সড়কের চাঁদাকে সমঝোতা বলা অনিয়মকে বৈধতা দেওয়া: জারা
প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪৭
সড়কের চাঁদাকে সমঝোতা বলা অনিয়মকে বৈধতা দেওয়া: জারা
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

সড়কে পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনের পরাজিত সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা।


বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, সড়কের চাঁদা আদায়কে ‘সমঝোতা’ বা ‘অলিখিত বিধি’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া বাস্তবে চালকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া একটি অবৈধ প্রক্রিয়াকে বৈধতা দেওয়ার শামিল।


ডা. জারা লেখেন, কোনো চালক নির্দিষ্ট রুটে গাড়ি চালাতে গেলে তাকে নির্দিষ্ট সংস্থাকে টাকা দিতেই হয়। এটিকে ‘সমঝোতা’ বলা মানে একটি অনিয়মকে গ্রহণযোগ্য ভাষা দেওয়া। এই অবৈধ লেনদেনের প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর। বাসভাড়া বৃদ্ধির অন্যতম কারণ সড়কের এই অলিখিত চাঁদা। পণ্যবাহী ট্রাক থেকে অর্থ আদায়ের ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বেড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত এর বোঝা বহন করেন যাত্রী ও ভোক্তারা।


মন্ত্রী নিজেই বলেছেন, ‘যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, তাদের আধিপত্য থাকে।’ এ বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে ডা. জারা প্রশ্ন তোলেন—তাহলে কি এই অর্থ আদায় রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যম? যদি তা না হয়, তাহলে এ বিষয়ে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন।


তিনি প্রস্তাব করেন, মালিক বা শ্রমিক সমিতির কল্যাণ তহবিলের জন্য অর্থের প্রয়োজন হলে তা আনুষ্ঠানিক ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে আদায় করা যেতে পারে। ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বা বার্ষিক নিবন্ধন ফি’র সঙ্গে যুক্ত করে অর্থ সংগ্রহের ব্যবস্থা করা উচিত। পাশাপাশি সড়কে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ তোলা হচ্ছে, তার পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষা (অডিট) নিশ্চিত করে জনগণের সামনে প্রকাশ করার আহ্বান জানান তিনি।


এর আগে বৃহস্পতিবার সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পরিবহন খাতের চাঁদাবাজি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘সড়কে পরিবহনের চাঁদা যেটা বলা হয়, সেভাবে আমি চাঁদা দেখি না।’ তাঁর দাবি, মালিক সমিতি ও শ্রমিক সমিতি তাদের কল্যাণে এই অর্থ ব্যয় করে থাকে। তিনি একে ‘অলিখিত বিধি’র সঙ্গে তুলনা করেন। তাঁর ভাষ্য, চাঁদা সেটাকেই বলা উচিত যা দিতে কেউ রাজি নয় বা জোর করে আদায় করা হয়। মালিক সমিতি নির্দিষ্ট হারে টাকা তুলে মালিকদের কল্যাণে ব্যবহার করতে চায়—যদিও কতটুকু ব্যবহার হয় তা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে।


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com