বিজ্ঞানীদের মৌলিক গবেষণায় আত্মনিয়োগ করতে হবে: কৃষিমন্ত্রী
প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৬, ১৪:৫১
বিজ্ঞানীদের মৌলিক গবেষণায় আত্মনিয়োগ করতে হবে: কৃষিমন্ত্রী
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, দেশকে এগিয়ে নিতে বিজ্ঞানীদের সত্যিকার অর্থে মৌলিক গবেষণায় আত্মনিয়োগ করতে হবে। তাদের প্রমাণ করতে হবে যে তাদের গবেষণা বিদ্যমান বৈশ্বিক গবেষণা থেকে স্বতন্ত্র, নতুন এবং বাস্তব সমস্যার কার্যকর সমাধান দিতে সক্ষম।


বুধবার (১৭ জুন) মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) ‘মিঠাপানির মাছের মড়ক প্রতিরোধে ভ্যাকসিন উদ্ভাবন’ প্রকল্পের ইনসেপশন ওয়ার্কশপে তিনি এসব কথা বলেন।


মন্ত্রী বলেন, দেশের মৎস্যখাতে বিপুল সম্ভাবনা ও সুযোগ রয়েছে। এ খাতের উন্নয়নে গবেষণা ও উদ্ভাবনের কোনো বিকল্প নেই। গবেষণার মাধ্যমে যারা উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবেন সরকার তাদের ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশেষভাবে সম্মানিত করবে।


গুণীজন, বিজ্ঞানী ও গবেষকদের যথাযথ মর্যাদা দিতে চায় সরকার-এ কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, নতুন নতুন উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি বিকাশে তাদের ভূমিকার দিকে প্রত্যাশার দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে আছে দেশ।


তিনি বলেন, বাংলাদেশে বহু গবেষণা প্রতিষ্ঠান থাকলেও এখনও গবেষণার একটি সুস্পষ্ট ও স্বতন্ত্র ধারা গড়ে ওঠেনি। দেশে যখন গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, তখন তার দৃশ্যমান ফলাফল ও নিজস্ব গবেষণা-ধারা প্রতিষ্ঠিত হওয়া প্রয়োজন।
মন্ত্রী আরও বলেন, পানির গুণগত মান মাছ চাষের অন্যতম প্রধান নিয়ামক। পানিকে মাছের উপযোগী করে তুলতে পারলে মাছের রোগবালাই অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। এ লক্ষ্যে বিজ্ঞানী ও মৎস্য কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দেশের প্রাকৃতিক মাছের অনেক প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। কৃষিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহারসহ বিভিন্ন পরিবেশগত কারণে প্রাকৃতিক জলাশয়ের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই দেশীয় মাছের প্রজাতি সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে গবেষণা, সচেতনতা এবং কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন,
দেশের মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় থাকা মিঠাপানির মাছকে রোগমুক্ত ও টেকসইভাবে সংরক্ষণের লক্ষ্যে ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। বলেন, মাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মড়ক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর গবেষণা পরিচালনার কোনো বিকল্প নেই।


প্রতিমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, মাছ চাষে অযৌক্তিক ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এমনকি গবাদিপশুর জন্য ব্যবহৃত কিছু অ্যান্টিবায়োটিকও মাছের খামারে প্রয়োগ করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ বিষয়ে মৎস্য অধিদফতরকে কঠোর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, রাষ্ট্রের প্রতিটি দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উচিত নিজ নিজ দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালন করা। জনগণের করের অর্থে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়, তাই জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই সবাইকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্রের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন। উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক এবং প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান। ওয়ার্কশপে প্রকল্পের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. মো: সিরাজুম মনির। এছাড়া মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকমণ্ডলী, বিএফআরআই এর বিজ্ঞানীবৃন্দ, গবেষক, মৎস্য বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার মো. মামুন হাসান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com