
সাবেক সংসদ সদস্য ও সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে ফের একটি হত্যা মামলায় শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) সাতক্ষীরার অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিলাস মণ্ডলের আদালত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই অনাথ মিত্রের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দু’দফা শুনানির পর তাকে শোন অ্যারেস্ট দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।
২০১৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি যশোর পিকনিক কর্নারের সামনে সংঘটিত ঘটনায় ২০২৪ সালে সাতক্ষীরা আদালতে দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪, সাতক্ষীরা সদর থানায় দণ্ডবিধির ৪৬৪/৩০২/২০১/১৪৯/৩৪ ধারায় রেকর্ডকৃত ১৪ নম্বর মামলায় (জিআর নম্বর ৪০৩/২৪) সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
গত ২০২৫ সালের ২০ মে রাতে সাতক্ষীরা শহরের রাধানগর এলাকার নিজ বাড়ি থেকে সাবেক সংসদ সদস্য লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
তাকে সাতক্ষীরা থানার মামলা নম্বর ২৫, তারিখ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ধারা: ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(৩)/২৫(ডি) মামলার সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেফতার দেখিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে ১ জুন ২০২৫ তারিখে পুনরায় তাকে সাতক্ষীরা থানার মামলা নম্বর ৪৪, তারিখ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ জিআর ৯৬/২৫ ধারা- ১৪৩/১৪৭/১৪৮/১৪৯/৪৪৮/৪৩৬/৪২৭/৩৮০/৫০৬ দণ্ডবিধি মামলার সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে শোন অ্যারেস্ট করা হয়।
১১ জুন ২০২৫ তারিখে লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে আসামি করে সাতক্ষীরা সদর থানার জিআর ২৭৮/২৫ ধারা-১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(৩)/২৫(ডি) মামলা (মামলা নং ২০)
দায়ের করা হয় এবং ২৫ জুন ২০২৫ তারিখে তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
সাবেক সংসদ সদস্য লায়লা পারভীন সেঁজুতির আইনজীবী প্যানেলের সদস্য অ্যাডভোকেট আল মাহামুদ পলাশ জানান, গত ৩ জুন ২০২৬ হাইকোর্ট সাবেক সংসদ সদস্য লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে সর্বশেষ মামলায় জামিন দেন এবং রাষ্ট্রপক্ষ সুপ্রিম কোর্টের আ্যাপিলেট ডিভিশনের চেম্বার আদালতে জামিন স্থগিতের আবেদন জানালে নো-অর্ডার হয়।
গত ১০ জুন ওই মামলায় জামিননামা সম্পাদনের পর ১৩ জুন তাকে পুনরায় জিআর ৩৯৯/২৪ ধারা ১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৩৬৪/৩০২/২০১/৩৪ দণ্ডবিধি মামলার সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়।
অ্যাডভোকেট পলাশ আরও জানান, গত ২৫ জুন ২০২৬ সাতক্ষীরা দায়রা জজ আদালত লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে জিআর ৩৯৯/২৪ মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন। পরবর্তীতে ২৯ জুন ২০২৬ তারিখে তাকে পুনরায় জিআর ৪০২/২৪ ধারা ৩৬৪/৩০২/২০১/১৪৯/৩৪ দণ্ডবিধি মামলার সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়।
তিনি জানান, গত ৯ জুলাই ২০২৬ সাতক্ষীরা দায়রা জজ আদালত লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে জিআর ৪০২/২৪ মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন।
আদালত সূত্র জানায়, সাবেক সংসদ সদস্য লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে সাতক্ষীরা থানার মামলা নম্বর ১৪, তারিখ ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪, জিআর নম্বর ৪০৩/২৪ ধারা- দণ্ডবিধির ৪৬৪/৩০২/২০১/১৪৯/৩৪ মামলার সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে সোমবার গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
এ মামলার বাদী সাতক্ষীরা সদর থানার কাশেমপুর গ্রামের মৃত নুর আলী সানার ছেলে মো. ইমদাদুল হক। সাতক্ষীরা তৎকালীন পুলিশ সুপার চৌধুরী মঞ্জুরুল কবিরসহ ৩২ জনের নাম উল্লেখ করে বাদী গত ২৮ আগস্ট ২০২৪ তারিখে সাতক্ষীরা ১ নম্বর আমলি আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আদালতের আদেশে পরবর্তীতে সাতক্ষীরা সদর থানায় অভিযোগটি এফআইআরভুক্ত করা হয়।
মামলায় বাদী জানান, তার ভাই শহিদুল ইসলাম বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সক্রিয় কর্মী। অপরদিকে ১ থেকে ৬ নম্বর আসামি পুলিশে কর্মরত এবং অন্যান্য আসামিরা আওয়ামী যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ক্যাডার। ২০১৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে এজাহারনামী ৩২জন আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ১০/১৫ জন ৩টি কালো মাইক্রোবাসে করে বাদীর ভাই শহিদুল ইসলামের বাড়িতে আসে এবং তাকে জোরপূর্বক টানা হেঁছড়া করে মাইক্রোবাসে করে সাতক্ষীরা সদর থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে গভীর রাতে থানা থেকে যশোর পিকনিক কর্নারের সামনে নিয়ে যায়। সেখানে ১/২ নম্বর আসামির নির্দেশে ৩/৪/৫/৬ নম্বর আসামি ভিকটিম শহিদুল ইসলামকে গুলি করে। ভিকটিম শহিদুল ইসলামকে বুকে পিঠে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলির আঘাতে ঝাঝরা করে হত্যা করে লাশ পিকনিক কর্নারের সামনে ফাঁকা স্থানে রেখে চলে যায়।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]