‘আস্থার প্রতীক শেখ হাসিনার জন্মদিন’
প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৮:৩৪
‘আস্থার প্রতীক শেখ হাসিনার জন্মদিন’
মো. শফিকুল ইসলাম
প্রিন্ট অ-অ+

বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ এখন পরিচিত এক নাম, অধিকাংশ মানুষই লাল সবুজ পতাকার এই দেশকে জানেন ও চেনেন। এই পরিচয়, পৃথিবীর মাঝে আমাদের এই অস্তিত্ব ও অগ্রসরমাণ পরিচিতি সম্ভব হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁরই সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার কারণে।


আজ ২৮ সেপ্টেম্বর, তাঁর জন্মদিন। জন্মদিনে জানাই অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। আজকের দিনে তাঁর দীর্ঘায়ু কামনা করি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবতার প্রতীক। তিনি সর্বদা সুখে দুঃখে মানুষের পাশে দাঁড়ান। কিছুদিন পূর্বে শেরপুর জেলার এক গরিব মানুষকে ঘর করে দেন প্রধানমন্ত্রী। টেকনাফের মামুন সরকার প্রধান শেখ হাসিনার মোবাইলে খুদে বার্তা প্রেরণ করলে পূর্বের ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী মামুনের পরিবারকে ঘর করে দিতে এলাকার জেলা প্রশাসককে নির্দেশনা দেন। এখন মামুনের চোখে খুশির হাসি। টেকনাফে মামুনের পাশে প্রধানমন্ত্রী। তাকে ঘর ও জমি কিনে দিয়েছেন। এ ধরণের কাজ, মানুষের পাশে থাকার এই প্রচেষ্টা, আপাতদৃষ্টিতে সহজ মনে হলেও, আদতে খুবই ইতিবাচক এবং প্রশংসনীয়, কারণ তা একজন ব্যক্তি মানুষের জন্য তাঁর দরদকেই প্রকাশ করে।


এজন্যই তিনি হলেন এক ও অনন্য নারী। তার নেতৃত্বে এখন নারীদের অবস্থান সমুন্নত হয়েছে দেশে ও বিদেশে। সংসদে নারীদের আসন সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন প্রশাসনিক দফতরে নারীদের অবস্থান বেড়েছে একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণে। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগে কেন্দ্রীয় কমিটিতে নারীদের পদ দেয়ার সংখ্যা অতীতের তুলনায় অনেক বেড়েছে।


সম্প্রতি বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ নারীর তালিকায় ৩৯তম অবস্থানে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাময়িকী ফোর্বস এই তালিকাটি প্রকাশ করেছে। তালিকা অনুযায়ী দক্ষিণ এশিয়ায় শেখ হাসিনার পরেই আছেন ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। সাময়িকীতে আরো উল্লেখ রয়েছে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সাময়িকী ফোর্বস এর তালিকায় তাঁর অবস্থান অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। তিনি বর্তমানে চতুর্থ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর ধারাবাহিক ক্ষমতায় থাকার কারণে দেশ অর্থনৈতিকভাবে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে। তিনি খাদ্য নিরাপত্তা এবং জনগণের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতে অনেক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে একটি শক্ত ভিত্তি দেওয়ার জন্য শেখ হাসিনা নির্দেশনা দিচ্ছেন ও অবিরাম সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। দেশ বিভিন্নভাবে অর্থনীতির অনেক খাতে ব্যাপক হারে সাফল্য অর্জন করছে যা অতীতের সাথে তুলনা করলে যে কেউ অনুধাবন করতে পারবেন।


এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে প্রচ্ছদ প্রকাশ করছে নেদারল্যান্ডসের নামকরা ডিপ্লোম্যাট ম্যাগাজিন। এই ম্যাগাজিন শিরোনাম করেছে ‘শেখ হাসিনা : মাদার অব হিউম্যানিটি’। ম্যাগাজিনটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ব্যবহার করে একটি সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন করেছে। যা দেখে অনেকের মত আমিও খুবই গর্বিত হয়েছি। মানবতার কল্যাণে নিবেদিত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ উপাধি দেয়া এবং প্রচ্ছদে তার প্রকাশের জন্য ঐ ম্যাগাজিনের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের আশ্রয় দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সীমান্ত খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে যেভাবে লাখ লাখ নির্যাতিত মানুষের জীবন রক্ষা করেছেন যা অবশ্যই বিশ্বে প্রশংসনীয়। সঙ্গত কারণেই তিনি বিশ্ববাসীর নিকট ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর কারণে আজ রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে নিরাপদে বসবাস করছে।


বাংলাদেশে টিকাদান কর্মসূচির সাফল্যের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘ভ্যাকসিন হিরো’ সম্মাননায় ভূষিত করেছে গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাক্সিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (জিএভিআই)। জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর হাতে এ পুরস্কার তুলে দেন জিএভিআই বোর্ডের চেয়ার নগচি ওকোনজো-আইয়েলা। বাংলাদেশে টিকাদান কর্মসূচিতে ব্যাপক সফলতা, পোলিও নির্মূলে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা এবং ডিপথেরিয়া, হেপাটাইসিস বি এর মত মরণব্যাধি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর অবদান রাখায় শেখ হাসিনার প্রশংসা করে এই পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। এটা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। এই পুরস্কার তাদের দেয়া হয় যারা শিশুদের জীবন রক্ষার জন্য জরুরি টিকাদানে কার্যকর পদক্ষেপ নেয় এবং সব শিশু যাতে টিকা পায়, তা নিশ্চিত করতে কাজ করে। সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে বলা হয়, ‘শুধু টিকাদান কর্মসূচি নয়, শিশু ও নারীর অধিকার আদায়ে শেখ হাসিনা একজন সত্যিকারের সফল রাষ্ট্র নায়ক।’ সম্মাননা পাওয়ার পর শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ পুরস্কার আমার না। এটা বাংলাদেশের জনগণকে আমি উৎসর্গ করলাম।’


বিশ্বায়নের যুগে অন্যান্য দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশকে আধুনিক, বিজ্ঞানভিত্তিক দেশে রূপান্তর করার উদ্দেশ্য কাজ করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ক্ষেত্রে তার নেয়া পদক্ষেপের বস্তবায়ন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে চলমান বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ চলমান থাকায় সারা বিশ্বেই তিনি প্রশংসিত। শেখ হাসিনার যুগোপযোগী ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপে দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ব্যাপকতর হয়েছে। যার কারণে সফলতার স্বীকৃতি হিসেবে ‘ভ্যাকসিন হিরো’, ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’, ‘স্টেট ম্যান’, ‘ইস্টার অব ইস্ট’, ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ ইত্যাদি সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। এইসব অর্জন সত্যি আমাদেরকে বিশ্ব দরবারে ইতিবাচকভাবে পরিচিত করিয়ে দিচ্ছে।


বিশ্বের বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও ইনস্টিটিউটেও শান্তি প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্র সমুন্নত ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের জন্য শেখ হাসিনা বিভিন্ন সময় সম্মানিত হয়েছেন। ১৯৯৬ সালে প্রথম ক্ষমতায় এসে পার্বত্য শান্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখেন। দীর্ঘ দুই দশকের অস্থিরতার অবসান ঘটিয়ে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য ইউনেস্কো তাকে ‘হুপে-বোয়ানি’ শান্তি পুরস্কার দেয়। ১৯৯৯ সালে অ্যাওয়ার্ড হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ইউনেস্কোর মহাপরিচালক ফেদেরিকো মেয়র বলেছিলেন, জাতি গঠনে আপনার পিতার অনুসৃত পথ অবলম্বন করে আপনি দেশকে শান্তি ও পুনর্মিলনের পথে নিয়ে গেছেন। দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আপনার উদ্যোগ ও নিষ্ঠা বিশ্বে শান্তির সংস্কৃতির দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। ক্ষমতার ওই মেয়াদেই জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি ক্ষুধার বিরুদ্ধে আন্দোলনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শেখ হাসিনাকে সম্মানজনক ‘সেরেস’ মেডেল প্রদান করে।


বাংলাদেশে নারী শিক্ষা ও উদ্যোক্তা তৈরিতে অসামান্য নেতৃত্ব দানের জন্য শেখ হাসিনা গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘গ্লোবাল সামিট অব ওমেন’ তাকে এ সম্মাননা দেয়। মিয়ানমার থেকে নির্যাতিত হয়ে আসা ১০ লাখের মতো রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে মানবিকতার জন্য প্রধানমন্ত্রী আইপিএস ইন্টারন্যাশনাল এচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড এবং ২০১৮ স্পেশাল ডিসটিংশন অ্যাওয়ার্ড ফর লিডারশিপ পদক পান। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় নিউজ এজেন্সি ‘দি ইন্টার প্রেস সার্ভিস (আইপিএস) এবং নিউইয়র্ক, জুরিখ ও হংকং ভিত্তিক তিনটি অলাভজনক ফাউন্ডেশনের নেটওয়ার্ক গ্লোবাল হোপ কোয়ালিশন ২০১৮ সালে শেখ হাসিনাকে এ দুটি অ্যাওয়ার্ড প্রদান করে।


২০১৫ সালে শেখ হাসিনা বিশ্বের সর্বোচ্চ পরিবেশ বিষয়ক পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’ পুরস্কার লাভ করেন। বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় দূরদর্শী পদক্ষেপে নেয়ায় তাকে সেই স্বীকৃতি দেয়া হয়। এই বছরই জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে আইসিটির ব্যবহারে প্রচারণার জন্য শেখ হাসিনাকে ‘আইসিটি সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়। ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী এমডিজি অর্জনে, বিশেষ করে শিশু মৃত্যুর হার হ্রাসে অবদানের জন্য জাতিসংঘের অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। উইমেন ইন পার্লামেন্ট (ডব্লিউআইপি) ও ইউনেস্কো বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীকে ‘ডব্লিউআইপি গ্লোবাল ফোরাম অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করে। দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে লিঙ্গ বৈষম্য হ্রাসে অগ্রণী ভূমিকা পালনের জন্য ২০১৯ সালে তাকে এ পদক দেওয়া হয়। নারী শিক্ষা প্রসারের জন্য ২০১৪ সালে শেখ হাসিনাকে ‘ট্রি অব পিস’ পুরস্কার দেয়া হয়।


এছাড়াও ১৯৯৯ পার্ল এস বাক অ্যাওয়ার্ড, মাদার তেরেসা পদক, এমকে গান্ধী পদক, ২০০৯ সালে ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পুরস্কার, ইন্দিরা গান্ধী স্বর্ণ পদক, হেড অব স্টেট পদক, ২০১১ ও ২০১২ গ্লোবাল ডাইভার্সিটি অ্যাওয়ার্ড, ১৯৯৭ নেতাজী স্মৃতি পুরস্কার পান শেখ হাসিনা। সর্বশেষ তিনি স্বপ্নের পদ্মা সেতু স্থাপন করে দেখিয়ে দিয়েছেন যে বাংলাদেশ চাইলে যেকোন চ্যালঞ্জ গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করতে পারে। এত বড় সেতু বিদেশী আর্থিক সাহায্য ছাড়া নিজস্ব অর্থায়নে স্থাপন করা হয়। এই অর্জন কোন সাধারণ অর্জন নয়। বিরাট অর্থনৈতিক সক্ষমতার ব্যাপার এই অর্জন। এটা সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর যথাযথ নেতৃত্বের কারণেই। এজন্যই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন ব্যতিক্রমী রাষ্ট্র নায়ক এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে সফলতম প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা এমন একজন নারী যাকে নিয়ে গর্ব করা যায়, কারণ তাঁর সঠিক পরিকল্পনায় দেশ আমাদের কাঙ্কিত লক্ষে এগিয়ে যাচ্ছে।


লেখক : সাবেক সভাপতি, শিক্ষক সমিতি, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ


বিবার্তা/ইমরান

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com