
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ সরে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তার দাবি, ইউক্রেনের জন্য সময় নেই যুক্তরাষ্ট্রের। এতে ইউক্রেনের জন্য শান্তি আলোচনা ও অস্ত্র সরবরাহ— দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের মধ্যেই এই উদ্বেগ সামনে আনলেন তিনি।
সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড বলছে, ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনাকারীরা এখন ‘ইউক্রেনের জন্য সময় পাচ্ছেন না’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে বলেও তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। জার্মানির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জেডডিএফ-কে দেয়া সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার এখন ‘নিয়মিত ইরান নিয়ে আলোচনা করছেন’।
মূলত এই দুজনই রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার আলোচনায় ভূমিকা রাখছিলেন। একইসঙ্গে এই দুজনকে ‘বাস্তববাদী’ বলে উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, তারা ‘পুতিনের কাছ থেকে আরও মনোযোগ পাওয়ার চেষ্টা করছেন, যাতে যুদ্ধ শেষ করা যায়’। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘যদি যুক্তরাষ্ট্র পুতিনের ওপর চাপ না দেয় (…) এবং শুধু নরমভাবে রাশিয়ার সঙ্গে কথা বলে, তাহলে তারা আর ভয় পাবে না।’
ইউরোপে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে প্রাণঘাতী এই সংঘাত শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন আলোচনা গত মার্চের শেষ দিকে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে স্থবির হয়ে পড়েছে। ফেব্রুয়ারিতে জেনেভায় শেষবারের মতো রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের বৈঠক হয়েছিল, এরপর আর কোনও বৈঠক হয়নি।
জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সরবরাহ এখন ‘বড় সমস্যা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ চলতে থাকলে ইউক্রেনের জন্য অস্ত্র কমে যাবে। বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষার সরঞ্জামের ক্ষেত্রে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ’।
নরওয়ে সফরের সময় এক সংবাদ সম্মেলনে জেলেনস্কি জানান, এই সমস্যা বিশেষ করে পিএসি-৩ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র এবং পিএসি-২ ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষেত্রে প্রকট। তিনি বলেন, এসব মূলত ‘প্রায়োরিটাইজড ইউক্রেন রিকোয়ারমেন্টস লিস্ট (পিইউআরএল)’ কর্মসূচির মাধ্যমে কেনা হয়। এই কর্মসূচির মাধ্যমে ইউরোপীয় দেশগুলোর অর্থায়নে ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জাম পায়।
জেলেনস্কি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর একেবারে শুরুতেই আমরা বুঝেছিলাম যে আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। অস্ত্রের সরবরাহ ‘ধীরে আসছে’ এবং এটি ‘আমাদের জন্য খুবই কঠিন পরিস্থিতি’ তৈরি করেছে। নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্টোরের সঙ্গে যৌথ উপস্থিতিতে তিনি এই মন্তব্য করেন।
এ সময় দুই নেতা ‘প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারে একটি যৌথ ঘোষণা’ স্বাক্ষরের কথা জানান। নরওয়ে সরকার এক বিবৃতিতে জানায়, তারা ‘নরওয়ে ও ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা শিল্পের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা’ সহজতর করতে চায় এবং ‘ইউক্রেনীয় ড্রোন এখন নরওয়েতে তৈরি করা হবে।’
এর আগে মঙ্গলবার জেলেনস্কি একটি সরকারি প্রতিনিধিদল নিয়ে বার্লিন সফর করেন। সেখানে তিনি জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ এবং গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। আলোচনায় উঠে আসে পঞ্চম বছরে গড়ানো ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়ও। দুই দেশ প্রতিরক্ষা খাতকে কেন্দ্র করে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্বের ঘোষণাও দিয়েছে।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]