শিশুর জন্য বাবা-মা দুজনই অপরিহার্য
প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫৫
শিশুর জন্য বাবা-মা দুজনই অপরিহার্য
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

একটি সুন্দর আগামীর কামনায় শিশুদের জন্য কেবল আধুনিক সুযোগ-সুবিধাই যথেষ্ট নয় বরং একটি স্থিতিশীল পারিবারিক কাঠামো অপরিহার্য। সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণা ও সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, বাবা ও মায়ের সম্মিলিত সান্নিধ্যে বেড়ে ওঠা শিশুরা শিক্ষাজীবনে ভালো করার পাশাপাশি মানসিকভাবে অনেক বেশি সুসংহত হয়।


মাতৃত্ব ও পিতৃত্বের ধরন আলাদা হলেও শিশুর পূর্ণাঙ্গ বিকাশে এ দুইয়ের ভারসাম্যই হলো মূল চাবিকাঠি। এক্ষেত্রে সেই মা–বাবার মধ্যে শ্রদ্ধা ও আস্থার সম্পর্ক থাকাও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।


১. মায়ের স্নেহ ও আবেগীয় নিরাপত্তা


গবেষণা অনুযায়ী, মায়েরা সাধারণত শিশুদের প্রতি অনেক বেশি আবেগপ্রবণ, ধৈর্যশীল এবং সংবেদনশীল হন। শিশুর যেকোনো সংকটে মা প্রথমেই তার পাশে দাঁড়ান, যা শিশুর মনে এক ধরনের গ্রহণযোগ্যতা ও নিরাপত্তার বোধ তৈরি করে। এ কোমল আচরণ শিশুকে আত্মবিশ্বাসী হতে এবং মানসিকভাবে সুরক্ষিত বোধ করতে সাহায্য করে।


২. বাবার শাসন ও শৃঙ্খলা


অন্যদিকে বাবারা সাধারণত পরিবারের কাঠামো এবং শৃঙ্খলার দিকে বেশি নজর দেন। বাবার এ দিকটি শিশুকে নিয়মবর্তিতা এবং সীমানা মেনে চলতে শেখায়। বাবারা প্রায়ই সন্তানদের নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে এবং সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে উৎসাহিত করেন, যা তাদের ভবিষ্যতের কঠিন জীবন মোকাবিলায় প্রস্তুত করে তোলে।


৩. খেলাধুলা ও স্বাধীনতা


মায়েরা যখন শিশুকে শান্ত ও নিরাপদ রাখতে চান, বাবারা তখন শিশুকে নিয়ে মেতে ওঠেন সক্রিয় বা রোমাঞ্চকর খেলাধুলায়। গবেষণায় দেখা গেছে, বাবারাই শিশুদের বেশি শারীরিক পরিশ্রমের কাজে বা খেলাধুলায় উৎসাহিত করেন। এছাড়া কৈশোর থেকে যৌবনে পা রাখার সময় বাবারাই সন্তানদের স্বাবলম্বী হওয়ার প্রেরণা জোগান।


৪. পরিবার ও শিশুর সুরক্ষা


পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জৈবিক বাবা ও মায়ের স্থিতিশীল সংসারে বেড়ে ওঠা শিশুরা তুলনামূলকভাবে বেশি নিরাপদ থাকে। এ পারিবারিক কাঠামো শিশুদের শুধু দারিদ্র্য থেকেই রক্ষা করে না বরং তাদের শারীরিক ও মানসিক লাঞ্ছনার ঝুঁকিও অনেক কমিয়ে দেয়।


বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় দেখা গেছে, দুই অভিভাবকের উপস্থিতিতে শিশু সাধারণত বেশি স্থিতিশীল আবেগপ্রবণ পরিবেশ পায়। ২০ লাখের বেশি শিশুর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, যেসব পরিবারে দুই অভিভাবক উপস্থিত থাকেন, সেখানে শিশুদের শিক্ষাগত সাফল্য তুলনামূলক বেশি হয়। আর একক অভিভাবকের ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সব ধাপ শেষ করা ওই সন্তানদের জন্য কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়।


কারণ সিঙ্গেল বাবা অথবা সিঙ্গেল মা কাজ ও দায়িত্ব একা সামলাতে গেলে চাপ বেশি পড়ে। এতে শিশুর মানসিক সমর্থন কমে যেতে পারে। পড়াশোনা শেষ করার ক্ষেত্রে আর্থিক অসংগতিও কারণ হিসেবে উঠে আসে।


মূল কথা:


একটি শিশুর জন্য শুধুমাত্র দুজন অভিভাবক থাকাই যথেষ্ট নয় বরং তার মা ও বাবার আলাদা আলাদা স্নেহ, শাসন এবং সুরক্ষার সংমিশ্রণ প্রয়োজন। এক্ষেত্রে বৈবাহিক স্থিতিশীলতাই একটি শিশুর সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠার সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়।


সূত্র: দ্য লায়ন অবলম্বনে


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com