রাডারের চোখ ফাঁকি দিয়ে ভারত মহাসাগরে মার্কিন জাহাজে ইরানের হামলা
প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:০৫
রাডারের চোখ ফাঁকি দিয়ে ভারত মহাসাগরে মার্কিন জাহাজে ইরানের হামলা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

ভারত মহাসাগরের উন্মুক্ত জলসীমায় মার্কিন নৌবাহিনীর অন্যতম শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ 'আর্লি বার্ক' ক্লাস ডেসট্রয়ারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী এই হামলার দায় স্বীকার করে একে 'অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪' হিসেবে অভিহিত করেছে।


ইরানি সামরিক বাহিনী এই হামলার জন্য অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং কৌশলগতভাবে উন্নত পদ্ধতি অবলম্বন করেছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্রে বর্ণিত তথ্য অনুযায়ী, হামলাটি কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না, বরং এটি ছিল দীর্ঘ সময়ের গোয়েন্দা নজরদারির ফল।


ইরানি বাহিনী মার্কিন ডেসট্রয়ারটিকে দীর্ঘক্ষণ ট্র্যাক করার পর সেই মুহূর্তটি বেছে নেয় যখন জাহাজটি মাঝ সমুদ্রে অন্য একটি সাপ্লাই জাহাজের সাথে জ্বালানি সংগ্রহের কাজ করছিল। এই সময়ে যুদ্ধজাহাজগুলো একটি হোস পাইপ দিয়ে অন্য জাহাজের সাথে বাধা থাকে, যার ফলে তাদের নড়াচড়া করার ক্ষমতা শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। এই 'ম্যাক্সিমাম ভালনারেবিলিটি' বা সর্বোচ্চ দুর্বলতার সুযোগটিই নিয়েছে ইরান।


হামলাটি চালানো হয়েছে দুটি ভিন্ন প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বয়ে, যা আধুনিক নৌ-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করতে সক্ষম:


গদ-৩৮০ একটি হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক মিসাইল। এটি অত্যন্ত উচ্চতা থেকে শব্দের চেয়ে কয়েক গুণ দ্রুত গতিতে লক্ষ্যবস্তুর ওপর আঘাত হানে।


তালাইয়েহ এটি একটি লো-অল্টিচিউড ক্রুজ মিসাইল, যা সমুদ্রের পানির সমান্তরালে রাডারের চোখ ফাঁকি দিয়ে উড়ে গিয়ে জাহাজের ওয়াটার লাইনে আঘাত করতে সক্ষম।


এই দুটি ক্ষেপণাস্ত্র একসাথে আসার কারণে জাহাজের অত্যাধুনিক 'ইজিস' (Aegis) প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একই সাথে আকাশ এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ—দুই দিক সামলাতে গিয়ে হিমশিম খায় এবং ব্যর্থ হয়।


প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন ডেসট্রয়ারের পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহকারী জাহাজটিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই সাপ্লাই জাহাজে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল জ্বালানি ছিল, যা হামলার পর বিশাল অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি করে। প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের এই ডেসট্রয়ারে হামলা বিশ্বজুড়ে নৌ-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।


এই হামলার বিষয়ে পেন্টাগন এখন পর্যন্ত সরাসরি কোনো নিশ্চয়তা বা অস্বীকার করেনি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যখন কোনো হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি হয় বা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যর্থ হয়, তখন ওয়াশিংটন সাধারণত 'কৌশলগত নিরবতা' পালন করে। এর আগে আব্রাহাম লিংকন ক্যারিয়ার গ্রুপে হামলার সময়ও একই ধরনের ধীরগতি সম্পন্ন প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গিয়েছিল।


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com