আইভরি কোস্টকে হারিয়ে ব্রাজিলের সামনে নরওয়ে
প্রকাশ : ০১ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৫
আইভরি কোস্টকে হারিয়ে ব্রাজিলের সামনে নরওয়ে
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

ডালাসের সবুজে প্রথমার্ধের প্রায় উত্তাপহীন লড়াইয়ে আচমকা এক চমৎকার গোলে নরওয়েকে এগিয়ে নিলেন আন্তোনিও নুসা। দ্বিতীয়ার্ধে আরও সুন্দর গোলে সমতায় ফিরে লড়াই জমিয়ে তুলল আইভরি কোস্ট। এরপর, জ্বলে উঠলেন মাঠের সবচেয়ে বড় তারকা আর্লিং হলান্ড। এক অনায়াস গোলে দলকে তুলে নিলেন বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয়।


এটি অ্যান্ড টি স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার শেষ বত্রিশের ম্যাচটি ২-১ গোলে জিতেছে নরওয়ে।


এই প্রথম বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের প্রথম ধাপ পার হলো দলটি। কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আগামী রবিবার নিউ ইয়র্কে ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে তারা।


দ্বিতীয়বার পিছিয়ে পড়ার পর, শেষ কয়েক মিনিটে টানা আক্রমণে দারুণ দুটি সুযোগ তৈরি করে আফ্রিকার দলটি। তবে নতুন নাটকীয়তার জন্ম দিতে পারেনি তারা।


পুরো ম্যাচে বল দখলে দুই দলই ছিল প্রায় সমানে-সমান। গোলের জন্য আইভরি কোস্টের ১৪ শটের পাঁচটি লক্ষ্যে ছিল। আর নরওয়ে ৯টি শটের চারটি লক্ষ্যে রাখতে পারে।


উল্লেখযোগ্য কোনো ঘটনা ছাড়াই ম্যাচের অনেকটা সময় কেটে যায়। এগিয়ে আসছিল বিরতির সময়, এবং তখনই অবিশ্বাস্য নৈপুণ্যের এক ঝলকে দলকে এগিয়ে নেন আন্তোনিও নুসা।


৩৯তম মিনিটে মার্টিন ওদেগোরের পাস পেয়ে ডি-বক্সে বাঁ দিকে একজনকে কাটিয়ে হাওয়ায় ভাসিয়ে শট নেন নুসা, মনে হচ্ছিল দূরের পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যাবে বল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে অসাধারণ এক বাঁক নিয়ে বল লুটোপুটি খায় জালে!


জাতীয় দলের হয়ে ৯টি গোল হলো এই উইঙ্গারের, এবং এটাই হয়তো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সর্বোচ্চ মঞ্চে।


৮৮ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে গোল পেল নরওয়ে।


তিন মিনিট পর ব্যবধানও বাড়তে পারতো। আলেকসান্দের সরলথের হেড পাস ছয় গজ বক্সে পেয়ে, ঠিকমতো শট নিতে পারেননি আর্লিং হলান্ড, তবুও বল লক্ষ্যেই ছিল, কিন্তু দ্রুত পা বাড়িয়ে রুখে দেন ডিফেন্ডার এমানুয়েল আগবাদু।


৫৬তম মিনিটে সমতায় ফেরার ভালো সম্ভাবনা জাগায় আইভরি কোস্ট। ছয় গজ বক্সের ডান দিকে ফাঁকায় বল পেয়ে যান নিকোলাস পেপে, কিন্তু এই উইঙ্গারের সোজাসুজি শট পা দিয়ে আটকে দেন গোলরক্ষক।


দ্বিতীয় হাইড্রেশন ব্রেকের আগে নরওয়ের আরেকটি সুযোগ নষ্ট হয়। সরলথের হেড পাস পেয়ে ত্রুরিবিয়র্ন হেগেমের জোরাল শট গোললাইনে রুখে দেন আমাদ জিয়ালো।


অসাধারণ সুন্দর এক গোলে ৭৪তম মিনিটে সমতা টানেন জিয়ালো। ডান দিকের সাইড লাইন থেকে ক্ষিপ্র গতিতে দৌড় দেন তিনি, ডি-বক্সে ঢোকার মুখে চারপাশে প্রতিপক্ষের কয়েকজনকে চমকে দিয়ে, চোখের পলকে ভেতরে ঢুকে পড়েন এবং গোলের দিকে একবারও না তাকিয়ে বলের ওপর দৃষ্টি রেখে একজনের চ্যালেঞ্জ এড়িয়ে ও আরেকজনকে কাটিয়ে জোরাল শটে ঠিকানা খুঁজে নেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড মিডফিল্ডার।


আসরে যাত্রা শুরুর ম্যাচে তার একমাত্র গোলেই একুয়েডরকে হারিয়েছিল আইভরি কোস্ট।


জাতীয় দলের হয়ে ২৩ ম্যাচে তার গোল হলো আটটি।


এরপরই ওই হলান্ড-মুহূর্ত। প্রথমার্ধে নিজেকে যিনি সেভাবে মেলে ধরতে পারেননি, দ্বিতীয়ার্ধেও একরকম নিশ্চুপই ছিলেন, সেই তিনিই নির্ধারিত সময়ের চার মিনিট বাকি থাকতে, সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় থেকে গড়ে দেন ব্যবধান। পাত্রিক বার্গের পাস ছয় গজ বক্সের বাইরে পেয়ে, আস্তে করে নিখুঁত একটা টোকা দেন ম্যানচেস্টার সিটি ফরোয়ার্ড, অন্যদিকে ঝুঁকে থাকায় আটকানোর সুযোগ পাননি গোলরক্ষক।


বিশ্বকাপে তিন ম্যাচ খেলে হলান্ডের গোল হলো পাঁচটি, একটি বেশি নিয়ে তালিকার শীর্ষে লিওনেল মেসি।


জাতীয় দলের হয়ে ৫৩ ম্যাচে হলান্ডের মোট গোল হলো ৬০টি।


সাত মিনিট যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে গোল প্রায় পেয়েই যাচ্ছিল আইভরি কোস্ট। জিয়ালোর দারুণ এক ফ্রি কিক ক্রসবার ঘেঁষে জালে জড়াতে পারতো, অসাধারণ এক সেভ করে দলকে জয়ের পথে রাখেন নিলান্ড।


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com