্দ। প্রায় প্রতিটি খেলোয়াড়ই যেন নিজের সেরা রূপ থেকে অনেক দূরে ছিলেন। গা-বাঁচানো ফুটবলে ব্রাজিলের পারফরম্যান্স হয়ে উঠেছিল বেশ দৃষ্টিকটু।


অন্যদিকে বল দখল ও আক্রমণ সাজানোর ক্ষেত্রে মরক্কো দেখিয়েছে দারুণ মুন্সিয়ানা। তাদের দ্রুত ও নিখুঁত আক্রমণ শুরু থেকেই ব্রাজিলের রক্ষণভাগে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে মাঝমাঠে দিয়াজ ছিলেন অসাধারণ। তিনি দক্ষতার সঙ্গে খেলা নিয়ন্ত্রণ করে ফরোয়ার্ডদের কাছে বল পৌঁছে দিচ্ছিলেন, যার সুফলও পায় দল।


ম্যাচের ২১তম মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত গোল। দিয়াজের নিখুঁত থ্রু পাস ধরে এগিয়ে যান ইসমায়েল সাইবারি। বিপদ আঁচ করে গোললাইন ছেড়ে সামনে এগিয়ে আসেন গোলরক্ষক আলিসন। তবে তার আগেই ঠান্ডা মাথায় বলটি চিপ করে জালে পাঠিয়ে স্টেডিয়ামকে স্তব্ধ করে দেন ইসমায়েল। মরক্কো পেয়ে যায় মূল্যবান লিড।


নিউ ইয়র্কের নিউ জার্সির স্টেডিয়াম হলুদ জার্সিতে ভরা ছিল। গোল হমজের পর পুরো স্টেডিয়ামে নেমে আসে পিনপতন নিরাবতা। অবশ্য ওই নিরাবতা ভেঙে দলকে দুর্দান্ত এক গোলে সমতা ফিরিয়ে দেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।


৩২ মিনিটে বা প্রান্ত দিয়ে মরক্কোর বক্সে ঢুকে ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে কোনাকুনি শটে লক্ষ্যভেদ করেন ভিনিসিয়াস। দলের সেরা তারকার থেকে এমন গোল পেয়ে বেশ উজ্জীবিত হয়ে উঠে ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুস পূরণ করেন ব্রাজিলের জার্সিতে নিজের ৫০তম গোল।


দুই দলের দৃষ্টিনন্দন ফুটবল থেমে যায় ওখানেই। প্রথমার্ধের বাকি সময়টায় বল কাড়াকাড়িতেই ব্যস্ত ছিল দুই দল। ফিরে এসেও তেমন মন জোগানো পারফরম্যান্সও ছিল না। ছিল না ভালো অ্যাটাক কিংবা দারুণ কোনো সেভ। তাতে শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে পয়েন্ট ভাগাভাগিতে হয়ে যায় ম্যাচের ফয়সালা।


ব্রাজিলের কাসিমেরো ও রজার এলবানেজ দেখেছেন হলুদ কার্ড। মরক্কোর ১৩ শটের মধ্যে অন টার্গেটে ছিল মাত্র ৪টি। আর ব্রাজিলের ৮ শটের ৪টিই ছিল অন টার্গেটে। প্রথম দুই গোলের পর প্রভাববিস্তারকারী পারফরম্যান্স কমে যাওয়ায় ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় ড্রয়ে।


মরক্কোর বিপক্ষে এর আগে বিশ্বকাপে একবারই খেলেছিল ব্রাজিল। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে জিতেছিল ৩-০ ব্যবধানে। গোল করেছিলেন রোনালদো ও রিভালদো। এবার ভিনিসিয়ুস গোল করলেন। গোল করে দলকে সমতায় ফেরালেন। কিন্তু রিয়াল মাদ্রিদ সুপারস্টার দলকে জেতাতে পারলেন না। ১ পয়েন্টেই আপাতত সুখ খুঁজে নিতে হবে তাদের।
চোটের কারণে ম্যাচ খেলতে পারেননি নেইমার। তার অভাব অনুভব হয়েছে স্পষ্ট। দলের সঙ্গে মাঠে এসে গ্যালারিতে জায়গা খুঁজে নিতে হয়েছে তাকে। ২০ জুন হাইতির বিপক্ষে নেইমার ফিরবেন এমনটাই আশা করা হচ্ছে।


বিবার্তা/এসএম


























সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com