চোখের পাতা লাফায় কেন, কিসের ইঙ্গিত
প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:২৩
চোখের পাতা লাফায় কেন, কিসের ইঙ্গিত
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

সাধারণত চোখের পাতা লাফানোকে স্বাভাবিক ধরে নেয়া হয়। যাদের এমনটা হয়, তাদের অধিকাংশেরই ধারণা যে, এটি কোনো কারণ ছাড়াই হচ্ছে এবং নিজ থেকেই ঠিক হয়ে যাবে। ফলে গুরুত্ব দেয়া হয় না। আবার কেউ কেউ বিষয়টিকে শারীরিক বিভিন্ন সমস্যার ইঙ্গিত বলে মনে করেন। এ কারণে চোখের পাতা টলমল বা লাফানো নিয়ে অনেকের মনে নানা প্রশ্ন থাকে।


চোখের পাতা লাফানো বলতে বোঝায়, চোখের এক অনিয়ন্ত্রিত নড়াচড়া, চোখের পাতার পেশী বা চারপাশের মুখের কিছু অংশের নড়াচড়া করা। কখনো কখনো চোখের পাতা লাফানো স্বাভাবিক এবং এটি প্রায় সবারই হয়। আবার অনেক ক্ষেত্রেই এটি সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। ফলে চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। চোখের পাতা লাফানোর কারণগুলোকে বিভিন্নভাবে বর্ণনা করা যায়। এর মধ্যে কিছু চোখের সঙ্গে সম্পর্কিত, কিছু মুখের স্নায়ু এবং পেশী সংশ্লিষ্ট। চোখের পাতা লাফানোর ব্যাপারে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক অর্গানাইজেশন। তাহলে এ ব্যাপারে জেনে নেয়া যাক-


চোখের পাতা লাফানোর কারণগুলো:চোখের পাতা লাফানোর বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। মূলত নির্দিষ্ট কিছু ধরনের ওপর নির্ভর করে চোখের পাতা লাফানো। কিছু সাধারণ কারণ থাকে, যা সব ধরনের চোখের পাতা লাফানোর জন্য দায়ী। কিছু বিষয় রয়েছে পাতা লাফানোর বিষয়টি অধিকতর খারাপ করে তুলতে পারে।


কারণগুলো হচ্ছে- মানসিক চাপ বা উদ্বেগ, ঘুমের অভাব বা ক্লান্তি, ক্যাফেইনের মতো উত্তেজক গ্রহণ, প্রেসক্রিপশনের ওষুধ বা এর বাইরে ওষুধ ব্যবহার, উজ্জ্বল আলো বা আলোর প্রতি সংবেদনশীলতা, চোখের টান, নিকোটিন ব্যবহার এবং পুষ্টিজনিত ঘাটতি।


ফ্যাসিকুলেশন:ফ্যাসিকুলেশন সাধারণত সৌম্য (নিরাপদ) হয়। এটি হচ্ছে ত্বকের নিচে পেশীর ছোট, অনিচ্ছাকৃত এবং অনিয়মিত মোচড় বা কাঁপুনি। যা সাধারণত ক্ষণস্থায়ী এবং ব্যথাহীন হয়ে থাকে। এসব বিভিন্ন কারণে হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে বিনাইন ফ্যাসিকুলেশন সিনড্রোম। ক্যাফেইনের মতো উদ্দীপক বা অ্যালকোহলের মতো স্নায়ুতন্ত্রের বিষণ্ণতা। অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম। অতিরিক্ত সক্রিয় থাইরয়েড গ্রন্থি (হাইপারথাইরয়েডিজম)।


এছাড়া ভাইরাল সংক্রমণ, এ ক্ষেত্রে ভাইরাস স্নায়ুকে প্রভাবিত করতে পারে এবং তা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে কিংবা ক্ষতিকারকও হতে পারে, খিঁচুনিরও কারণ হতে পারে। তবে বিরল ক্ষেত্রে ফ্যাসিকুলেশন অধিকতর গুরুতর স্নায়বিক অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। এসব এমন অবস্থা হতে পারে, যা স্নায়ু, মস্তিষ্ক বা উভয়কে প্রভাবিত করতে পারে। এ অবস্থার মধ্যে বেশি পরিচিত হচ্ছে অ্যামিওট্রফিক ল্যাটেরাল স্কলেরোসিস, যা লু গেহরিট’স ডিজিজ নামে পরিচিত।


মায়োকিমিয়া:এটি খুবই সাধারণ সমস্যা। চোখের পাতার পেশীর অনিচ্ছাকৃত, আপনাআপনি ও সাময়িক সময়ের জন্য কাঁপুনি বা লাফালাফি। যা প্রায়ই একাধিক কারণের সংমিশ্রণে হয়। সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব ও ক্যাফেইন গ্রহণ। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে এই মায়োকিমিয়ার নির্দিষ্ট কারণ থাকে। যেমন- ওষুধ (অ্যান্টিসাইকোটিকস, অ্যান্টিসাইজার ড্রাগ) এবং মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসের (এমএস) মতো অটোইমিউন এবং স্নায়ুতন্ত্রের অবস্থা বা গ্লিওমাসের মতো টিউমারের কারণে।


ব্লেফারোস্পাজম বা চোখের পাতার খিঁচুনি:ব্লেফারোস্পাজম দুই ধরনের, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক। প্রাথমিক হচ্ছে এটি অন্য কোনো অবস্থা বা সমস্যা ছাড়াই হয়ে থাকে। আর মাধ্যমিক হচ্ছে এটি কোনো কিছুর প্রভাবে বা কারণে হয়।


এই রোগের সাধারণ প্রাথমিক রূপ হচ্ছে বিনাইন অ্যাসেনশিয়াল ব্লেফারোম্পাজম (BEB)। বিশেষজ্ঞরা জানান, বিইবি স্নায়ু সম্পর্কিত কারণে হয়। তবে তারা এখনো বিষয়টি স্পষ্টভাবে বুঝে উঠতে পারেননি যে, এটি কীভাবে এবং কেন হয়। এর পেছনে অন্যান্য কিছু কারণ থাকতে পারে। বিশেষ করে আলোর সংবেদনশীলতা (ফটোফোবিয়া) এবং শুষ্ক চোখ দায়ী হতে পারে।


ব্লেফারোস্পাজমের ক্ষেত্রে আরও ছোট ছোট কিছু কারণ থাকতে পারে। যেমন- ডাইস্টোনিয়া, মেইন সিনড্রোম (এটি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে যে, এ অবস্থায় চোখ লাফায় নাকি পাশাপাশি কিছু হয়।)। টার্ডিড ডিস্কিনেসিয়া, কিছু ওষুধ (বিশেষ করে পার্কিনসন রোগের ওষুধ) এবং খিঁচুনি ও মৃগীরোগ।


হেমিফেসিয়াল স্প্যাজম:এ ধরনের চোখের মোচড় মস্তিষ্ক, মুখের একপাশের স্নায়ু বা উভয়কেই প্রভাবিত করতে পারে। এটি যেমন অপ্রত্যাশিত, একইভাবে অনিয়ন্ত্রণহীন। এর প্রাথমিক ও ছোট ছোট কিছু ধরন রয়েছে। প্রাথমিক রূপটি সাধারণত তখনই ঘটে, যখন মুখের রক্তনালীগুলো কুঁচকে যায়, একটি লুপ তৈরি করে এবং স্নায়ুর ওপর চাপ পড়ে। সংকুচিত স্নায়ু প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং সংযুক্ত পেশীগুলোকে সংকেত পাঠায়। ফলে মোচড় ও খিঁচুনি হয়।


গুরুতর অবস্থার দ্বিতীয় প্রভাব হিসেবেও হেমিফেসিয়াল স্প্যাজম হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ট্রমা বা আঘাতের কারণে স্নায়ু বা মস্তিষ্কের ক্ষতি, ডাইস্টোনিয়া (এটি অন্যান্য ধরনের চোখের পাতা লাফানোর সঙ্গেও হতে পারে)। মস্তিষ্কের অংশে ক্ষত, মস্তিস্কের টিউমার (ক্যানসারসহ), প্যারোটিভ গ্রন্থিতে টিউমার (এসব লালা উৎপন্ন করে এবং মুখের উপরি অংশের পেছনের দিকে গালে থাকে)।


নিস্টাগমাস:এটি হচ্ছে চোখের একটি অনিয়ন্ত্রিত দোলন বা নড়াচড়া। এর কয়েকটি স্বাভাবিক এবং অপ্রত্যাশিত রূপ রয়েছে। চোখ যেভাবে নড়াচড়া করে বা নড়াচড়া অনুসরণ করে, তার কারণে হতে পারে। তবে নিস্টাগমাসের অন্যান্য ধরনের পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ। যেমন- যদি ক্লান্ত থাকেন, ক্যাফিন বা অ্যালকোহল গ্রহণ করেন (বিশেষ করে অ্যালকোহল গ্রহণ যদি নেশার জন্য যথেষ্ট থাকে)। এছাড়াও রোগের কারণে হতে পারে। এ অবস্থায় চক্ষু বিশেষজ্ঞ যদি এমন কিছু সন্দেহ করেন, তাহলে আপনাকে একজন স্নায়ু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com