উগ্র জাতীয়তাবাদ নয় চাই টিকার বিশ্বায়ন
প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২১, ১৪:৩৪
উগ্র জাতীয়তাবাদ নয় চাই টিকার বিশ্বায়ন
প্রফেসর ড. মো. নাসিরউদ্দীন মিতুল
প্রিন্ট অ-অ+

গত ২৭ জুন ২০২০ সালে প্রথম করোনা ঢেউ’র সময় আমার তিন পর্বের লেখা ‘নিউ নর্মালঃ ভিন্ন এক পৃথিবীতে বেঁচে থাকার চ্যালেঞ্জ-পর্ব-৩ এ আমি ঠিক এমনটি পূর্বভাস দিয়ে লিখেছিলাম, ‘করোনা পরবর্তী পৃথিবীটা মৌলিকভাবেই বদলে যাবে। গ্লোবালাইজেশনের কনসেপ্ট এখান থেকেই চির বিদায় নিবে এবং জাতীয়তাবাদ মাথা চাড়া দিয়ে উঠবে দারুণভাবে। কে কার আগে ভ্যাকসিন পাবে সেটিও নানানভাবে বিশ্ববাসীকে ভাবিয়ে তুলছে। এখানে মানবতা জাতীয়তাবাদকে আপাততঃ পরাস্ত করেছে সত্যি, কিন্ত ভ্যাকসিন বাজারে আসার পর নিকট ভবিষ্যৎ বলে দিবে কোনটি আসল সত্য? বিশ্ব মানবতা নাকি জাতীয়তাবাদ? করোনাকালীন বিশ্ব পরিমন্ডলে যা কিছু ঘটছে তাতে এটুকুন পরিষ্কার যে, জাতীয়তাবাদ মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে চরমভাবে’। বিশ্বময় করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এর সময়ে এসে দেখা গেলো ভবিষ্যৎবাণীর পুরোটাই মিলে গেছে।


আজ আমরা এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। উন্নত বিশ্ব বরাবরের মত এখানেও ত্রাতার ভূমিকায়। তাদের ‘ইয়া নাফসি’ নীতির কাছে কাছে ভুলন্ঠিত গোটা তৃতীয় বিশ্ব। ‘আপনি বাঁচলে বাপের নাম’ এমন অদ্ভুদ আত্মকেন্দ্রিকতা বিশ্ব কি এর আগে কখনও পরখ করেছে? উত্তরে বলবো-করেছে। যদিও এর পরিনাম তখনও সুখের হয়নি।


ইতিহাস সাক্ষী দেয়। ২০০৯ সালে এইচওয়ানএনওয়ান (H1N1) ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারির সময় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যে ২০০ কোটি ডোজ টিকার চাহিদা দিয়েছিল, আমেরিকা একাই তার এক-তৃতীয়াংশ আগাম ক্রয় করে মজুদ রেখেছিল। আমেরিকার দেখাদেখি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনেক দেশ টিকা কেনার অগ্রিম চুক্তি করে রেখেছিল। অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ এ নিয়ে কোনও প্রস্তুতির সুযোগ পায়নি। অথচ পরবর্তীতে মহামারির প্রাদুর্ভাব কমে এলে বাজারে টিকার চাহিদা ব্যাপক হ্রাস পায়। ঠিক তখনই তারা উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশে টিকা সরবরাহের কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে। রমজানের আগে দেশের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী যেমন পেঁয়াজ, মরিচ, আদা, রসুন, ভোজ্য তেল মজুত করে বাজারে একরকমের কৃত্রিম সঙ্কট তৈরী করে ব্যাপারটা অনেকটা সেই রকম। তবে করোনা এভাবে ক্রমাগত রুপ পাল্টালে পরিস্থিতি আগামীতে আরো ভয়াবহ হয়ে উঠবে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ দীর্ঘ হলে কিংবা তৃতীয় ঢেউ এর সম্ভাবনা দেখা দিলে উন্নত বিশ্বের এমন ন্যাক্কারজনক উগ্র-জাতীয়তাবাদ তৃতীয় বিশ্বকে অনেকদূর ভোগাবে। তেমন পরিস্থিতে টিকা অনেকের কাছে অধরাই থেকে যাবে। বিশ্বের ধনী দেশগুলো মূলত টিকা জোগাড়ে দুটি কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বেঁছে নিয়েছিল। একটি হচ্ছে নিজের দেশে উৎপাদন বাড়িয়ে একটি বিশাল ঔষধ ভাণ্ডার গড়ে তোলা। আরেকটি হচ্ছে বিশ্বের প্রধান টিকা উৎপাদনকারীদের সহিত অগ্রিম অর্থ পরিশোধ করে চুক্তি করে রাখা।


বাংলাদেশ আগেভাগে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা বুকিং দিয়ে অনেক বুদ্ধির পরিচয় দিয়েছে। এটি ৭০ শতাংশ পর্যন্ত সুরক্ষা দিতে পারে। মার্কিন কোম্পানি ফাইজার ও মডার্না তাদের তৈরি টিকা ৯৫ শতাংশ সুরক্ষা দিতে সক্ষম। তবে ঐ দুই টিকার চেয়ে অক্সফোর্ডের অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দামে সস্তা ও সংরক্ষণ প্রক্রিয়া সহজ। তাছাড়া প্রতিবেশী দেশ ভারতের সেরাম ইন্সটিটিউটে উৎপাদিত হলে আগেভাগে পাওয়া যাবে এমন চিন্তা ভাবনা থেকেই আগাম অর্থ পরিশোধ করে এর বুকিং নিশ্চিত করা হয়। এখন মনে হচ্ছে যথেষ্ট পরিমান হোম-ওয়ার্ক না করে শুধুমাত্র বেক্সিমকো ফার্মাসিটিক্যালস এর কথায় সরকার সেরামের সাথে চুক্তি করে কাজটি ভাল করেনি। ভারতের ওপর একক নির্ভরশীলতা অনেকটা ফাঁদে পা দেয়ার সামিল হয়েছে।


বাংলাদেশ ৩ কোটি ডোজ টিকা ক্রয়ের অর্থ ইতোমধ্যে পরিশোধ করেছে। অথচ ক্রয় ও উপহার সব মিলিয়ে ১ কোটি ৩ লাখ ডোজ মাত্র সেখান থেকে পাওয়া গেছে। যার মধ্যে ৭৭ লাখ ৪৭ হাজার ডোজ টিকা দেয়া হয়ে গেছে। হাতে আছে ২৬ লাখের মত। সমস্যা হলো এ পর্যন্ত প্রথম ডোজ পাওয়া সবার দ্বিতীয় ডোজ দেয়ার মত টিকা দেশে নেই। এই অবস্থায় সেরাম ইন্সটিটিউট টিকা সাপ্লাই দিয়ে পারবে না। চুক্তি অনুযায়ী ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে বাংলাদেশে প্রতিমাসে ৫০ লাখ ডোজ করে টিকা আসার কথা ছিল। কিন্তু গত দুই মাসে নতুন করে কোন চালান আসেনি। কবে নাগাদ টিকার চালান আসতে পারে, তা কেউ বলতে পারছে না। সেরামের যুক্তি, ‘কাঁচামাল পাওয়া যাচ্ছে না’। অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার অনেকগুলো কাঁচামালের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি আমেরিকা থেকে আমদানি করতে হয়। কিন্তু আমেরিকা ‘Our Nation First’ অর্থাৎ ‘আমাদের জাতি প্রথম’ নীতির আলোকে একটি ডিফেন্স রুলের আওতায় সে কাঁচামাল রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে সেরামের উৎপাদন মাত্রাতিরিক্তভাবে হ্রাস পেয়েছে। এমনকি সবচেয়ে বড় টিকা তৈরির ইন্সটিটিউটটি ভারতে তাদেরকে বন্ধ করে দিতে হয়েছে। আবার এমন ব্যাখ্যাও তারা দিচ্ছে যে, ‘ভ্যাকসিন প্রস্তুত আছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের ক্লিয়ারেন্স পেলেই তা পাঠিয়ে দেয়া হবে। এখনই আশাহত হওয়ার মত কোনও কারণ ঘটেনি’। অথচ এ দেশে এখনও পর্যন্ত প্রথম ডোজ টিকা যে সংখ্যক মানুষ নিয়েছেন, তাতে প্রায় ১২ লাখ ডোজ টিকার ঘাটতি থাকছে। তাই বিপদ আসন্ন এবং সেরামের এ যুক্তি খোঁড়া যুক্তি যা ধোপে টিকে না।


পৃথিবীর মধ্যে বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যারা তিন কোটি ডোজ টিকা কিনতে এককালীন পুরো টাকা সেরামকে পরিশোধ করেছে। ইউরোপীয় কমিশন একই টিকা ক্রয়ে অ্যাস্ট্রাজেনেকার সাথে চুক্তি করেছিল ঠিকই কিন্তু পুরো অর্থ আগাম পরিশোধ করেনি। অ্যাস্ট্রাজেনেকা চাহিদার মাত্র তিন ভাগের একভাগ টিকা ইউরোপীয় কমিশনকে দিতে পারবে বলে জানানোর পরই বিপত্তি দেখা দেয়। অ্যাস্ট্রাজেনেকার যুক্তি ছিল, বেলজিয়ামে তাদের একটি কারখানায় সমস্যা দেখা দেয়ায় উৎপাদন ঘাটতি হচ্ছে এবং সে কারণেই সরবরাহ কমে গেছে। চুক্তি অনুযায়ী ইউরোপীয় কমিশনকে টিকা সাপ্লাই দিতে ব্যর্থ হওয়ায় অ্যাস্ট্রাজেনেকার সাথে তারা চুক্তি বাতিল করে এবং মামলা ঠুকে দেয়। আফ্রিকা ও অন্যান্য অনেক দেশ সেরামের এই খামখেয়ালিপনার কারণে আগে ভাগেই চুক্তি বাতিল করে।


দুর্ভাগ্য এ জাতির! বাংলাদেশের অর্থে উৎপাদিত সেরামের টিকা চাহিদানুযায়ী তাদেরকে সাপ্লাই না দিয়ে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের ঔষধের দোকানে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ১৬০ টাকা মুল্যে প্রথম ডোজ এবং ২৫০ টাকা মুল্যে দ্বিতীয় ডোজ টিকা বিক্রি করছে। যা অগ্রহণযোগ্য। অথচ অনুরোধ করা ছাড়া আমরা কিছুই বলতে পারছি না। মার্চের টিকার চালান এখনও দিতে পারেনি। ইতিমধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ ঘুরে গেলেন। সরকারেরে মনোভাব জানিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রাপ্য টিকা জরুরী প্রেরণের জন্য নরেন্দ্র মোদীকে অনুরোধ জানান। একথা এখন ওপেন সিক্রেট যে তাদের চাহিদা মেটানোর জন্য তারা আপাতত টিকা রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে।


ভারতের বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে তো বটেই তার নিজের দেশের জনগনকেও যে কঠিন ভুল আশ্বস্ত করেছে বর্তমান অবস্থা এর প্রমাণ। তারা বরাবর বলে এসেছে ভারতই হবে বিশ্বের সেরা ঔষধাগার। এখানে টিকার অভাব হবে না। সহজ অংকের মত করে জনগনকে বোঝায় যে, আগস্ট মাসের মধ্যে ৪০ কোটি মানুষকে দুই ডোজ করে টিকা তারা দিতে সক্ষম হবে। অথচ এর ধারে কাছেও তারা উৎপাদনে যেতে পারেনি। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে সবচেয়ে বেশী নাস্তানাবুদ ভারত এখন আঠারো বৎসরের ঊর্ধ্বে সকলকে টিকার আওতায় আনার ঘোষণা দিয়ে অর্থ পরিশোধের দ্বায়ভার রাজ্য সরকারের ওপর বর্তাচ্ছে। এটা নিয়েও মোদী সরকার দারুনভাবে সমালোচিত।


প্রসঙ্গক্রমে, মহামারির মধ্যেও চীনের সাথে আমাদের বানিজ্যিক সম্পর্কের সামান্য বিঘ্ন ঘটেনি। উহানে প্রথম রোগী শনাক্তের পর দীর্ঘ ১৫ মাস কেটে গেলেও বাংলাদেশের সাথে চীনের ব্যবসা যথারীতি চলছে। একবারের জন্য এত বড় মহামারির মধ্যেও চীন আমাদের বড় কোনও কনসাইনমেন্ট বন্ধ রাখেনি। প্রমাণস্বরূপ, মেট্টোরেলের বগি সরবরাহ থেকে শুরু করে এই মহামারির মধ্যে এ পর্যন্ত বড় বড় ছয়টি কনসাইনমেন্ট চীন যথাসময়ে বাংলাদেশের প্রেরণ করেছে। বাংলাদেশ ইস্যুতে চীন-ভারত সম্পর্কের এখানেই পার্থক্য। ভারত সুযোগ পেলেই বাংলাদেশের সংকটে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বাংলাদেশকে একটি জটিল পরিস্থিতির মধ্যে ঠেলে দেয়। এর আগে পেঁয়াজ নিয়েও একই কান্ড করেছিল। হঠাৎ করেই তারা বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছিলো। এখন টিকা নিয়েও একই কান্ড করছে। যদিও পেঁয়াজ আর টিকার ইস্যু এক নয়। টিকার ব্যাপারে এদেশের মানুষের মনে গণ-অসন্তোষ দেখা দেয়ার আগেই ভারতের উচিৎ প্রাপ্য টিকা প্রেরণ করা। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারও বিব্রত।


উল্লেখ করা দরকার, অক্সফোর্ডের অ্যাস্ট্রাজেনেকার এ টিকার স্বত্বাধিকারী কিন্তু ভারত নয়। চুক্তিটিও কিন্তু ভারত সরকারের সাথে হয়নি। হয়েছে ভারতের সেরাম ইন্সটিটিউট নামক একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে। অতএব, প্রতিষ্ঠান হয়ে একটি রাষ্ট্রের সাথে এভাবে চুক্তি ভঙ্গ করা আইনসিদ্ধ নয়। এ কাজটি আপাতদৃষ্টিতে তাদের নিজের দেশের জন্য কল্যাণকর মনে হলেও বাস্তবে তা স্বার্থপর এবং সংকীর্ণ মানসিকতার পরিচায়ক। বিশ্বময় বর্তমান সঙ্কটকালে একে ‘জঙ্গলের আইন’ বা ‘জোর যার মুল্লুক তার’ নীতি বলা যেতে পারে। এক্ষেত্রে ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশন এর কাছে নালিশ জানানোর এমনকি ক্ষতিপূরণ মামলা করারও সুযোগ বাংলাদেশের রয়েছে। বহুজাতিক ঔষধ কোম্পানী বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসও টিকা না পাওয়ার দ্বায়ভার এড়াতে পারে না। তাদের মাধ্যমেই বাংলাদেশ সরকার সেরামের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়। অতএব টিকা পেতে সরকার ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস উভয়ের জোর কূটনৈতিক তৎপরতা কাম্য। সরকার রাশিয়া এবং চীন থেকে টিকা আনার তৎপরতা শুরু করেছে।


এদিকে আমাদের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে অনেক প্রশ্ন । প্রথম ডোজ যারা পেয়েছে তারা যদি দ্বিতীয় ডোজ ১২ সপ্তাহের মধ্যে না পায় তাহলে কি হবে? আবার প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজের টিকায় ভিন্নতা এলে তা কতটকু কার্যকর হবে? দেশ জুড়ে ১৮ বহরের কম বয়স্ক শিশু ও গর্ভবতী মা বাদ দিয়ে মোট ১৩ কোটি ৮৮ লক্ষ জনগনকে টিকার আওতায় আনতে কতদিন সময় লাগতে পারে? রাশিয়ার টিকা স্পুটনিক-ভি তো রাশান’রাই নিচ্ছেন না, আমাদের এখানে কিভাবে চলবে? অন্যদিকে মিয়ানমারকে ৩ লাখ টিকা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিল চীন, কিন্তু এখন পর্যন্ত তা সরবরাহ করতে পারেনি। তাছাড়া ব্রাজিলে বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট পড়েছে চীনা টিকা। একটি জরিপে দেখা গেছে ৫০ শতাংশ ব্রাজিলীয়ই সিনোভ্যাক টিকা নিতে অনীহা প্রকাশ করছে। আমাদের এখানে এটা বিশ্বাসযোগ্যতা পাবে কি করে? ইত্যাদি নানান বিষয় এখন মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। সন্দেহ নেই, ওষুধ উৎপাদনে ভারত অন্যতম একটি পরাশক্তি। পৃথিবীর ২০ ভাগ ঔষধ তারা উৎপাদন করে। ইতোমধ্যে ধনী দেশগুলো মোট টিকার ৬০ শতাংশই নিজেদের জন্য মজুত করে সমালোচিত। অথচ তারা বিশ্ব জনসংখ্যার মাত্র ১৬ ভাগ। সেখানে রফতানি বন্ধ রেখে জাতীয়তাবাদী পথে না হেঁটে ভারতের উচিৎ প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথে প্রতিশ্রুতি বজায় রাখা।


আমরা বিশ্বাস করতে চাই, খুব কম সময়ের মধ্যেই বিশ্ববাসী প্রয়োজনীয় সংখ্যাক টিকা পেয়ে যাবে। ইতিমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাভাইরাসের টিকাকে ‘বিশ্বজনীন পণ্য’ হিসেবে ঘোষণা করা দরকার বলে বিশ্বফোরামে দাবি তুলেছেন। জাতীয়তাবাদী উগ্রতা কিংবা ইউরোপ-আমেরিকার দাপট শেষ পর্যন্ত টিকবে না। দিনশেষে বিশ্বায়নের জোয়ারে ‘টিকা জাতীয়তাবাদ’ ভেসে যাবে। জয় হবে মানবতার।


লেখক; ডিন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
ইমেইলঃ [email protected]


বিবার্তা/শরীফুল/এনকে

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com