দেশের জ্বালানি সংকট কাটাতে সময় লাগবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১৯:৪৬
দেশের জ্বালানি সংকট কাটাতে সময় লাগবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অঅ-অ+

দেশের জ্বালানি সংকট কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে বলে মন্তব্য করেছেন শিল্প, বাণিজ্য, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, বাংলাদেশ তার জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশ আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর নির্ভরশীল। তবে অতীতে এলএনজি গ্রহণ, গ্যাসে রূপান্তর এবং সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও মজুত সক্ষমতা (স্টোরেজ) পর্যাপ্তভাবে গড়ে তোলা হয়নি।


বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে নগরীর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে বাসাবাড়ি, শিল্প-কারখানা এবং নতুন বিনিয়োগের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন।


এ সময়কে একটি ‘ট্রানজিশন পিরিয়ড’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সমস্যার কোনো তাৎক্ষণিক সমাধান নেই।


প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে সময় লাগবে।
সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, জনগণ তাদের পছন্দের প্রতিনিধিদের পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব দিয়েছে।


এই সময়ের মধ্যে ভালো কাজ করতে পারলেই জনগণের আস্থা পুনরায় অর্জন করা সম্ভব। তিনি বলেন, এই জবাবদিহিতার সংস্কৃতিই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি।


কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সিলেটে বর্তমানে দুটি বিসিক শিল্পনগরী রয়েছে, যার মোট আয়তন প্রায় ৩০ একর। চলতি বছরই নতুন একটি বিসিক শিল্পনগরীর কাজ শুরু হবে। এর আয়তন হবে প্রায় ১৮৭ একর, যা বিদ্যমান দুটি শিল্পনগরীর সম্মিলিত আয়তনের প্রায় ছয় গুণ। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সম্প্রসারণের মাধ্যমে সিলেটে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


মন্ত্রী আরও বলেন, আগামী বছরের মধ্যে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার কাজ শেষ হবে। একই সময়ে সিলেট-চট্টগ্রাম সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পও সম্পন্ন হবে। পাশাপাশি আখাউড়া-সিলেট রেলপথের কাজ শেষ হওয়ার সময়ই সিলেট-চট্টগ্রাম রেলপথ উন্নয়নকাজও সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে পণ্যবাহী ও কনটেইনারবাহী ট্রেন চার থেকে পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে পারে।


বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা তরুণ প্রজন্মের সামাজিক শক্তি যেন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ারে পরিণত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। এই তারুণ্যশক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়েই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।


আলোচনার শুরুতে মন্ত্রী জুলাই আন্দোলনকে স্মরণ করে বলেন, ছাত্র-জনতা, স্কুলশিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের সম্মিলিত অংশগ্রহণে এ আন্দোলন ব্যাপক গতি লাভ করেছিল, যার ফলে একটি শক্তিশালী সামাজিক জাগরণের সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ বছরের ব্যবধানে একই জাতি দ্বিতীয়বারের মতো গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে জেগে উঠেছে, যা বিশ্বের ইতিহাসে বিরল দৃষ্টান্ত।


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected] ​, [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com