
মানুষের পরিচয় ও ব্যক্তিত্ব গঠনের ক্ষেত্রে নামের গুরুত্ব অত্যন্ত গভীর। এ জন্য সুন্দর, অর্থবহ ও শালীন নাম রাখার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে ইসলাম। হাদিসে নামকরণসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাও এসেছে।
ইসলামের দৃষ্টিতে নাম হওয়া চাই সুন্দর অর্থবোধক। অর্থহীন, কুৎসিত বা নেতিবাচক অর্থ বহনকারী নাম রাখতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে এমন অনেক সাহাবির নাম পরিবর্তন করে দিয়েছেন, যাদের নামের অর্থ ছিল অসুন্দর বা অহংকারপূর্ণ। হাদিস শরিফে সুন্দর নাম রাখার তাগিদ দিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কিয়ামতের দিন তোমাদের নিজের নাম ও পিতার নাম ধরে ডাকা হবে। সুতরাং তোমরা সুন্দর নাম রাখো।’ (সুনানে আবু দাউদ: ৪৩০০)। এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, নামের প্রভাব শুধু দুনিয়াতে নয়, আখিরাতেও প্রতিফলিত হবে।
নামকরণের ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলার প্রতি দাসত্বের প্রকাশ একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। ‘আবদুল্লাহ’, ‘আবদুর রহমান’ এ ধরনের নাম আল্লাহর গুণবাচক নামের সঙ্গে দাসত্বের সম্পর্ক স্থাপন করে। এ জন্য আল্লাহ তাআলা এ নামগুলো সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলার কাছে সবচেয়ে প্রিয় নাম হলো আবদুল্লাহ ও আবদুর রহমান।’ (সহিহ মুসলিম: ২১৩২)
এ ছাড়া নবী-রাসুল, সাহাবি ও সৎ মানুষের নামে নাম রাখা মুস্তাহাব (পছন্দনীয়)। ইসলাম এমন নাম রাখতে নিষেধ করেছে, যে নামের অর্থ শিরক, কুফর বা আত্মপ্রশংসার ইঙ্গিত বহন করে। একইভাবে পাপাচার, নিষ্ঠুরতা বা অশালীন অর্থবোধক নামও পরিহার করা জরুরি।
বর্তমান সময়ে আনকমন নাম খুঁজতে গিয়ে আমরা এমন কিছু নাম রাখি, যেগুলোর অর্থ উদ্ঘাটন করাই সম্ভব হয় না। আবার কখনো অর্থ উদ্ঘাটন করতে পারলেও দেখা যায় সে নামের অর্থ অসুন্দর। অথচ দুনিয়ার জীবনেও যে অধিকাংশ ক্ষেত্রে নামের প্রভাব মানুষের ওপর প্রতিফলিত হয়, এটা একটা ঐতিহাসিক বাস্তবতা। এ জন্য নামকরণের ক্ষেত্রে আলেমদের সঙ্গে পরামর্শ করে সুন্দর অর্থবহ নাম রাখা উচিত।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]