
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা ভিসা বন্ড কর্মসূচিকে স্থায়ী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন এই নীতির আওতায় বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানসহ ৫০টি দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে ভিসা ইস্যুর আগে সর্বোচ্চ ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা দিতে হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত চূড়ান্ত বিধিমালা অনুযায়ী, এক বছরের মূল্যায়নে দেখা গেছে, এই কর্মসূচি ভিসাধারীদের ভিসার শর্ত মেনে চলা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। নতুন নিয়ম আগামী সোমবার (৩ আগস্ট) থেকে কার্যকর হবে। ভবিষ্যতে আরও দেশ এই তালিকায় যুক্ত হতে পারে।
এই বিধান বি-১ (ব্যবসা) এবং বি-২ (পর্যটন) ভিসার আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। বিধিমালায় বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট দেশের আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে কনস্যুলার কর্মকর্তা প্রয়োজন মনে করলে ভিসা দেয়ার শর্ত হিসেবে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা দিতে বলতে পারবেন।
এর আগে পরীক্ষামূলক কর্মসূচিতে ৫ হাজার, ১০ হাজার ও ১৫ হাজার ডলার বন্ডের ব্যবস্থা ছিল। নতুন নিয়মে ৫ হাজার ডলারের বিকল্প বাতিল করা হয়েছে এবং সর্বোচ্চ বন্ডের পরিমাণ ২০ হাজার ডলারে উন্নীত করা হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থান (ভিসা ওভারস্টে) কমানো। তবে অভিবাসন অধিকারকর্মীদের মতে, এমন নীতি বৈধ ভ্রমণকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে যেতে নিরুৎসাহিত করতে পারে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়াকে দুর্বল করছে এবং জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি করছে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করতেই এসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
সমালোচকদের মতে, অবৈধ অভিবাসন রোধের পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসন বৈধ অভিবাসনও কঠিন করে তুলেছে। এর মধ্যে রয়েছে কিছু ভিসার ফি বৃদ্ধি এবং ভিসা আবেদনকারী ও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অভিবাসীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত যাচাই।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]