প্রাথমিকে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ শিক্ষকের কেউ বাদ পড়বেন না: শিক্ষামন্ত্রী
প্রকাশ : ০৩ মে ২০২৬, ২৩:১৩
প্রাথমিকে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ শিক্ষকের কেউ বাদ পড়বেন না: শিক্ষামন্ত্রী
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে নিয়োগের সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জনের কেউ বাদ পড়বে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


রবিবার (৩ মে) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের তৃতীয় অধিবেশন শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।


তিনি বলেন, শিক্ষক নিয়োগটা তড়িঘড়ি করে করা হয়েছে। অনেক প্রশ্ন রয়েছে৷ তবুও আমরা কাউকে বাদ দিচ্ছি না। সবাই যোগদানের সুযোগ পাবে। তবে শর্তসাপেক্ষে। এছাড়াও দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোর জন্য সমন্বিত নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।


কবে নাগাদ যোগদান হতে পারে—এমন প্রশ্নে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, খুব শিগগির। সচিবালয়ে গিয়ে ফাইল খুলে দেখে এটা বলা যাবে। কি কি প্রসিডিউর বাকি আছে, সেটা দেখতে হবে। প্রসিডিউর শেষ হলেই যোগদান করানো হবে।


সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের যোগদানে শর্ত কি কি হতে পারে—এমন প্রশ্নে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তাদের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের এ কাজে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাতে তারা যোগ্য কিনা, কোনো ঘাটতি আছে কিনা, সেটা দেখা হবে। ধরুন, তাদের যোগদানের পর পিটিআইতে ট্রেনিং নেবে। সেখানে যদি তারা ফেল করে তাহলে তো আর শিক্ষক হতে পারবে না। তাছাড়া সরকারি বিধিতে যেটা আছে যে, চাকরিতে যোগদানের পর তারা সাকসেসফুলি (সফলভাবে) যদি দুই বছর পার করতে পারে, তাহলে তাদের রাখব, পারমানেন্ট করব। সবকিছুই করা হবে দেশের শিক্ষার স্বার্থে। আমরা সবাই চাই যোগ্য শিক্ষকরা নিয়োগ পাক, আমাদের সন্তানদের পড়াক।


দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোর জন্য সমন্বিত নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে বলে মন্ত্রী বলেন, কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে জাতীয় মূলধারার সঙ্গে সমন্বয় করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং তাদের (ডিসি) কাছ থেকে ইতিবাচক প্রস্তাব পাওয়া গেছে।


শিক্ষামন্ত্রী জানান, কওমি শিক্ষার বিভিন্ন স্তরকে সাধারণ শিক্ষার সঙ্গে সমমান নির্ধারণের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। কোন স্তরটি মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক বা ডিগ্রি পর্যায়ের সমতুল্য হবে, তা নির্ধারণে আলোচনা চলছে। এছাড়াও কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা কাঠামোকে আরও যুগোপযোগী করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা হবে। একই সঙ্গে কারিগরি ও আধুনিক শিক্ষার কিছু উপাদান সংযোজনের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।


শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ভোগান্তি কমানোর কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী জানান, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ভোগান্তি কমাতে প্রতি উপজেলায় মাল্টিপারপাস পরীক্ষা হল নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষা খাতে বড় বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে এবং এক্ষেত্রে বাজেট কোনও বাধা নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।


শিক্ষামন্ত্রী জানান, দেশে শিগগিরই প্রায় ৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি শিক্ষকদের মানোন্নয়নে বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়নের ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা হেডমাস্টার নিয়োগ জটও দ্রুত সমাধান করা হবে। বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় জিপিএ-কেন্দ্রিক প্রবণতা থেকে বের হয়ে আসার জন্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলেও জানান মন্ত্রী।


ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আব্দুল খালেক, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com